somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিকশাওয়ালা: ওরাও মানুষ

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে আমরা যাত্রীরা রিকশাওয়ালাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করে থাকি। যা কখনও সহ্যে র সীমা লঙ্ঘন করে । গতকাল এমন একটি দৃশ্য দেখে এবং ঘটনার বর্ননায় না যেয়ে - বিবেকের তাড়নায় দুটি কথা বলতে চাচ্ছি।

গরিব মানুষ জীবন বাঁচানোর তাগিদে রিকশার প্যাডেলে পা রাখতে বাধ্য হয়। গ্রাম, গঞ্জ, শহর, বন্দর সর্বত্র রিকশা চোখে পড়ে। দু'পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে রিকশাওয়ালা আমাদের গন্তব্যে পেঁৗছে দেয়। বিনিময়ে যে টাকা পায় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে ওদের পেশা বদলেরও কোনো সহজ সাধারণ পথ নেই।

কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা একজন রিকশাওয়ালাকে ঘুরিয়ে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে 'এই একটু আসছি' বলে ভাড়া না দিয়ে কেটে পড়ে। অনেক ভদ্রলোককে দেখেছি গরিব অসহায় রিকশাওয়ালার গায়ে হাত তুলতে। মাঝে মাঝে চার-পাঁচ জন তরতাজা তরুণ যারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ছাত্র/ছাত্রী এক রিকশায় চড়ে বসে। উঁচু নিচু সোজা বা ঢালু পথ যাই-ই হোক না কেন একজন রিকশাওয়ালার পক্ষে চারজন শক্ত সামর্থ্যবান লোককে বহন করা খুবই কষ্টকর।

আমরা পরের দুঃখে কাতর না হলেও অধিক সুখে দিন দিন পাথর হয়ে যাচ্ছি! তাই রিকশাওয়ালাদের প্রতি দিন দিন অমানবিক আচরণও বাড়ছে।

একজন গরিব ও অজ্ঞ রিকশাঅলা ভুল করতে পারে, খারাপ ব্যবহার করতে পারে। তার পাল্টা আচরণ শিক্ষিত, ভদ্র, সভ্য লোকের তো মানায় না।

দরিদ্র ও নিরক্ষর একজন রিকশাওয়ালা ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে, সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে সবসময় চিন্তাগ্রস্ত থাকে। বাস করে শহরের নোংরা ও সুযোগ-সুবিধাহীন বস্তিতে। সাত দিন জ্বরে পড়ে থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়। ভেবে দেখুন আপনার আমার অবস্থা এরকম হলে কী করতে হতো? এসব বিষয় মাথায় আনলে আমরা কি পারি ওদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে? অমানবিক হতে? ওরাওতো মানুষ ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×