গরিব মানুষ জীবন বাঁচানোর তাগিদে রিকশার প্যাডেলে পা রাখতে বাধ্য হয়। গ্রাম, গঞ্জ, শহর, বন্দর সর্বত্র রিকশা চোখে পড়ে। দু'পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে রিকশাওয়ালা আমাদের গন্তব্যে পেঁৗছে দেয়। বিনিময়ে যে টাকা পায় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে ওদের পেশা বদলেরও কোনো সহজ সাধারণ পথ নেই।
কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা একজন রিকশাওয়ালাকে ঘুরিয়ে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে 'এই একটু আসছি' বলে ভাড়া না দিয়ে কেটে পড়ে। অনেক ভদ্রলোককে দেখেছি গরিব অসহায় রিকশাওয়ালার গায়ে হাত তুলতে। মাঝে মাঝে চার-পাঁচ জন তরতাজা তরুণ যারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ছাত্র/ছাত্রী এক রিকশায় চড়ে বসে। উঁচু নিচু সোজা বা ঢালু পথ যাই-ই হোক না কেন একজন রিকশাওয়ালার পক্ষে চারজন শক্ত সামর্থ্যবান লোককে বহন করা খুবই কষ্টকর।
আমরা পরের দুঃখে কাতর না হলেও অধিক সুখে দিন দিন পাথর হয়ে যাচ্ছি! তাই রিকশাওয়ালাদের প্রতি দিন দিন অমানবিক আচরণও বাড়ছে।
একজন গরিব ও অজ্ঞ রিকশাঅলা ভুল করতে পারে, খারাপ ব্যবহার করতে পারে। তার পাল্টা আচরণ শিক্ষিত, ভদ্র, সভ্য লোকের তো মানায় না।
দরিদ্র ও নিরক্ষর একজন রিকশাওয়ালা ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে, সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে সবসময় চিন্তাগ্রস্ত থাকে। বাস করে শহরের নোংরা ও সুযোগ-সুবিধাহীন বস্তিতে। সাত দিন জ্বরে পড়ে থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়। ভেবে দেখুন আপনার আমার অবস্থা এরকম হলে কী করতে হতো? এসব বিষয় মাথায় আনলে আমরা কি পারি ওদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে? অমানবিক হতে? ওরাওতো মানুষ ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




