পুরো বাজার ঘুরে ফিরে দেখার পর রাত দু'টার দিকে আলমডাঙ্গার জুলমতের গরুটিই পছন্দ হলো আমাদের।
শুরু হলো দামা-দামি। তিনি যে দাম হাকলেন তার অর্ধেক দাম বললাম আমরা।
জুলমত হাসলেন। তিনি একটা খড়ের আঁটি মাথার নিচে দিয়ে গরুর পায়ের কাছে গুটিসুট মেরে শুয়ে পড়লেন। আমরা হেঁটে অন্যদিকে গেলাম।
মিনিট ত্রিশেক বাদে আবার জুলমতের কাছে এলাম। জুলমত উঠে গরুর গায়ে হাত বুলাতে লাগলেন। আমরা দু'হাজর বাড়ালাম। জুলমত আবার আগের মতো হাসলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন।
আমরা আবার হাঁটতে লাগলাম। ঘন্টা খানেক পর আবার ফিরে এলাম। আবার দাম বললাম। আবার জুলমত শুয়ে পড়লেন।
প্রায় বার সাতেক আসা-যাওয়া এবং দামা-দামীর পর সকালে সূর্যের আলো ফুটে ওঠার পর জুলমত এক পর্যায়ে গরু দিতে রাজি হলেন।
গরু রশি ছেড়ে দেবার সময় কেঁদে ফেললেন জুলমত।
"গরুটাকে ছেলে পুলের মতো করে পালেছি মামা।"
জুলমতের কান্না দেখে আামাদের চোখের পাতাও ভারী হয়ে এলো।
বললাম" দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কোরবানি কবুল করেন।"
গরুর রশি ধরে আমরা হাঁটতে লাগলাম। পিছন ফিরে দেখি, জুলমত তাকিয়ে আছেন। তার থুতনি বেয়ে জল গাড়িয়ে পড়ছে। সকালের কাঁচা রোদের আলোয় তা চিক চিক করছে.....।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম আমি। কেন যেন মনে হলো, আমাদের কোরবানির চেয়ে জুলমতের কোরবানির মূল্যমান অনেক অনেক গুন বেশি.....
সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা.......দেশে-প্রবাসে সমস্ত ধর্ম-বর্ণের মানুষকে জানাই ঈদ মুবারক......।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



