somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হয়তো তার মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী....

২১ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। রাত বারোটার দিকে এসে কিছু সময়ের জন্য থেমে গিয়েছিল। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়া। সারাদিনের খাটা খাটুনিতে শরীরটা বেশ ক্লান্ত বোধ হচ্ছিল মোহম্মদ আলীর। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কারওয়ানবাজারে সড়কদ্বীপের পাশে নিশ্চিন্তে নিজের ভ্যানের উপর একটা পলিথিন মুড়ো দিয়ে শুয়ে পড়লেন তিনি।

শরীরটা আলগোস্তে ছেড়ে দিল তার। স্বল্প সময়ের ভেতরই নাক-ডাকা গভীর ঘুমে হারিয়ে গেলেন।

পাশ দিয়ে বড় বড় কভার্ডভ্যান, লরি, প্রাইভেটকার শাঁ শাঁ বেগে ছুটে চলছে। তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তার। শরীর জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি আর দুচোখ জুড়ে ভারী ঘুম আর ঘুম।

সড়কদ্বীপের উপর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাঘের ভাস্কর্যটির পাশে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমের রাজ্যে বসবাস করতে লাগলেন মোহাম্মদ আলী। হারিয়ে গেলেন স্বপ্নের রাজ্যে......। ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখতে লাগলেন, তার আট বছরের মেয়ে কুলসুম সামনে দুহাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছে- বাবা বাবা কবে বাড়িত আইবা তুমি? তোমারে দেখবার মন চায় বাবা। বাড়িত আসো বাবা বাড়িত আসো....। দশ বছরের ছেলে সোহাগ বলছে- বাবা আমার লাইগা সুন্দর দেইখা একটা স্কুলব্যাগ আনবা এইবার। গতবার তুমি কইছিলা, এইবার আমার লাইগা স্কুলব্যাগ আনবা।...... এক বছরের কোলের মেয়েটি দু'হাত ছুড়ে চিৎকার করে কাঁদছে তার কোলে আসবে বলে।

স্বপ্নের ভেতরই এই সব কিছু দেখছেন তিনি। ছেলের জন্য একটা সুন্দর স্কুল ব্যাগ কিনেছেন। মেয়ের জন্য মাথার একজোড়া প্রজাপতি ক্লিপ কিনেছেন। রাবার ব্যান্ড কিনেছেন একজোড়া। আর কোলের মেয়েটার জন্য লাল টুকটুকে একটা নিমা কিনেছেন।

তারপর... তারপর সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। ঘাটে এসে এখনো লঞ্চ ভিড়ে নি। একটু পরই আসবে। ঐ তো আসছে। হুইসাল বাজছে। হ্যা হ্যা ঐ তো আসছে। পোঁওওওওও....... লঞ্চের হুইসাল ভেসে আসছে স্পষ্ট।

এমন সময় কে যেন একজন তাকে ধাক্কা দিল সজোরে। ধাক্কাটা তিনি সামলাতে পারলেন না।...

রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাঘের ভাস্কর্যটি মোহাম্মদ আলীর উপর ভেঙ্গে পড়লো। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা তার সজীব দেহখানা মুহূর্তেই নিথর থেতলে যাওয়া প্রাণহীন স্বপ্নহীন দেহতে রূপান্তরিত হয়ে গেল।

স্বপ্নের ভেতর থাকতে থাকতেই চির স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে গেলেন একজন বাবা। একজন স্বামী। একজন সন্তান।

হয়তো ভুল করে একটি বারের জন্যও মোহাম্মদ আলীর মনে আসে নি, এই প্রাণহীন ভাস্কর্যটিই তার প্রাণ ঘাতকে রূপ নিতে পারে কোন এক সময়! একটি বারের জন্যও হয়তো মনে আসে নি তার, আজ রাতের ঘুমই তার জীবনের শেষ ঘুম। এই নিদ্রাই তার শেষ নিদ্রা...।

গরীব হয়ে জন্মানোটা একটা অভিশাপই বটে। প্রকৃতিও চায় না দিনের ক্লান্ত দেহ নিয়ে ঠিকানাহীন কোন গরীব ভ্যানচালক একটু শান্তিতে ঘুমাক। প্রকৃতির বিচারের রায়ও চিরকাল এদের বিরুদ্ধেই যায়।

আচ্ছা, কেউ কি একটু ক্ষতিয়ে দেখবেন কী কারণে ভেংগে পড়লো এই ভাস্কর্যটি? এটি কি শুধুই নিচক একটি দুর্ঘটনা? না কি দুর্বল অবকাঠােমা জনিত নির্মাণ ত্রুটির কারণেই এভাবে এত দ্রুত এটি ভেঙে পড়লো, এবং প্রাণ নিল একজন নিরিহ স্বপ্নের ঘোরে থাকা মানুষের?

ভাস্কর্যটির স্থায়িত্বের জন্য পায়ে যে পরিমাণ রড-সিমেন্ট দেয়ার দরকার ছিল, সে পরিমান রড কিংবা সিমেন্ট কি দেয়া হয়ে ছিল?

হয়তো হয়ে ছিল। হয়তো দুর্ভাগ্যই ছিল ভ্যানচালক মোহাম্মদ আলীর। হয়তো তার মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী....


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×