somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আপনারা নাই, বুকটা কেমন খালি খালি লাগছে। কোন কিছুই ভালো লাগছে না"

৩০ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের তিন হাজার বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাটটিতে ঘন্টাখানেক ধরে পায়চরি করলাম। আজ তিন দিন হলো পুরো ফ্ল্যাটটি এক প্রকার ফাঁকাই পড়ে আছে। আমি, আমার স্ত্রী, ছেলে ও একজন বুয়া- এ চারজন মানুষ পুরো ফ্ল্যাট জুড়ে বসবাস করছি। বাবা মা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। অনেক বছর পর ছোট বোনও তাদের সাথে গেছে। পুরো ফ্ল্যাটজুড়ে রাজ্যের শূন্যতা বিরাজ করছে। যে শূন্যতা এর আগে কখনো এতটা উপলব্ধী করি নি আমি।

সব কিছুই আছে, তারপরও কি যেন নেই।... রাত যতই হতো মা ভাত বেড়ে সামনে এনে দিতেন। হাঁটা-হাঁটি করলে ওঠে এসে জিজ্ঞেস করতেন, "কিরে কিছু খাবি? ক্ষুধা লাগছে নাকি?"

"নাহ, এমনিতেই একটু হাঁটছি। আপনি ঘুমান"

আজ তিন রাত আমি হাঁটা-হাঁটি করি। এ রুম ওরুম ঘুরে শেষে বাবা-মা'র রুমের দিকে যাই। বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে। অন্ধকারে ঢেকে থাকা রুমটিতে কিছু সময়ের জন্য একটু আলো জ্বালাই। তারপর খাটের উপর বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। বাবা-মা'র ব্যবহৃত কাঁথা-বালিশ ও বিছানার চাদর হতে তাদের গায়ের সুমিষ্ট ঘ্রাণ এসে আমার নাকে লাগে। ড্রেসিং টেবিলের উপর বাবার সুরমাদানিটার দিকে একটু চেয়ে দেখি। মায়ের চুল শুকানো গামছাটা দিয়ে নাক-মুখটা একটু মুছে নেই। তাদের বিছানায় শুয়ে খানিক গড়াগড়ি খাই।.....

বাবাও আমার মতো রাতে হাঁটেন। হাঁটা শেষে জগ থেকে পানি ঢেলে ঢক ঢক করে পানি খান...। শব্দ করে জগটা টেবিলের উপর রাখেন।

আমি জগ থেকে ঢেলে ঢক ঢক করে পানি খাবার জন্য আলতো পায়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। হঠাৎ বাবার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, তিনি আমায় ডাকছেন।

"কি রে পানি খাবি?"

"জ্বি"

"বৌ মা, নাতি কই?"

"জ্বি ঘুমাচ্ছে।"

"তুই জেগে আছিস কেন?"

"আপনারা নাই, বুকটা কেমন খালি খালি লাগছে। কোন কিছুই ভালো লাগছে না।"

এমন সময় মায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। মা আকুলভরা কণ্ঠে বলছেন, "কি রে কিছু খাবি? ক্ষুধা লাগছে? একটু সেমাই রান্না করে দেই? নুডুলস খাবি? একটা আম কেটে দেই? একটা ডিম সিদ্ধ করে দেই? নাশপাতি খাবি? তোর বাবা আনছে আজ। একদম তরতাজা। নাকি ভাত খাবি? ভাত বেড়ে দেই?"

আমি কেঁদে ফেলালাম। অস্ফুট স্বরে বললাম, "মা, পানি খাবো। আমার গলাটা শুকিয়ে গেছে। বাবার মতো ঢক ঢক করে পানি খাবো- মা।"

"যাহ পানি খেয়ে গিয়ে শুয়ে থাক। আর হাঁট-হাঁটি করিস না। রাত অনেক হইছে।"

আমার চোখ দুটো ভিজে এলো। ডান হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের জল মুছে নিলাম। হাড় কাঁপানো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার হাঁটতে লাগলাম......।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:১১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও কেউ নেই!

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩২

ঢাকা সিটিতে সিসিটিভি কি শুধু জরিমানা আদায়ের জন্য?

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন



রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ছবি ধারণ করে জরিমানা আদায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×