গুলশানে প্রবেশের চেক পোস্ট হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য আমি প্রায়ই এ পথগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কেন না চেক পোস্ট পুলিশ একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে।
কখনো কখনো তারা কারো কারো প্যান্ট খুলে চেক করতেও ইতস্ত করে না।
একবার এক অফিসার আমার প্যান্টের উপর দিয়ে যথা সম্ভব কচলানো ও মন্থন-পর্ব শেষ করে লোকজনের সামনেই বললেন, নেন এবার প্যান্টটা একটু খুলেন।
আমি কাচুমাচু করতে লাগলাম। এই বেটা কয় কি! খোলা রাস্তায় প্যান্ট খুলতে কয়!
"কি ব্যাপার কথা কানে যায় না?"
"জ্বি সত্যি সত্যি বলছেন?"
"আপনার কি মনে হয় আমি মশকরা করছি?"
"জ্বি সবাই হা করে তাকায় আছে। চলেন ঐ মেহগুনি গাছটার আড়ালে যাই।"
"ফাইজলামি করবেন না। তাড়াতাড়ি করেন।"
"ইয়ে আমার নিচে কিছু নাই। আই মিন, সকালে তাড়াহুড়ো করে প্যান্ট পড়েছি। জাঙ্গিয়া পড়তে ভুলে গেছি। তারপরও যদি চান, খুলি দিচ্ছি।" বলে বেল্ট খুলতে লাগলাম।
"আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে। খুলতে হবে না। আসেন কাছে আসেন।"
কাছে যাবার পর মিনিট পাঁচেক দুই হাত দিয়ে প্যান্টের উপর দিয়ে সামনে পিছনে ইচ্ছে মতো কচলা-কচলি করলেন।
সেই গুলশান এলাকায় ২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে ১১৭ নম্বর সড়কে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী।
২০১৩ সালের ২৬ জুন রাতে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে গুলিতে নিহত হন যুবলীগ নেতা মিল্কি।
সর্ব শেষ গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কে গুলিতে নিহত হলেন ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার।
গুলশানের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় একের পর এক এরূপ হত্যাকাণ্ড কিভাবে ঘটছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।
চেক পোস্ট কর্মকর্তাদের বলবো, " ভাইসাব, কচলাতে আর মন্থন করতে কি শুধু আমাদেরই পারেন?"
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




