চট্টগ্রামের মফস্বল এলাকার দারুণ অভাবী ঘরে একদিন জন্ম হয়েছিল নুরুল আমিনের। বাবা-মা'র ইচ্ছে ছিল সে কোন একটা কাজ করুক। অভাবের সংসারে খরচের জন্য দু'চারটা পয়সা কামাই করুক।
একদিন একটি পান দোকানে কাজ নেয় নুরুল আমিন। পান দোকানে কাজের ফাঁকে ফাঁকেই সুযোগ পেলে খানিকটা পড়াশুনা করতো সে।
দোকানের মালিকের হাতে এর জন্য প্রায়ই মার খেতে হতো তাকে।
একদিন সেই পান দোকান থেকে পালিয়ে যায় নুরুল আমিন। চট্টগ্রাম শহরের একটি হোটেলে বয় হিসেবে চাকরি নেয়। সেখানে প্রায় ৫ বছরের মতো চাকরি করে।
যার ফলে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া হয় নি তার। এ তিনটি ক্লাস বাদ দিয়েই এক সময় শহরের একটি অখ্যাত স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয় সে।
সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.২৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে।
কলেজে এসে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়। সেখান থেকে ৪.৮৩ পেয়ে এইচ এস সি পাশ করে নুরুল আমিন। ঢাবি পড়ুয়া পাশের গ্রামের এক বড় ভাই'র সাথে আলাপ কালে এক সময় নিজের মনোবাসনা ব্যক্ত করে সে। বুকের গহীনে লালন করা স্বপ্নের কথা জানায় তাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়তে চায় নুরুল আমিন। ঐ বড় ভাই তাকে বিভিন্ন পরামর্শসহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
যার ফলে আজকের ঢাবি "খ" ইউনিট ভর্তিপরীক্ষার ফলাফলে ২৩১ তম মেধাস্থানটি অর্জন করতে সক্ষম হয় নুরুল আমিন।
আমরা যারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি। ভেঙে পড়ি। নুরুল আমিন তাদের জন্য অনেক বড় একটি অনুপ্রেরণার নাম।
সারা দিনের অনেক অনেক মনখারাপ করা নেতিবাচক খবরের মাঝেও কিছু খবর থাকে যা নিমিষেই মন ভালো করে দেয়।
প্রচণ্ড ইচ্ছা-শক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে কোন কিছুই কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না।
এভাবেই জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়। সাব্বাশ নুরুল আমিন। সাব্বাশ ভাই আমার। দোয়া করি একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যিকারের মানুষ হয়ে বের হও তুমি........ (তথ্যসূত্র : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গ্রুপ)


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


