শিরোনাম দেয়া হলো ''আজই কি শেষ, মাশরাফি?''
তারপর প্রশ্ন, মাশরাফি, টি-টোয়েন্টির দিন কি তবে ফুরোল?
সিনিয়র ক্রিড়া সাংবাদিক উৎপল শুভ্র'র লেখা আমার বরাবরই ভালো লাগে। তিনি একজন বড় মাপেরে ক্রিড়া লেখক- এ কথা স্বীকার করতেই হবে। অন্য কোন খেলার খবর না পড়লেও তাঁর লেখা আমি অতি মনযোগ দিয়ে পড়ে থাকি।
কিন্তু মাশরাফির মতো অধিনায়ককে এ ধরণের প্রশ্ন করা কতোটা সমীচীন? আর প্রথম আলো কী করে এরকম একটি শিরোনাম করে?
মাশরাফি বিদায় নেবেন কি নেবেন না, সেটা তাঁর হাতেই ছেড়ে দেয়া হোক। একটা সময় তিনিই সবাইকে ডেকে জানাবেন, ''আমি যাচ্ছি.....'' আর সেদিন আমরা তাঁর কোটি ভক্তগণ চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানাবো।
কিন্তু প্রথম আলো চায়টা কী? কী তাঁদের উদ্দেশ্য? আগের সাক্ষাৎকারটিতেও খোঁচা মারা প্রশ্ন ছিল। আজকের সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেই ফেললেন, ''এটা নিয়ে বাসায় গিয়ে ভাবব।'' প্রশ্নের জবাবেই বুঝা যায় তিনি কতোটা বিরক্ত হয়েছেন।
এখনই অবসর অবসর করে তাঁর মাথা খাওয়ার কি দরকার? বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার মাঝখানে এসব প্রশ্ন তোলারই বা কি উদ্দেশ্য?
কোন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে প্রথম আলো ও উৎপল শুভ্র গং??
এক দিক দিয়ে আইসিসি ও ইন্ডিয়া যোগসাজেশ করে খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য একের পর এক কাজ করে যাচ্ছে। প্রথম আলোও কি তাই করে যাচ্ছে, কিংবা চেষ্টা করছে?
উৎপল শুভ্র'র বারবার জিজ্ঞাসা করা মানে তিনি চাইছেন মাশরাফি যেন তাড়াতাড়ি রিটায়ার করেন। আপনারা সাংবাদিকরা কি জোর করেই মাশরাফিকে অবসর নেওয়াতে চাচ্ছেন?
....মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর দাগ রেখে গেছেন। 'ধরে দেবানি' বলে যে তরুন প্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন, সেই মাশরাফি এখন পরিণত যুবক হয়ে উজ্জ্বলতার সাথে শেষ করতে যাচ্ছেন তাঁর ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক বর্ণিল অধ্যায়। মাশরাফির জয় হক। তাঁর বিদায় হোক মধুময়।
আমরা চাই মাশরাফি যতদিন ইচ্ছে অধিনায়ক থাকুক। তাঁর নেতৃত্বে যদি একটি ম্যাচও না জেতে বাংলাদেশ। তবুও থাকুক মাশরাফি।
কথাটা যদি অতি আবেগী হয়ে থাকে হোক। এতটুকু আবেগ আমাদের কাছ থেকে তো পেতেই পারেন তিনি, না-কি?


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

