somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাবলু নামাঃ দেশি ও বিদেশি কাস্টমারের মধ্যে কিছু পার্থক্য

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত একবছর ধরে দোকানদারিতে ভাইব্রাদারকে সাহায্য করছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও দোকানদারি করা সম্ভব, এর আগে আমাকে বললে আমি হেসেই উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু মানুষ প্রয়োজনে মাটিও খায়।

যেহেতু আমি আমার ক্যারিয়ার লাইন শিফট করছি সেহেতু এম বি এর পাশাপাশি হালকা পাতলা অভিজ্ঞতার দরকার আছে। তাহলে আমি সিভি তে এইটাকে কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখাতে পারব।

তো দাকানদারিতে ঢোকার সময় ভাইব্রাদার আমাকে বলেছিল যে তুমি তোমার যত বিদ্যা আছে আমার এখানে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবা কোন অসুবিধা নাই, শুধু একবার আমার সাথে আলোচনা কইর, তাতেই হবে। আমিও খুশি মনে কাজ করা শুরু করলাম।

প্রথম যে সমস্যায় পড়েছিলাম সেটা হল দোকানের কর্মচারি। এরা আসলে আমাকে ঐভাবে মেনে নিতে পারে নি। চরম ভাবে অসহযোগীতা ও আমার নামে কুৎসা রটানো ছিল এদের প্রধান কাজ। কিন্তু এদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে করতে এরাই হয়ে গেল আমার ভালো ধরনের সহযোগী। মোবাইল চালাতে না পারলে আমার কাছ থেকে দেখে নিত। তাদের গ্রামের বাড়ির জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে আলোচনা করত। এমন কি বাদাম কিনে আমাকে খাওয়াইছে।

আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট একটা ছেলে আছে যার কাজ হল প্যাকেজিং করা। মাঝে মাঝে চা বানিয়ে দিত। একেও আমি ভাই ও আপনি বলে সম্বোধন করতাম। দোকানের অন্যকর্মচারির হাতে হেনস্তা হয়ে আমার কাছে নালিশ করতে আসত। আমিও তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করতাম।

তবে দোকানের কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন দেশি ও বাংলাদেশে থাকা বিদেশি কাস্টমার দের বাসায় যেয়ে কাজ বুঝে নিয়ে ও তাদেরকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

দেশিয় কাস্টমার ও বিদেশিদের মধ্যে কিছু পার্থক্য চোখে পড়েছে।

যেমনঃ
আমাদের দেশিয় কাস্টমার দের (বেশিরভাগ) আচরণ থাকে খুব ই কর্কশ। মানে একধরনের ভাবের মধ্যে তারা থাকেন। মনে হয় রেগেই আছেন সব সময়
অন্যদিকে বিদেশি কাস্টমার দের ব্যবহার দেখলেই মনে হয় তাদের জন্য সাধ্যের আরেকটু বেশি খাটি। বেশিরভাগ এতই অমায়িক যে বলার মত না। এবং খুব ই হাসিখুশির সাথেই কথা বলেছে তারা।

দেশিয় কাস্টমারের বাসায় ৯৯ শতাংশ সময়ে কেউ বসতেও দেয় নি।
বিদেশিদের বেশিরভাগ ই বসতে দিয়ে চা-কফির ব্যবস্থাও করেছিলেন। এবং এমন একজন ছিলেন যে তিনি একটা কাঠের কাজ নিজে করেছেন। সেটা আমাদের কাছে কেমন লাগছে সেটাও জানতে চেয়েছিলেন।

এমনও ছিলেন যে আমরা যখন কাস্টমারের বাসার বাহিরে ছিলাম তখন ফোন করে বললেন জুতা যাতে খুলে ভিতরে ঢুকি। মানে জুতা খুলেই তো ঢুকব, এটাইত নিয়ম। নাকি আমরা অ্যামাজন থেকে এসেছি?
বিদেশিদের কারোর বাসায় জুতা খুলতে হয় নাই। বরং জুতা খুললেই ওরা অবাক হত। মুভিতে আমরা যেমন দেখি না, সারাদিন কাজ শেষে জুতা পরেই বিছানায় গড়াগড়ি দেয়। বিষয়টা এখানে অনেকটা তেমনি।

দেশিয় কাস্টমারদের ফ্লাট গুলোতে এত বেশি ফার্নিচার, শো-পিস, মুর্তি আর গেজেট আছে যে দেখলেই মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যায়। দরজা জানালা বেশিরভাগ সময় থাকে বন্ধ থাকে ও দিনের বেলায় লাইট জ্বালানো থাকে।
বিদেশি গুলার ফ্লাট বড়, আলো সবসময় ঢোকে। খুব ই লিমিটেড ধরনের গেজেট, শো-পিস নিয়ে থাকে। বলতে গেলে নিঃশ্বাস ফেলার একটা জায়গা আছে।

দেশিগুলারে সালাম দিলে বেশিরভাগ সময় উত্তর আসত না।
বিদেশিগুলার সাথে দেখা হলেই ওরাই আগে "গুড মর্নিং/ইভনিং","হাও আর ইউ?" "হ্যাভ এ নাইস ডে" বলত।


পরিশেষে বলতে চাই, যে সবাই যে একরকম এটা কিন্তু নয়। আমি যাদের সাথে দেখা করেছি, তাদের বাহিরে অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে। আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম।

দোকানের অনেক মজার ঘটনা আছে, সেগুলো শেয়ার করব সামনে।

সবাই ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×