somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টির সকালের চিন্তা

০৫ ই মার্চ, ২০২২ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি বৃষ্টির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। চোখ না খুলেই আমি বুঝতে পারছি আজ শুক্রবার। কমফোর্টার টার ভিতরে আরো ঢুকে গেলাম। উষ্ণতার আরাম আমাকে ধরে ফেলেছে। চোখ খুলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আরেকটু ঘুমাই। আরেকটু।

শীত শেষ, তবে এখনো আবেশ আছে। কয়েকদিন আগে ফাল্গুন হল। ফাল্গুন উপলক্ষ্যে কেনা ফুল আমার টেবিলে আছে। শুকিয়েছে একটু। একটু খেয়াল করলেই হালকা সুবাশ পাওয়া যায়।

আচ্ছা!!! ফুলের পাশে যেন কি আছে? ঠিক মনে করতে পারতেছি না। হুম দুইটা স্কেচবুক। ছবি আঁকতে পছন্দ করতাম একসময়। চারকোল দিয়ে আঁকি বুকি করতাম। একসময় হঠাৎ করে সব কিছু বাদ দিয়ে দিলাম। কি যেন একটা অভাব বোধ করতেছিলাম জীবনে। এসব কিসের জন্য করতেছি, কার জন্য করতেছি?

সাতাশ বছরের জীবনে কখনো প্রেম আসেনি। একা থাকতে ভালোই লাগে। তারপরেও ইচ্ছে হয় কেউ আমার পাশে থাকুক, একটু সঙ্গ দিক। কাউকে আমার মনের কথা গুলো খুলে বলি।

ধুর!!! শুধু শুধু চিন্তা করে সময় কাটাচ্ছি এমন একটা জিনিস নিয়ে। যেটা আমার জন্য না।

কি চিন্তা করা যায়? আচ্ছা!! সিলেট ঘুরে আসলে কেমন হয়? নাজিমগড়ে ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাহাড় এবং মেঘ দেখব? লালাখালে কায়াকিং করব? করতে পারলে ভালোই হবে। মন টা রিফ্রেশ হবে।

আচ্ছা, বৃষ্টি কি থেমেছে? না, এখনো থামে নি।

মাঝে মাঝে মনে হয়, কি হইত যদি এই যাদুর শহরে না আসতাম? আমার মফস্বল শহরে থেকে জীবন টা পার করে দিতাম। একটা বই এর দোকান থাকত। সন্ধ্যায় স্কুল-কলেজের শিক্ষক দের সাথে আড্ডা হত। রাত ৯ টায় দোকান বন্ধ করে বাসায় যেতাম। রাত্রে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। সহজ, সুন্দর জীবন।

কি হবে এত এত টার্গেট মিট করে? এত টাকা দিয়ে আমি কি করব? আচ্ছা, আমি যদি মফস্বল শহরে থাকতাম এত টাকা কি দরকার হত? ১৫ হাজার টাকায় কি চলতে পারতাম না? এই দশ রকম কার্ড এর হিসাব, বিল এর হিসাব, প্রফিট-লস নিয়ে একটা মানুষ কতদিন সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে পারে?

ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। সন্ধ্যায় দাদা দাদির সাথে আব্বা আম্মা গল্প করছে আমি হয়ত পাশে বসে ছবি আঁকছি। কি দিন ছিল তখন। সহজ সুন্দর। কারোর কোন দুশ্চিন্তা নাই। হয়ত বিটিভিতে খবর চলছে। একটু পর রাতের খাবার খাওয়া হবে। তারপর ঘুম। পরদিন আবার নতুন দিন। আহা! দিন গুলো!!

আচ্ছা তখন কি আমি চিন্তা করতাম, যে বড় হয়ে বড় চাকরি করব? মনে পড়ে না। আসলে আমার কোন স্বপ্ন ছিল না যে বড় হয়ে এটা হব, সেটা হব। পৃথিবীতে সবচেয়ে আরামের কাজ কি? যেটার জন্য কোন কষ্টই করা লাগবে না, কিন্তু যথেষ্ট টাকা পয়সা আসবে? খোজ নিতে হবে।

আচ্ছা মানুষ না হয়ে যদি হরিণ হইতাম? বন-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ঘাস খেতাম, বাঘের দৌড়ানি খাইতাম। ঘাস আর বাঘের দৌড়ানি ছাড়া আর কোন চিন্তা নাই। সহজ জীবন। নাকি, ওরাও চিন্তা করে, "আমাদের কে বড় হতে হবে, হরিণের মত হরিণ হতে হবে"। মনে হয় না।

আচ্ছা বৃষ্টি কি থামল?

থামছে মনে হয়, খিচুড়ি খেতে হবে মুরগি দিয়ে। অর্ডার দিব, নাকি যেয়ে খাব?

নাহ! আরেকটু ঘুমাই। বৃষ্টির শব্দ শুনতে পাচ্ছি কমফোর্টারের মধ্য থেকে। চোখ না খুলেও জানি আজ শুক্রবার। ছুটির দিন। বেশি করে ঘুমানোর দিন।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০২২ রাত ১২:৪৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×