somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেঞ্জারাস ফোর্স

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশি এথিক্যাল স্প্যামিং টিমগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম ডেঞ্জারাস ফোর্স। এই স্প্যমার গ্রুপটি ২০১২ সালের ২০ জুন তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশে যে কয়টি স্বল্প পরিমাণ স্প্যামিং এবং হ্যাকিং টিম ছিল,ডেঞ্জারাস ফোর্স তাদের মধ্যে অন্যতম।

প্রতিষ্ঠাকালীন পরবর্তী সময়ে ফরেইন স্প্যামার দের দ্বারা বাংলাদেশ ব্যাপক খারাপ ভাবে আক্রমণের শিকার হয়। তখন বাংলাদেশের কিছু সূর্য সন্তান এমন টিমের খোঁজ করতে থাকেন, যারা সাইবার ক্রাইম ও সাইবার অ্যাটাকের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবে। এক পর্যায় একই মতবাদে বিশ্বাসী কিছু মেধাবী মুখ নিজেদের প্রচেষ্টায় একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে, নাম রাখে "Dangerous Force"।

ডেঞ্জারাস ফোর্স গ্রুপটি দক্ষ আইটি এক্সপার্টদের সমন্বয়ে গঠিত সমৃদ্ধ একটি গ্রুপ। এর সদস্যরা বেশিরভাগ সময়েই কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব, সে বিষয় নিয়ে রিসার্চে ব্যস্ত থাকেন ।

ডেঞ্জারাস ফোর্সের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের সিনিয়র অ্যাডমিনরা জানান বর্তমান সময়ে ডেঞ্জারাস ফোর্স সাইবার স্পেসে নিজেদের দেশের সেলিব্রিটিরা,সাধারণ ব্যাবহারকারী, এবং অন্য সব ক্ষেত্রে নিজেদের দেশের জনগণকে সাইবার সিকিউরিটি প্রদান নিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করছে।

জনস্বার্থে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এর নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কিকরণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন আপত্তিকর সাইটের হ্যারেজমেন্ট থেকেও কিভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায় সে ব্যাপারেও সচেতনতার সৃষ্টি করে আসছে ডেঞ্জারাস ফোর্স নিজের যাত্রার শুরু হতেই।

দেশের স্বার্থে অনবরত কাজ করে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিকে চলার পথে পাড়ি দিতে হয়েছে নানান বাধা বিপত্তির। প্রভাবশালী মহল থেকে শুরু করে নানান পর্যায়ের কুচক্রি মহলের হুমকি এমনকি প্রাণনাশক চেষ্টা অতিক্রম করে ডেঞ্জারাস ফোর্সের সদস্যরা আজও বাঁচিয়ে রেখেছে নিজেদের দায়িত্ববোধকে।

বর্তমানে ডেঞ্জারাস ফোর্সে ৩০ জন এক্সপার্টসহ মোট ৭৫ জন জনবল নিয়ে কাজ করছে। সাইবার স্পেসে নিজেদের দেশের অবস্থান বজায় রাখতে সোচ্চার দলটি। সদস্যদের ১৫০ জোড়া চোখ অবিরাম নজর রেখে চলেছে দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার সদস্যরা নিঃস্বার্থে দেশের জন্য নিজেদের সব সাময়িক সুখ বিলীন করে চলেছে হাসিমুখে।

ডেঞ্জারাস ফোর্স ২০১২ সাল হতে সাইবার স্পেসে বিরাজমান ছিল,এবং আজ অব্দি নিঃস্বার্থ ভাবে দেশের জন্য কাজ করেই চলছে এবং ভবিষ্যতেও একই ভাবে কাজ করবে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশের মিডিয়া ব্যাক্তিত্বদের উপর সর্বদা এক প্রতিক্রিয়াশীল মহল এর কুনজর থেকেই যায়, সাইবার স্পেসে তারা চালাতে থাকে নানান ধরনের অপপ্রচার। ডেঞ্জারাস ফোর্স তা রোধে অপরিসীম ভূমিকা রেখে চলেছে।

২০১৪-২০১৮ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাডমিন, মডারেটর অথবা ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন, এডিটরের দ্বারা বিপুল সংখ্যক নারী হ্যারেজম্যান্টের শিকার হয়েছেন, যা অন্য সব সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েব সাইট হতে বেশি। ডেঞ্জারাস ফোর্স সর্বদা এসব ক্রাইমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে এবং ভবিষ্যতেও এভাবেই রুখে দাঁড়াতে তৎপর থাকবে বলে জানায় গ্রুপটির সদস্যরা।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলিত ছাত্র আন্দোলনে অজ্ঞাত এক সরকার বিরোধী মহল গুজব ছড়াতে থাকলে ডেঞ্জারাস ফোর্স তৎক্ষনাৎ এই গুজব রটানো রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সাইবার স্পেসে আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ডেঞ্জারাস ফোর্স।

ডেঞ্জারাস ফোর্স দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় ভালোবাসার প্রয়াস মাত্র। ১৫০ টি চোখ অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার জগত, খুঁজছে কোথায় হচ্ছে মিথ্যাচার, কোথায় হচ্ছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির অপব্যবহার। এবং তা এনালাইসিস করছে আজ অদ্যাবধি।

ডেঞ্জারাস ফোর্সের অ্যাডমিন জানান,-"বাংলা মায়ের সন্তান আমরা। ৭১ এ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গিয়েছেন আমাদের বীর সেনানীরা। পেয়েছি আমরা এক স্বাধীন ভূখণ্ড। সেই ভূখণ্ডের সাইবার স্পেস রক্ষায় আমরা নিজেদের দেহের শেষ রক্ত বিন্দুটি থাকা অব্দি যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ডেঞ্জারাস ফোর্স সর্বদা সজাগ, জাগরুক একদল দক্ষ আইটি সেনা হিসেবে নিজেদের সেবা দিয়ে চলবে এই সদস্যদের আমরণ প্রতিজ্ঞা।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

×