সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ পেয়েছে যে তিস্তা নদী’র পানিবন্টন নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌছুতে যাচ্ছে দুই দেশ।এই প্রেক্ষিতেই কিছু কথা।
দুইদেশ দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি নদীর অন্যতম তিস্তা।বাংলাদেশ অংশে লালমনিরহাট জেলা একটি অংশ।তিস্তার ওপারে ভারতে আছে একটি ব্যরাজ,দুইটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাংলাদেশ অংশে আছে একটি ব্যারেজ যার নাম তিস্তা ব্যারেজ।তিস্তা ব্যারেজের অবস্থান লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে।এটির নির্মান শুরু হয় ১৯৮৩ সালে,শেষ হয় ১৯৯০এ।একইসাথে ভারতও ১৯৮৩ সালে পশ্চিমবংগের গজলডোবায় একটি ব্যারেজের নির্মান শুরু করে,যা তিস্তা ব্যারেজ নির্মান শেষ হওয়ার অনেক আগেই শেষ হয়।যে উদ্দেশ্য নিয়ে তিস্তা ব্যারেজ নির্মান করা হয়েছিল অর্থাৎ আমাদের অংশে যে পরিমান পানি প্রবাহিত হবে তা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সেচসুবিধা দেওয়া,তা আর সফল হতে পারেনি গজলডোবা ব্যরেজের মাধ্যমে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে।ভারত কি পরিমান পানি প্রত্যাহার করে ছিল এবং করে যাচ্ছে তা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সহজেই বুঝা যাবে।১৯৯০ ও ২০০০ সালে তিস্তা ব্যারেজে পানির পরিমান ছিল ৪৭৩২ ও ৫২৯ কিঊসেক।২০০৫ এ তা কমে দাড়ায় মাত্র ৮ কিঊসেক এ।ব্যারেজ নির্মানের পুর্বে দেখা যাচ্ছে মোটামুটি গ্রহনযোগ্য পানি পাওয়া যাচ্ছিল কারন তখন ওই পানি আমরা অত কাজে লাগাতে পারি নাই। কিন্তু যেহেতু ব্যরেজ নির্মানের ফলে আমরা পানি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব তাই ৯০ এর পর থেকে পানি প্রবাহ আকস্মিক ভাবে কমতে শুরু করে।ফলে ব্যারেজের উপর নির্ভরশীল সেচ প্রকল্প চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।শাইখ সিরাজ তার প্রোগ্রামে বিষয়টি ভালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।এই পানি প্রত্যাহার ইচ্ছামুলক যাতে আমরা সুবিধাভোগী না হই।এগিয়ে যেতে পারি সোনার বাংলার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে।চাষাবাদ করতে না পেরে পরিনত হই ভারতের কৃষিপন্যের বাজারে।পানিহীন নদীরুপ শুস্ক মরুভুমিতে যেন বজায় না থাকে পরিবেশের ভারসাম্য।তা কিন্তু হয়েছে।আমরা পরিনত হয়েছি তাদের কৃষিপন্যের বাজারে।যদিও স্বীকার করে নিচ্ছি নিজেদের ব্যর্থতা।আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে ভারতের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে।এই বিষয়ে অবশ্য বিএন পি একধাপ এগিয়ে ব্যর্থতার দিক দিয়ে।মতলুব মিয়ার মাধ্যমে পচা টাটা গাড়ি অথবা মাড়োয়াড়ি আগরওয়ালের মাধ্যমে বাজাজ কিংবা মারুতি’র ডাম্পিং গ্রাঊন্ডে পরিনত হয়ত হয়েছি আমরা কিন্তু গত জোট আমলে আমরা ভারত থেকে পানি বিষয়ক কোন সুবিধাই আদায় করতে পারি নাই।খুব সম্ভবত ১টি বা ২টি জে আর সি মিটিং হয়েছিল।যা হওয়ার কথা ছয় মাস অন্তর অন্তর।এই সরকার আশা করি ব্যর্থ হবে না। আসুন সবাই দোয়া করি বর্তমান সরকার যেন সফল হয়।কারন পানি ছাড়া আমরা বাচতে পারব না।যদিও গত আমলের গঙা চুক্তিও যথেষ্ঠ সমালোচনা আছে।তাছাড়া চুক্তি মোতাবেক পানি না পাওয়াতো স্বাভাবিক বিষয়।
লেখাটি একইসাথে আমার বাংলা ব্লগে প্রকাশিত
পরিবর্তনশীল জলবায়ু পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য তিস্তা পানিবন্টন চুক্তিতে লক্ষনীয় বিষয় পর্ব-১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।