
বাহিরে অনবরত মেঘের ঘর্ষন । এখুনি বৃষ্টি নেমে চারিদিক ভিজিয়ে দিবে । কোমল বাতাস দেহ মনে শিহরন জোগাচ্ছে । শিহরিত হয়ে অস্থির মন ছুটতে চায় অদূর দূরে যেখানে কচি ঘাস একাকার হয়ে আছে । কচি ঘাসে আলতো পায়ে নূপুরের রিনিঝিনি কম্পন তুলে সারাটি দিন যদি ঘুরে বেড়ানো যেত ! কিংবা নদীর তীর ঘেষে আনমনে গুনগুনিয়ে সুর তুলে নৌকায় ভেজানো মাদুরে বসা যেত! ভাবনার অবিরত ধারায় কখোন যে সত্যি সত্যি বৃষ্টি নামল তা আমার বুঝতে দেরী হল । জানালার ফাক দিয়ে কিছু জল এসে আমায় ভিজিয়ে দিল ।কি অসীম কি অবুঝ ভাললাগা একমুহূর্তে আমায় রাঙ্গিয়ে দিল । এত ভাললাগা আমি সহ্য করতে পারলাম না । আমার চোখ অশ্রুজলে আটকে গেল । আবছা ছায়ার মত তারি লেখা চিঠির শেষ লাইনগুলো চোখে কেবলি ভেসে এল । তার শেষের দুটি লাইন - অপেক্ষায় থেকো প্রিয়ময় আমি আসবো ফিরে তোমার ভালবাসার আঙ্গিনায় । আমায় ভুলে যেও না ।
চোখের জল আর আটকে রাখা গেল না ।জানালা দিয়ে কিছু জল আবারো আমায় ছুয়ে গেল । না এবার আর ভাললাগা জাগাল না । জানালার কপাট আমি লাগিয়ে দিলাম । বৃষ্টির জলধারার মাঝে আমার অশ্রুজল এক হয়ে যেতে দিলাম না ।আমার একাকী প্রহর গোনার নির্মম যন্ত্রনা কোমল বাতাস শুনতে পেল না ।চার দেয়ালের বদ্ধ ঘরে নিজেকে আরো বদ্ধ মনে হল ।আমার অপেক্ষার পালা কবে শেষ হবে তা আমার জানা হল না । মাস ঘুরিয়ে বছরের পর কেবল বছরি এল । কিন্তু তার ফিরে আসার কোন লক্ষন আমি দেখতে পেলাম না । আমার প্রতি প্রিয়জনদের ব্যাকুলতা কিছুটা হলেও কমে গেল । আমি দিনেদিনে নিজেকে একাকী রাজত্বে ঠেলে দিতেই লাগলাম ।আমার আকুল বিশ্বাস সে ফিরে আসবেই । তার স্মৃতি হিসেবে আছে শুধু এই একটি চিঠি আর একটি গোলাপের মলিন কিছু পাপড়ি । চিঠিও আজ বড্ড পুরানো হয়ে গেছে , জানি না আর কতকাল সে থাকবে । হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দে আমি ভয় পেয়ে গেলাম । আমার কল্পনা নিমিষে লুকিয়ে গেল অন্তরালে । তারও ছবি দীর্ঘ ব্যবধানে আমার চোখে মরিচীকা হয়ে ধরা দেয় ।
অসীম দীর্ঘশ্বাসে আমি চিৎকার করে বলে উঠি আর পারছি না , বন্ধ কর অপেক্ষার পালা । ফিরে আসো । কেবলি ফিরে আসো ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


