গল্পে শুনেছি, তৎকালিন সময়ে ব্রিটিশরা যখন এই ভারত উপমহাদেশ শাসন করত তখন খুব অত্যাচার করত। গাড়ি থেকে নেমে তাদের সালাম দিতে হত। সাইকেল থেকে নেমে হেঁটে তাদের পার হতে হতো ইত্যাদি। মোট কথা তাদের উপর যাতে আমরা কখনোই চোখ তুলে তাকাতে না পারি সেই ব্যবস্থা।
মিরপুর থেকে যারা কাকলী, উত্তরা রুটে অফিস করেন, তারা হয়ত মাঝে মাঝে ক্যন্টনমেন্ট দিয়ে বাসায় ফেরেন। আমি আজই প্রথম ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিস এ উঠলাম আমার কলিগ এর সাথে। বাসে উঠে দেখি সিট নেই, আমার কলিগ বার বার বলছে চলেন নেমে যাই, আমি বললাম না থাক। বাসটি যখন মহাখালী ফ্লাইওভার এর নিচ থেকে ইউটার্ন নিয়ে সৈনিক ক্লাবে ঢোকার জন্য সিগনালে দাঁড়াল, তখন আমার কলিগ বলছে ...... ভাই এখন খুব বাজে একটা ব্যাপার হবে! আমি অবাক হলাম কি হবে? আমরা সহ যে লোক গুলো দাঁড়িয়ে আছে সবাইকে বাসের মাঝে বসতে হবে।
হলোও তাই, রেল ক্রসিং যেতে না যেতেই কন্ট্রাকটর বলছে “ সবাই বসে পড়েন” সামনে থেকে সবাই বসে পড়ল সাথে আমরা দুজন।
রেল ক্রসিং থেকে গাড়ি ১০ ফিট না যেতেই সবাই দাঁড়াল। রাস্তার অন্যান্য জায়গায় আরো আর্মি দাঁড়ানো ছিল, ভাগ্য ভালো তাদের দেখে আর বসতে হয়নি।
আমি তখন ভাবছিলাম ব্যাপারটি কেন হল??? আমার সামেনে ভেসে উঠল নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে নিয়ে দেখা একটি সিনেমা।
ঘটনাটা এমন: সিরাউদ্দৌলা তার ফ্যামেলির সবাই কে নিয়ে নৌকা করে যাচ্ছেন, নদীর পার থেকে হাঁকছে কে যায়... মাঝি বলছে কোন এক গানের দলের কথা।
আরও মনে পড়ল: মুক্তিযুদ্ধের কিছু সিনেমার দৃশ্য। যেখানে মিথ্যা বলে রাস্তা পার হওয়া, লুকিয়ে নদী পার হওয়া।
আমরা মিরপুর ১৪ নং নামার পর, আমার কলিগ খুব লজ্জাপেল, বলল সরি, আমি বললাম, কি করছেন আপনি কেন লজ্জা পাচ্ছেন...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


