somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ চিনে না, দই দেয় 'খুয়াজের' পাতে!

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'আমরা' সিএনজি, রিকসার সাথে মাইক লাগিয়ে 'উনাদের'কে ডাকি, ভাইসব, আগামীকাল বিকাল চার ঘটিকায় ঐতিহাসিক 'কুটনামি' ময়দানে বিরাট জনসভা। আপনি আসবেন।

শুধু কি তাই? 'তারা' যাতে দলে দলে আসেন, সেই জন্য আমরা গোটা শহরে পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেটে ছেয়ে ফেলি। ইদানিং আবার বিলবোর্ড নিজের 'টুথব্রাশ মার্কা দাতের বিজ্ঞাপনে' আহবান জানাই।

তাতেও টেনশন কমে না। রাতের বেলায় টাকা পয়সা বিলি করি, দায়িত্ব ভাগ করে দেই, কে কত 'আদম' সাপ্লাই করতে পারেন তার প্রতিযোগীতা লাগায়ে দেই। ট্রাক, বাস রিকুইজিশন করে পাঠাই 'উনাদের'কে নিয়ে আসতে। হোটেল রেষ্টুরেন্ট ভাড়া করে তাদেরকে খাওয়াই, বিরিয়ানির প্যাকেটে ময়দান সয়লাব হয়ে যায়।

তারপরও ব্যাপকভাবে উনারা আসেন না। কি্য়দংশ আসেন। বাকীরা বাসায় রান্না বান্না করেন, ঘর সংসারে ব্যাস্ত থাকেন, অফিস না থাকলে বিকেলে টিউশনি কিংবা পার্ট টাইম চাকুরী করে শ্বাষ নেবার চেষ্টা করেন।

যারা আসেন, তারা ময়দান পুর্ন করে বসে পড়েন। 'আমরা' বিশাল ময়দানের ছোট একটু জায়গায় 'মন্চ' বানিয়ে ঠাসাঠাসি করি, মাঝে মাঝে ভেংগে পড়ে। গা হাত পা ঝেড়ে উঠে আবার নসিহত শুরু করি, উপদেশ দেই, বেশীরভাগই অন্যের কুটনামি করি। আমাদের বক্তৃতার নামে এইসব রগর দেখেও 'উনারা' কিন্তু রাগ করেন না। বক্তৃতার মাঝখানে হঠাত করেই আমরা চিল্লায়া উঠি, 'উনারা' পিন পতন নিস্তব্ধ হয়ে যান, হা করে তাকায়ে থাকেন। আমাদের মহামুল্যবান বক্তব্য চলতে থাকে। আমরা গল্প বলি, উনারা হেসে উঠেন। হাত তুলতে বলি, উনার দুই হাত আসমানের দিকে তুলে ধরেন, আমরা প্রতিপক্ষকে বলি, আসুন দেখে যান, বিশাল জনসমুদ্রের সমর্থন দেখে যান। আমরা যখন দু:খের কাহিনী বলি, 'উনারা' চোখের জলে ভিজে উঠেন। আমরা হাসালে 'উনারা' হাসেন, আমরা কাদালে 'উনারা' কাদেন। আমরা শ্লোগান দিলে, 'উনারা' আকাশ বাতাস কাপিয়ে উত্তর দেন।

তারপরও শান্তি পাই না। রাতের বেলায় টাকা পয়সা বিলাই, জাকাতের কাপড়, দান খয়রাত, নানা কাহিনি করে তাদেরকে বলি, ভোটটা দিস কইলাম! কখনো কখনো, দেশ ছাড়া করার হুমকিও দেই। পরের দিন ভোট হয়। 'আমি' না হয় 'তিনি' বিজয়ী হন। গাটকাটা চোর, না হয় সিধেল ডাকাত!

তারপরও দোষ দেই 'উনাদের'। 'শালারা' ভোট দিতে জানে না। মানুষ চিনে না, দই দেয় 'খুয়াজের' পাতে!
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীকে সম্মান জানানোর আদি পাঠ: কেন সনাতন ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, একটি জীবন বিজ্ঞান? সবাইকে আগাম শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!

লিখেছেন অতনু কুমার সেন , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৩

সনাতন ধর্ম: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাস নয়, বরং জীবনের এক শাশ্বত পথ

আমরা যখন "মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম" পাঠ করি বা এর গভীর ভাবার্থ উপলব্ধি করি, তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়—একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতে চলতে পথে ৬

লিখেছেন কবিতা ক্থ্য, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৭

প্রকৃতির নিষর্গ:



ওবেরন যাওয়ার পথে জুলাই মাসে নিউ সাউথ ওয়েলসের (NSW) মেফিল্ড গার্ডেনে ধারণ করা এই ছবিটি একটি শান্ত পুকুরের বুকে প্রকৃতির প্রতিবিম্বি - প্রাণবন্ত ঋতুভিত্তিক রঙের মাধ্যমে শীতকালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×