somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবর খনন করার ও তথায় লাশ রাখার সুন্নত পদ্ধতি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্ন
বরাবর
মাননীয় মুফতী সাহেব দা.বা.
দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী।
বিষয়ঃ কবর খনন প্রসঙ্গে
প্রশ্নঃ- কবর খনন করার ও তথায় লাশ রাখার সুন্নত পদ্ধতি কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
নিবেদক
আল-আমীন
দাউদকান্দি, কুিমল্লা
ছাত্র মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া
হাজীপারা, নারায়ণগঞ্জ।

শরয়ী সমাধান

কবর খনন ও তথায় লাশ রাখার সুন্নত তরীক্বা
è কবর দু’ প্রকার (ক) বগলী (লাহাদ) কবর।
(খ) সিন্দুকী (শাক্ব) কবর।
è বগলী (লাহাদ) কবর সুন্নত এবং তা সিন্দুকী (শাক্ব) কবরের চেয়ে উত্তম। তবে মাটি বেশী নরম হলে এবং ধসে যাওয়ার আশংকা থাকলে সিন্দুকী কবরই খুঁড়বে।
(শামী- ৩/১৩৯ যাকারিয়া, আল-মাজমু- ৫/২৮৬, মিরক্বাত ৪/১৭৪)
è বগলী (লাহাদ) কবরঃ-
প্রথমে সোজা করে উত্তর-দক্ষিণে মৃতের শরীর অপেক্ষা অর্ধ হাত দীর্ঘ, প্রস্থে পৌনে দু’হাত এবং গভীরতায় দুই, আড়াই বা তিন হাত পরিমাণ একটি গর্ত খুঁড়বে, অতঃপর তার পশ্চিম দিকের দেয়ালের ভেতর সিন্দুকের ন্যায় একটি গর্ত খুঁড়বে যাতে স্বাভাবিকভাবে মায়্যিতকে সেখানে কিবলামুখী করে, কাতকরে রাখা যায়। একে বগলী (লাহাদ) কবর বলে।
(শামী- ৩/১৩৯ যাকারিয়া)
è সিন্দুকী (শাক্ব) কবরঃ-
কমপক্ষে অর্ধ লাশ বা সর্বোচ্চ পূর্ণলাশ পরিমাণ গভীর করে, দৈর্ঘে মৃতের চেয়ে সামান্য লম্বা এবং প্রস্থে দৈর্ঘের অর্ধেক করে সোজাভাবে একটি গর্ত খুঁড়বে। অতঃপর মাঝামাঝি লাশ রাখার পরিমাণ আর একটি নালার ন্যায় গর্ত খুঁড়বে যাতে সেখানে মায়্যিতকে পশ্চিমমুখী করে, কাত করে শোয়ানো যায়। এই গর্তের পরিমাণ দৈর্ঘে ও প্রস্থে এতটুকু হবে যেন প্রয়োজন সংখ্যক লোক অর্থাৎ ২/৩ জন সেখানে অবতরণ করে সহজেই লাশকে রাখতে পারে। এই গর্তের গভীরতা দেড় হাত পরিমাণ বা তার চেয়ে কিছু কম বেশী হতে পারে। গর্তের মুখ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করবে এবং উপরের গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করবে। একে সিন্দুকী (শাক্ব) কবর বলে।
(আলমগীরী-১/১৬৬ যাকারিয়া, বাদায়ে’ ২/৬০ যাকারিয়া)
è মায়্যিতকে কবরে নামানোর সময় কবরের পশ্চিমদিকে জায়গা থাকলে খাটিয়া পশ্চিমদিকে রাখবে। সেদিকে জায়গার সংকুলান না হলে মায়্যিতের পায়েরদিকে রাখবে, তাও না হলে যে দিকে সম্ভব সেদিকে রাখবে। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী মায়্যিতের নিকটাত্মীয় দ্বীনদার ২/৩ জন লোক কবরে নামবে। অতঃপর উপরের লোকদের সহায়তায় পশ্চিমদিক থেকে মায়্যিতকে কবরে নামাবে। তারপর পশ্চিমমুখী করে, কাত করে এমনভাবে শোয়াবে যেন মায়্যিতের ডান পার্শ্ব যমীনের দিকে আর বাম পার্শ্ব আসমানের দিকে থাকে। কবরের পূর্ব পার্শ্বের দেয়ালের সাথে হালকা টেক লাগিয়ে রাখবে যেন লাশ পড়ে না যায়। (আলমগীরী- ১/১৬৬, মাহমুদিয়াহ্-৯/৫৭)
è যারা লাশকে কবরে রাখবে তারা রাখার সময় এই দোয়া পড়বে, ূ’Ÿ žž¦ ¢ ˜ž¤ Ÿž¹ Ž’¢ž žž¦ লাশ রাখার পর কাফনের গিরাগুলো খুলে দিবে। (মুখতাছারুল কুদূরী- ১১২)
è মায়্যিত মহিলা হলে দাফনের সময় উপর থেকে কোন কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবে এবং কবরে মাহরাম পুরুষ নামবে। মাহরাম পুরুষ না থাকলে গায়রে মাহরাম পুরুষ হাতে কাপড় পেচিয়ে নিয়ে কবরে নামবে।
(শামী- ২/২৩৬ সাঈদ)
è বগলী (লাহাদ) কবর হলে গর্তের মুখে, উপরে-নীচে খাড়াভাবে হালকা কাত করে আর সিন্দুকী কবর হলে গর্তের মুখে প্রস্থেরদিকে করে বাঁশ দ্বারা কবরের মুখ বন্ধ করবে। বাঁশের উপর চাটাই দেয়াও জায়েয। তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পাকা ইট বা তক্তা দ্বারা কবরের মুখ বন্ধ করা মাকরুহ। তারপর বগলী (লাহাদ) কবর হলে কবরের পূর্ণ গর্তটিই মাটি ও প্রয়োজন হলে হাল্কা পানি দিয়ে মজবুত করে ভরাট করবে। আর সিন্দুকী কবর হলে বাঁশ ও চাটাই দেওয়ার পর বাকি গর্তটি পূর্বের বগলী কবরের নিয়মে ভরাট করবে। (শামী, বাদায়ে’)
è কবরে মাটি দেওয়া শুরু হলে যারা সেখানে উপস্থিত থাকবে তাদের জন্যে মুস্তাহাব হলো ৩ মুষ্টি করে মাটি ৩ বারে কবরে দিবে। মাটি দেয়া মাথার দিক থেকে শুরু করবে। প্রথমবার “Ÿ § ৗž› œŸ” দ্বিতীয়বার হ্মহ্ম¢š¤§  ˜¤‹œŸহ্নহ্ন এবং তৃতীয়বার হ্মহ্ম¢Ÿ §  ৗŽেœŸ ৃŽ¹ ৗޤহ্নহ্ন পড়বে। (আলমগীরী- ১/১৬৬ রশিদিয়া)
è কবরকে মাঝখানে উটের কুঁজের ন্যায় এক বিঘত পরিমাণ উচুঁ করবে। চতুর্কোণ বিশিষ্ট করবে না। কবর দেয়ার পর উপরে পানি ছিটানো জায়েয। (আলমগীরী-১/১৬৬)
è কবরকে পাকা করা জায়েয নেই। (আলমগীরী-১/১৬৬)
è কবরকে চিহ্নিত রাখার জন্যে কোন চিহ্ন দিয়ে রাখা জায়েয। তবে কবরের উপর গম্বুজ বা ঘর নির্মাণ করা জায়েয নেই। কবরে কোন জিনিষের উপর মায়্যিতের নাম, ঠিকানা লিখে রাখা কতিপয় ফক্বীহগণের মতানুযায়ী প্রয়োজনে জায়েয। তবে সেখানে ক্বোরআনের আয়াত বা শে‘র অথবা মায়্যিতের সীমাতিরিক্ত প্রশংসামূলক বাক্য লিখা মাকরূহ।
(আহ্কামে মায়্যিত-৭৮)
è কেউ ইচ্ছা করলে বরকতের নিয়তে কবরের উপর তাজা খেজুরের ডাল বা অন্য কোন গাছের ডাল পূঁতে রাখতে পারে। এতে কোন সমস্যা নেই। বরং বরকতের আশা করা যায়। (মেশকাত শরীফ-৪২, মিরক্বাত-২/৫৮)
è দাফন ও কবরের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মায়্যিতের শিয়রে দাঁড়িয়ে একজন সূরায়ে বাক্বারাহ শুরু থেকে Ÿšžৈ¢  পর্যন্ত এবং আরেকজন পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে সূরায়ে বাক্বারার শেষে Ÿ  žŽ’¢ž থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া মুস্তাহাব। (শামী- ২/২৩৭ সাঈদ)
è দাফনের পর একটি উট জবাই করে গোশ্ত কাটার সময় পরিমাণ সেখানে অপেক্ষা করা এবং মায়্যিতের জন্যে দো‘য়া, ইস্তেগফার ও তিলাওয়াতে কুরআনের মাধ্যমে ঈসালে ছওয়াব করা মুস্তাহাব। (শামী- ২/২৩৭ সাঈদ)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×