somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিউ ইয়ার্স ইভ: টাইমস স্কয়ারে

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বলা হয় নেড়া একবারই যায় বেল তলায়-কথাটা সম্ববত টাইমস স্কয়ারে নিউ ইয়ার্স ইভ দেখতে যাবার বেলায়ও প্রযোজ্য।

যারা এখনো আমার মত ধরা খান নাই বা বেল তলায় যান নাই তারা হয়ত বলব এই বেটা কি কয় -সারা দুনিয়া থিকা টুরিস্ট আসতাসে পিক ট্রাভেল টাইম এ, স্কাই হাই প্লেন ফেয়ার আর তিন গুন বেশি পয়সা দিয়া হোটেল বুক করতাসে-সুধু বছরের শেষ কয়টা দিন বিগ আপেল এ থাকা, ঘুরা আর টাইমস স্কয়ারের বল ড্রপ দেখার জন্য।

আসলে বেপারটা অনেকটা মক্কার মানুষ হজ পায়না এর মত. নিউ ইয়র্ক সিটি বা তার আশেপাশের বোরো গুলাতে যারা থাকে তারা এই বল ড্রপ এর বেপারে বেশি কেয়ার করে না --যারা বযস্ক, বাচচাকাচ্চা আছে, তারা ম্যাক্সিমাম টাইম ফ্যামিলি গেট together টাইপ ইভেন্ট এ নিউ ইয়ার ইভ celebrate করে. উঠতী বয়সী পোলাপান ক্লাব/বার এ যায়- মদ খায়া টাল হইয়া নিউ ইয়ার রিং ইন করে. এক বার কিছু কাচা ডলার এর জন্য নিউ ইয়ার এ একটা বারে কাজ করেছিলাম- কানে ধরসি এরপর আর জীবনেও যাব না ওই জাহেলিয়াতের ভিতরে- ভিতরে যা হয়, আল্লাহ মদ খাওয়া কোনো কারণ ছাড়া নিষেধ করে নাই.

যাই হোক আমি আরেকবার কানে ধরসিলাম ২০০৭ এর ৩১ ডিসেম্বর এ - যখন আমার পাকিস্তানি কো ওয়ার্কার আমারে কইলো অর বন্ধুরা আসতাসে নিউ জার্সি থিকা, টাইম স্কয়ারে এ যাইতে অর সাথে। আমি তখন 'নতুন', দেড় বছর এর মত হইসে আমেরিকা আসসি --বেশি কিসু দেখি নাই, কাজ আর কাজ করতে করতে চোখে খালি সরষে ফুল দেখতাম। ভাবলাম যাব কি যাব না কারণ পরেরদিন সকালে আমারে রেস্টুরেন্ট ওপেন করতে হবে. ও বললো ওর বড় ভাই ট্যাক্সি চালায় সিটিতে, যাবার সময় বাসায় ড্রপ কইরা দিবে।আমি রাজি হইয়া গেলাম। রেস্টুরেন্ট এর পাকিস্তানি মালিক রে ফোন করলাম যে দোকান স্লো, আগে ক্লোজ করে দিব কিনা-বস বলল ঠিক আছে। বস এর আরেক দোকানে এক গায়ানিজ মুসলিম কাজ করত -উনার গাড়ি ছিল, উনি আমাদের সবাইকে বাসায় নামায় দিল. কথা হইলো আমরা ফ্রেশ হয়ে ট্রেন নিয়া সিটি তে যাব আর রকফেলার সেন্টার এ আবার মিট করব.

তো বাসায় গিয়া গোসল কইরা ফ্রেশ হইলাম, ভালো ঠান্ডা পড়সিলো, গরম কাপড় পইরা বাইর হইলাম, ট্রেন নিয়া রকফেলার এ গেলাম-ট্রেন থিকা বাইর হইয়া যা দেখলাম মাথা পুরা নষ্ট! মানুষের মাথা মানুষে খাইতেসে -মনে হইতাসে আওয়ামী লিগ /BNP এর কোনো জন সভায় আসসি-এত মানুষ, ম্যাক্সিমাম ফরেনার বা আউট অফ স্টেট পিপল (অন্য স্টেট থিকা প্রচুর লোক আসে)। পুলিশ barricade দিয়া রাস্তা ব্লক করতাসে, কাউকে আগাইতে দিতাসে না কারণ সামনের ব্লক গুলা ফিল হইয়া গেছে মানুষ দিয়া। টাইমস স্কয়ারে হইলো ৪২ স্ট্রিট আর আমরা ছিলাম ৪৮ স্ট্রিট, কয়েকটা এভিনিউ ছিল মাঝে--বেশ খানিকটা দুর, আমরা কোনো আশা না দেইখা ব্যাকট্রিট করলাম। প্রচন্ড ঠান্ডা আর উইনড চিল এর মধ্যে কুত্তার মত এদিক ওদিক ঘুরলাম। পরে জানলাম যারা বল ড্রপ দেখতে চায় তারা সকাল থিকা আইসা টাইমস স্কয়ারে বইসা থাকে, নড়ে চরে না, কারণ একবার জায়গা ছেড়ে উইথা গেলে আরেকজন জায়গা নিয়া যাইব। আল্লাহ পাক ভালো জানেন এই মাথা খারাপ টুরিস্টরা প্রাকৃতিক কাজ করে কিভাবে---

যাইহোক কাউন্ট ডাউন এর পর বল ড্রপ হইল--এত শব্দ হচ্ছিলো অনেক দূর থিকা শোনা গেলো। আমি কানে ধরলাম, বাইচা থাকতে আর ৩১ এর নাইটে বাহির হব না-টাইমস স্কয়ারে এ আসা তো দূর কি বাত. তারপর সর্বশক্তিমান আল্লাহ এর কাছে দোআ করলাম যেন সামনের বছর ভালো যায়-গ্রাজুয়েট স্টাডি আরম্ভ করব, প্রচুর টিউশন ফী --ঠিক মত কাজ যেন থাকে আর যেন সুস্থ্য থাকি।

তারপর আর কি করা--আরেক ঘন্টা ঘুরলাম রাস্তায়, ঠান্ডা আর হাটা মিলায়া প্রচন্ড hungry হইয়া গেলাম। আমার পাকি বন্ধু স্পন্সর করলো --রাস্তার পাশের হালাল কার্ট থিকা-চিকেন ওভার রাইস খাআইলো ৭/৮ জনরে--আমি বাইরের খাবার অতটা পছন্দ করতাম না যদিও রেস্টুরেন্ট এ কাজ করতাম। তবে ওই দিন মনে হইছিল অমৃত খাইতেসি- খাওয়া দাওয়ার পর যারা নিউ জার্সি থিকা আসছিল ওরা চলে গেল, আমরা তিন জন ছিলাম, ওয়েট করতে থাকলাম taxir জন্য, আমার পাকি বন্ধুর ভাই আধা ঘন্টা পরে ট্যাক্সি নিয়া আইসা আমাদের নিয়া গেল কুইন্স এ, তারপর বাসায় নামায়া দিয়া গেল. নিউ ইয়ার এর এডভেঞ্চার শেষ---আমি এলার্ম দিয়া ঘুমায়া পরলাম-একটাই চিন্তা মাথায়--সকালে দোকান খুলতে হবে--কাজ নাই তো কোনো পয়সা নাই...

কালকে রাত্রে tv এ দেখলাম- ৭ বছর পরও সেম situation টাইমস স্কয়ার এর আসেপাশে--প্রচুর টুরিস্ট ম্যাক্সিমাম চাইনিজ--প্রচন্ড ঠান্ডা আর বাতাসের মধ্যে বাইরে দাড়াইয়া আসে- বাসার মধ্যে এত হিট চলতাসে তারপরও ঠান্ডা লাগে আর এরা সকাল থিকা খোলা চক্করের মধ্যে রাস্তায় বইসা আছে--খুব জানতে ইচ্ছা করতে ওদের কাছে --নিউ ইয়ার্স ইভ এ দোবারা আসবে কিনা এইখানে---
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×