somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তানী শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস। তাতে জামাতীদের রাজাকারীর স্বীকৃতি। হায় রে জামাত বিএনপির পেয়ারের পাকিস্তান!

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের অভ্যুদয়
পাকিস্তানে শিক্ষার্থীদের বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে
প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ১৭-১২-২০১০

পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ হয়েছে প্রায় চার দশক হলো। কিন্তু পাকিস্তানের স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের এখনো বাংলাদেশ সৃষ্টির ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’র পাঠ দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ডন পত্রিকা গতকাল ১৬ ডিসেম্বর তাদের ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে তারা দেখিয়েছে, পাকিস্তানের স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের কী ধরনের ভ্রান্ত পাঠ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।
নবম ও দশম শ্রেণীর পাকিস্তান স্টাডিজ বইয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সৃষ্টিতে হিন্দু শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের একটি বড় অংশ ছিলেন হিন্দু। তাঁরা এমন সব সাহিত্য সৃষ্টি করেছিলেন, যা বাঙালিদের মনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের জন্ম দিয়েছিল।’
পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ও কাজ করেছিল উল্লেখ করে ওই বইয়ে লেখা হয়েছে, ‘পূর্ব পাকিস্তানে তখন ছিল প্রায় এক কোটি হিন্দুর বাস। তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁদের পেছনে দাঁড়িয়েছিল ভারত। হিন্দুদের অর্থনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে ভারতই চেয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে। অনেক হিন্দু ভারতের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে; কেননা পাকিস্তান তাদের ভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে দিয়েছিল। আবার যুক্তরাষ্ট্রও চাইছিল, পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হোক। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আগ্রাসনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয় রাশিয়া।’
ডন-এর নিবন্ধন অনুযায়ী বাংলাদেশ সৃষ্টি নিয়ে দশম ও একাদশ শ্রেণীর বইয়ে লেখা হয়েছে, ‘চূড়ান্তভাবে শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল সামরিক সরকার। আর এই অভিযানে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এল জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবকেরা। রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে পুরোনো বিবাদের শোধ নিতে এই সুযোগ কাজে লাগাল তারা (জামায়াত)।’
ডন লিখেছে, তবে কোনো বইতেই পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা এবং গণহত্যার উল্লেখমাত্র করা হয়নি। এ ছাড়া ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানের কী পরিমাণ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার উল্লেখও নেই ওই সব পাঠ্যবইয়ে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে জুলফিকার আলী ভুট্টোর অনমনীয় অবস্থানের উল্লেখও করা হয়নি বইয়ে।
ইতিহাসের এ ধরনের বিকৃতিকে ‘প্রহসন’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন দেশটির শিক্ষক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক আব্বাস হুসাইন। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছি।’
শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ভুল ইতিহাস পড়াতে শিক্ষকদের কেমন লাগে, জানতে চাইলে আব্বাস হুসাইন বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষে কী পড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষকই উদাসীন। শ্রেণীকক্ষে আমাদের কল্পকাহিনিই পড়াতে হচ্ছে, যার সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার বাস্তবতার মিল নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে সেটা খুশি মনে মেনে নিতেই হচ্ছে।’
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পারভেজ হুদবয় বলেন, ‘পাকিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকৃত ইতিহাস পড়াতে হলে তাদের বলতে হবে, পূর্ব পাকিস্তানিরা কেন নিজেদের প্রবঞ্চিত ভাবতে শুরু করল এবং কেন তাঁরা স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য লড়াই করল। তা না করে আমরা শিক্ষার্থীদের কীসব গাঁজাখুরি “ষড়যন্ত্র তত্ত্ব” পড়াচ্ছি।’ পিটিআই, ডন।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×