somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে ভোট" সমান দেশপ্রেম!!!

১৪ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের নাগরিক, বিশেষকরে শহুরে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের এক দারুণ প্রণোদনা কাজ করছে। দেশপ্রেম প্রকাশের উছিলাটি হল-ইন্টানেটে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুন্দরবন ও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে পৃথিবীর আশ্চর্য স্থানগুলোর রেটিংয়ে সবচেয়ে উপরে উপরে স্থান করে দেবার প্রচেষ্টা। প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে অনেকেই বেশ আটঘাঁট বেঁধেই নেমেছেন ভোট সংগ্রহে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস ,কারখানা, বাসাবাড়ি সব জায়গায় এই দেশপ্রেমিক কর্মদল ছুটে বেড়াচ্ছেন সংগ্রহে। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশের মানুষের মনে কী পরিমাণ দেশপ্রেম কাজ করে।

ভোট সংগ্রহে অংশ নেবার পর থেকে কিছু প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব, ভাবনা আমাকে তাড়িত করছে। যেমন বাংলাদেশের আশ্চর্য দর্শনীয় স্থান কি শুধুই সুন্দরবন ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত? সন্দেহহীন উত্তর ‌'না'। আমাদের দেশে আরো বহু আশবচর্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তবে কেন সেগুলো নিয়ে কোন রা নেই? একটি স্থান তার কিছু বৈশিষ্ট্য ও শর্তের ভিত্তিতে আশ্চর্য বলে বিবেচিত হয়। দেশের অন্যান্য আশ্চর্য স্থানগুলোর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব কি বিশ্বের দরবারে উপস্থাপিত হচ্ছে?

একটি স্থানকে কি শুধু ভোটের মাধ্যমে আশ্চর্য স্থান বলে দাঁড় করিয়ে দেয়া যায়? ধরি চীনেও দুটি আশ্চর্য স্থান রয়েছে। চীনের জনসংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। চীনের প্রতিটি নাগরিক যদি তাদের প্রতিটি আশ্চর্য স্থানের জন্য ৫টি এবং বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যদি এখানকার প্রতিটি স্থানের জন্য ১০টি করে ও ভোট দেয় বাংলাদেশের আশ্চর্য স্থান রেটিংয়ে উপরে উঠতে পারবে? তাছাড়া চীনের চেয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত প্রসার নিতান্তই সামান্য। চীনের যত মানুষের কাছে প্রযুক্তি সুবিধা আছে আমাদের দেশের তার সামান্যও নেই যে মানুষে ইন্টারনেটে ভোট দেবে।

বিষয়টি হল ভোট দিয়ে কোন কিছুকে ভালো বা খারাপ হিসেবে আখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। যা ভালো তা তার আপন বৈশিষ্ট্যের কারণেই ভালো। কেউ ভোট দিলেও তা ভালো, কেউ ভোট না দিলেও তা ভালো। ধরা যাক আমেরিকার নাগরিকগণ তাদের কোন একটি খুব সাধারণ স্থানের জন্য সবাই মিলে সেটিকে আশ্চর্য স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে; তবে কি তা আশ্চর্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত? আবার আফ্রিকা সহ বিশ্বে বহু স্থান রয়েছে যা আশ্চর্যের চেয়েও বেশি আশ্চর্যের। এসব স্থান আধুনিক সভ্যতার চেয়ে ক্রোশ পেছনে এবং যেখানে ইন্টারনেট নেই, নেই ভোট দেবার মতো স্বাক্ষর নাগরিক। তাহলে এসব স্থান কি ফেলনা হয়ে যাবে? আবার বাংলাদেশের কেউ যদি ভোট না দিতে পারে তবে কি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত থাকবেনা বা সুন্দরবন কি সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন থাকবেনা? আবার ভোট না দিলেই কি এসব স্থানের অনিয়ম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঢেকে যাবে? তবে এ ভোট সংগ্রহের কাজ যে দেশপ্রেমের পরিচায়ক এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

ভোটের মাধ্যমে শুধু একটি স্থানের জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করা যেতে পারে; স্থানটির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত-এসব স্থানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় ও সুলভে প্রবেশযোগ্য করে তৈরী করা যায়। এরও বাইরে দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, উত্তরবঙ্গসহ যেসব স্থান প্রশাসনের সুনজরের অভাবে দিনেদিনে গৌরব হারাতে বসেছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রশাসনকে এবং দেশের মানুষকে এগুলোর জন্য কাজ করতে হবে।

সুন্দরবনে প্রতিদিন নির্বিচারে গাছ কেটে এবং বন্য প্রাণী হত্যা করে মুনাফা লুটছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। সেখানকার বাওয়ালিদের ঋনের ফাঁদে ফেলে মহাজনেরা বন থেকে নির্বিচারে গাছ ও গোল পাতা সংগ্রহে বাধ্য করছে। এতে সেখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সুন্দরবনের এ গাছগুলোই গত সিডরের সময় খুলনাবাসীকে অনেকখানি রক্ষা করছে। বর্তমানে সুন্দরবনের বহু প্রাণী ও বৃক্ষ প্রজাতি আজ প্রায় বিলুপ্ত। কক্সবাজার সৈকতের পরিবেশ দর্শনার্থীরা দূষিত করছে প্রতিদিন। ভোট সংগ্রহে যারা নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করছেন তাদের দেশপ্রেমের চেতনাকে সশ্রদ্ধ সালাম। তথাপি এসব স্থানের সমস্যাগুলো নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে। আশা করি সকলে দেশপ্রেমের সর্তিকার পথ খুঁজে নিতে স্বচেষ্ট হবেন।


হাসান তৌফিক
আই.ই.আর.
ঢাবি
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×