সবই লাগে একই রকম
একই লাগে প্রতিদিন জীবন
খোলা ছবি অস্পষ্ট বৃষ্টি
দুরে সরে যায়, দুরে সবই
চোখের ভেতর হারায় সব নিমিষেই
অনেক পথ গিয়েও মনে হয় আছি শুরুতেই
আমার বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরেজীবি। একদম সাধারন অবস্থায় শুরু করে রিটায়ার করেছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি টিকে থাকার প্রানান্তকর সংগ্রাম। একটা ছেলে ছেলে করে আমার আগে চারটা বোন সহ মোট আমরা পাঁচ ভাইবোন। মা একদম ছোটবেলা থেকেই পোলিও তে সাফার করে হাঁটতে পারতেন না। তারপরেও একটা ছেলের তার বড় শখ। সংসার চলবে কেমন করে তার কোনো চিন্তা কোনদিন করে নাই বাবা আর মা, ফলে আমরা প্রায়ই দেখতাম সেই স্ট্রাগল। চাকরীর পাশাপাশি বাবার টিউশনি (আমি দেখি নাই, মার কাছ থেকে শোনা), মারও নানাভাবে বাবাকে সাহায্য করার চেষ্টা। ইচ্ছা থাকলেও মাকে বাবা কোনদিন নিয়ে যেতে পারেননি সমুদ্র দেখাতে, আমি জানি না ভ্যালেন্টাইন ডের কথা তারা জানতেন কিনা। কিন্তু ভালবাসার কোন নিভৃত সময় নিশ্চয় দেখতেন দুজনে মিলে সমুদ্র দেখার কথা। বাবার সামর্থ্য ছিল না, একথা বলার সময় আমি কখনো অস্বস্তি ফিল করি না। কারন আমি দেখেছি কিভাবে বাবা আর মা তিলতিল করে গড়ে তুলেছেন আমাদের সব ভাইবোনদের। কোনদিন হাঁটতে না পারা সত্বেও মা আমাদের সব ভাইবোন দের অনার্স মাস্টার্স পাশ করিয়েছেন, কাউকে কাউকে বানিয়েছেন ডাক্তার, কাউকে ইঞ্জিনিয়ার।
তো যা বলছিলাম, সেই সমুদ্রের কথা। এবার মাকে হুইল চেয়ারে করে একদম ঢেউ এর মাঝে নিয়ে গিয়েছিলাম। মা একদম বাচ্চা মেয়ের মত হয়ে গিয়েছিল। মা এবারই প্রথম সমুদ্র দেখল, আমিও। শুধু মিস করলাম বাবাকে। প্রস্টেট ক্যান্সারে বাব চলে গেছে গত বছর। মা বার বার আক্ষেপ করছিল যে এরকম একটা সময় বাবা থাকল না আমাদের সাথে। মার অনেক শখ ছিল প্লেনে চড়ার। এবার সেই শখটাও পূরন করেছি।
ভালবাসা দিবসে বার বার আজকে মনে পড়ছে বাবার কথা। তার অসামর্থ্যের জন্য হয়তো অনেক ইচ্ছাই পুরন করতে পারেননি। যখন আমার সামর্থ্য হল ইচ্ছা পূরনের, তখন আর তুমি নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
