somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি সাইয়েদ জামিল ও প্রথম আলো সাহিত্য পুরস্কার

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম আলো কোন এক কবিকে জীবনানন্দ দাস সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করেছে, এই পুরস্কারের মাধ্যমে রাতারাতি পরিচিত হয়ে উঠেছেন কবি সাইয়েদ জামিল।
গত কয়েকদিন ধরেই ব্লগ ফেসবুকে আলোচিত সমালোচিত তিনি, কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে।
তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি অশ্লীল শব্দের মাধ্যমে কবিতা লিখেছেন। তারপরের অভিযোগ হল তিনি স্বাধীনতা বিরোধী। কারো কারো অভিযোগ তিনি নাস্তিক। এরকম বিভিন্ন অভিযোগে কবি অভিযুক্ত।

যখন তার কবিতার সমালোচনা করা হবে তখন তার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কথা বলা অর্থহীন। তিনি কবিতার মাধ্যমে কি বলতে চেয়েছেন, কবিতা হিসেবে কতটুকু স্বার্থক হল এসবই মূল আলোচনা হওয়া উচিত। আমি কবি কিংবা কবিতা বোদ্ধা নই, তবু কবিতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত মতামত দিতেই পারি, আমার সাথে সবাই একমত হবে এমনটাও আশা করি না।

প্রথম কথা হচ্ছে সাইয়েদ জামিলের অশ্লীল শব্দ নির্বাচন। কবি তার কবিতায় শব্দের খেলা খেলবেন এটাই স্বাভাবিক। সাহিত্যে শব্দ নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোন মানদন্ড নেই, কবিতাকে কোন কাঠামোর মধ্যেও সীমাবদ্ধ করা যায় না। শিল্পী স্বাধীনভাবে শিল্প সৃষ্টি করবেন, শিল্পের মাঝে শ্লীলতা-অশ্লীলতা খোজার চেষ্টা অর্থহীন।
বাংলা কবিতায় যেসব শব্দকে আমরা অশ্লীল বলে থাকি, তার প্রয়োগ নতুন নয়।
যেমন হেলাল হাফিজের, ' আমিও গ্রামের পোলা, চুতমারানী গালি দিতে জানি ' হুমায়ুন আজাদের, ' অপার সৌন্দর্য্যের দেবী সারারাত চুষবে নষ্টের লিঙ্গ' কিংবা কবি মলয়ের ' প্রচন্ড বৈদ্যুতিক ছুঁতার ' অশ্লীল শব্দে ভরপুর অসাধারণ সুন্দর একটা কবিতা।
এই কবিতা গুলিতে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার থাকলেও কোন অশ্লীলতা প্রকাশিত হয় নি। অশ্লীল শব্দের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে শ্লীল সৌন্দর্য্য, ফুটে উঠেছে জীবনবোধ, প্রকাশ করে অর্থ। অর্থাৎ সেগুলি হয়ে উঠেছে এক একটি কবিতা যা পাঠকের মন জয় করতে সক্ষম।

কিন্তু সাইয়েদ জামিলের কবিতা গুলি কি আসলেই কবিতা হয়ে উঠেছে? কিছু নমুনা দেখা যাক।
'' পৃথিবীতে আমরা গান গাই

পক্ষী শিকার করি,

চোদাচুদি করি, এবং নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করি ''

আমরা এসবই করি, ভুল কিছু নেই। কিন্তু প্রকাশভঙ্গি খুবই স্থুল এবং কবিতা বলা গেলেও পুরস্কার পাবার মত আহামরি কিছু নয়।

আর একটা কবিতায় তিনি লিখেছেন,
'' স্বেচ্ছায়
শাড়ি খুলে শ্রীমতি কাদম্বরী আমার
মুখের ভেতর পুরে দিলো
তার অহংকারী দুধের বোঁটা। দুপা ফাঁক
করে ঊরুসন্ধি দেখিয়ে বললো,
' ও নব্য ঠাকুরপো, এ শরীর তোমারও'
আমি মুসলমানের পোলা, আমার ঘেন্না হল।
তবু আমি কাদম্বরীর সাথে
রতিক্রিয়া সম্পন্ন করলাম ''

কবি এখানে কাদম্বরীর সাথে রতিক্রিয়ার এক অন্যায় ভাবনা প্রকাশ করেছেন। কাদম্বরী কোন প্রেম কামের দেবী নয়, নয় কবির প্রেমিকা। তাই এরকম ভাবনা আসলে বিকৃত বাসনা। দ্বিতীয়ত এখানে ' আমি মুসলমানের পোলা ' কথাটি চরমমাত্রার সাম্প্রদায়িকতা, যা নিন্দনীয়।
দ্যা স্পিরিট অব ইসলাম নামক কবিতায় লিখেছেন,
'' আমি গুরু চোদা জামিল।
সুতরাং রবীন্দ্রনাথকে পাল্টা থাপড়াইতে দ্বিধা করিলাম না।
এবং মাদারচোত বলিয়া গালিও দিলাম।
তারপর পোস্টারের সেই রবীন্দ্রনাথরে ছিঁড়ে ছিন্নভিন্ন
করে কমোডে ফেলে তার উপর মুত্র
বিসর্জন করিলাম এবং ফ্ল্যাশ আউট
করিয়া গৃহ হইতে ঠাকুর তাড়ায়া দিলাম ''

রবীন্দ্রনাথকে হেয় করতেই পারে, তাকে মাদারচোত গালি দেওয়াও পাপ নয়,তার ছবিতে মুত্র বিসর্জনের খায়েশ যে কারো থাকতে পারে। কিন্তু এই খায়েশ গুলোকে খিস্তি খেউরের মাধ্যমে প্রকাশ করা এবং এসব খিস্তি খেউরকে কবিতা বলে পুরস্কৃত করার ভাবনা কোন পার্ভার্টের মাথা থেকে বেড়িয়েছে সেটাই হল মূল কথা।

কবিতা হিসেবে এসব আহামরি কিছু নয়, তার পুরস্কার প্রাপ্তি মূলত তার রাজনৈতিক দর্শনের জন্য। একাত্তরে রবী ঠাকুর এই দেশে নিষিদ্ধ ছিল, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা বরাবরই রবী ঠাকুরকে হেয় করে থাকে সাম্প্রদায়িক চিন্তার কারণে। প্রথম আলো যে সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির শুশীল পৃষ্ঠপোষক, তা বুঝতে কারো বাকী নেই। এসব কবিতা বড় কথা নয়, কবির রাজনৈতিক দর্শনই মূলত তার পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণ।

আরও কিছু কবিতা পড়লাম সাইয়েদ জামিলের, একজায়গাতে তিনি কোন এক অ্যান্টির সাথে যৌনতার স্বপ্নে বিভোর। তার কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অবদমিত যৌনতার বিকৃত প্রকাশ।
এসব দেখে সাইয়েদ জামিলকে কবি বলছি, কিন্তু মারাত্মক যৌন অবদমনে ভোগা কবি।
এসবকে যদি কবিতা হিসেবে ধরা হয়, তাহলে চটিকে সাহিত্যর কাতার থেকে দূরে রাখার যৌক্তিকতা খুজে পাই না, সেখানেও মূলত থাকে অবদমিত যৌনতার কদর্য প্রকাশ।
১৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×