আমি আগেই সেইসব মানুষদেরকে লেখাটা না পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।যারা অন্যর মা-বাবাকে সম্মান করতে জানে না।এই দুদিনে আমি অনেকের লেখা মন দিয়ে পড়েছি,আর সেখানে করা মন্তব্যগুলো।মুক্তমনার পরিচয় দেয়া একজন মানুষ যে এতো নোংরা শব্দ ব্যবহার করতে পারে,তা আমার চিন্তার বাইরে ছিল।যাই হোক এখন মূল লেখায় যাওয়া যাক।
গল্প নং-০১
ইতিহাস মতে ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের ফসল আমাদের আজকের এই স্বাধীনতা।তাদেরকে ধন্যবাদ,এতো বড় কিছু বির্সজন দেবার জন্য।আমরা তাদের সম্মান জানালাম,বীরঙ্গনা বলে।ইতিহাস থেকে শোনা,আবার কিছু মানুষের কাছ থেকে।আবার কোন নেতা-নেত্রীর মুখ থেকে।আমাদের একসময়ের সরকার প্রধান নাকি পাকিদের ক্যাম্পে ছিলেন।সেই সরকার প্রধানের নাম না নিলে ও আশা করি অনেকে বুঝে গিয়েছেন।তিনি কি নিজের ইচ্ছে তে সেখানে গিয়েছিলেন,পাকিদের ভোগের পন্য হতে?নাকি তাকে ও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেমন ভাবে আমার মা-বোনদের নিয়ে গেল।যদি তাই হয় তাহলে তিনি ও বীরঙ্গনা।এ দেশের জন্য তিনি ও ত্যাগ করেছেন।আর তাই কেবল রাজনীতি করার জন্য,নিজের কর্মীদের কাছে হাসির পাত্র বানানোর জন্য যদি তাকে ছোট করা হয়।তার চরিত্র নিয়ে ভাষন দেয়া হয়।তাহলে আমার ২ লক্ষ মা-বোনকে সেদিন বেশ্যা বলে অপমান করা হয়েছে।আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি যদি আমার শোনা ইতিহাস সত্য হয়।মা গো ক্ষমা কর তোর এই সন্তানকে,বোন ক্ষমা কর তোর এই ভাইকে।তোকে বীরঙ্গনা বলে ডাকতে শিখেছি কিন্তু তোকে সম্মান করতে শিখিনি।
গল্প নং-০২
মনে করুন আপনি টিভি দেখতে বসলেন।ফারহানা নিশোর পাঠ করা খবর শুনছেন।আপনি তো জানেন নিশো যা পাঠ করছে তা তার লিখা নয়।বিভিন্ন রিপোর্টারদের সংগ্রহ করা সংবাদ একত্রে করার পর সম্পাদকসহ সব বড় স্যারদের অনুমতি পাবার পর সেই সংবাদ ফারহানা নিশো আমাদের পড়ে শোনাচ্ছে।তার এই অবদানটা কি আমরা না মেনে পারি?যদি তাকে আমরা স্বীকার করে নেই।তাহলে আওয়ামীলীগ বা বিএনপির মেনে নিতে দোষ কোথায়?শেখ মুজিবুর রহমান যেমন করে স্বাধীনতার ঘোষনাটা সবার সামনে পাঠ করতে পারেন নি।তেমনি জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবের সেই কাজটা করে দিয়েছেন।তাই শেখ মুজিবের অবদান স্বীকার করা যেমন আমাদের সবার উচিত তেমনি জিয়াউর রহমানের।তাদের একজনকে খাটো করা বা তার অবদান না মানা মানে অন্যজনকে ও অস্বীকার করার শামিল।কিন্তু আমরা ইতিহাস নিয়ে তর্ক করতে পারি এবং ইতিহাস মানতে পারি,কেবল সেই ইতিহাস যা কেবল আমার পক্ষে কথা বলবে!!
গল্প নং-০৩
আমার বাবা আর এলাকার মুরুব্বীদের কাছে রাজাকারদের কথা শুনেছি।তারপর উদিচি পরিবারের সাথে জড়িতদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সময় দেশ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে দুবার পুরস্কার ও পেয়েছি।সে সময়ই মূলত আমার ইতিহাসের হাতেখড়ি।রাজাকার ছিল এটা চীরসত্য,তেমনি চীরসত্য তাদের অত্যাচার।তাহলে আজকাল যারা আমার মতো স্বাধীনতার পর জন্ম তারা অনেকেই কেন মেনে নিতে পারে না?শেখ মুজিব হয়তো উদার মনের মানুষ ছিলেন।তাই তিনি সবাইকে হয়তো ক্ষমা করে দিয়েছিলেন(আমার জানায় ভূল থাকতে পারে)।১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা শেখ মুজিবের কাছে তাদের ফাঁসির জন্য তখন আন্দোলন করেছিল কিনা তা ও আমার জানা নেই।যতটুকু ইতিহাস পড়েছি সেখান থেকে এই প্রশ্নের উত্তর পাইনি।তৎকালিন সময়ে শেখ মুজিব যদি তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন,সে সময়কার মুক্তিযোদ্ধারা যদি তাদের বিচারে শাহবাগে গলা না ফাঁটায়।তাহলে আজ জন্ম নেয়া বা স্বাধীনতা না দেখা বা স্বাধীনতার জন্য কোন ত্যাগ না করা ইমরান সরকারের মতো আবালগুলো কেন গলা ফাঁটায়?যে যুদ্ধ করলো,রক্ত দিল সে যদি বড় মনের পরিচয় দিয়ে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারে,তাহলে আপনি আমি কে,তাদের বিচার চাওয়ার?একজন ক্ষমা করে দেয়া ব্যাক্তিকে আবার তাকে সেই অপরাধে বিচার করা যায় কিনা,আইনে এ রকম লেখা আছে কিনা আমার জানা নেই।তাই জামায়াতের উচিত ইতিহাস মেনে রাজাকারদের স্বীকার করে নেয়া।তারপর তাদের সাথে যা নতুন করে হ্য়ছে সেটা মেনে নেয়া।আর সত্যিকারের ইতিহাস ই কেবল বলতে পারে কে দোষী আর কে রাজাকার।
শেষ গল্প:
আমি শুনেছি সে সময় নাকি রাজাকারদের সংখ্যা ৩০ হাজারের মতো ছিল।দয়াকরে আমার জানাটা ভূল হলে ধরিয়ে দেবেন।আমি অনেকবার বলেছি আমি ইতিহাসের ছাত্র নই।ধরে নিলাম সংখ্যাটা ৩০ হাজার।২০০০০০/৩০০০০=৬.৬৭।তারমানে একজন রাজাকার গড়ে ধরে নিলাম ৭ জন নারীকে পাকিদের হাতে তুলে দিয়েছে বা অত্যাচার করেছে।আমি যখন ছাত্র তখন শুনেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র নেতা নাকি ১০০জন মেয়েকে ভোগ করে ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরন করেছিল(আমার জানা ভূল ও হতে পারে,ইতিহাস বলে কথা!!)।যুদ্ধের মতো একটা পরিবেশে ৭ জন নারীকে যদি অত্যাচার করার পর তাকে রাজাকার বলা হয় তাহলে স্বাধীনদেশে ১০০জন নারীকে অত্যাচার করার পর তাকে কি নামে ডাকা যায় আমি জানি না।আপনারা কেউ জানলে জানাবেন।নাকি ১০০ জন নারী হাসতে হাসতে তার সাথে বিছানায় গিয়েছিল?ইতিহাস থেকে জানতে পারলাম যুদ্ধের সময় নারীদের অত্যাচার করা এটা সবসময় হয়ে আসছে।তার মানে স্বাধীনতার জন্য কেবল আমার দেশের মা-বোন রা অত্যাচারীত হননি।যুগে যুগে সব দেশের স্বাধীনতার জন্য সেই দেশের পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
আমি আমার মতো চিন্তা করি।আমি ভালকে ভাল আর মন্দকে মন্দ বলতে শিখেছি। মহান আল্লাহ আমাকে মানুষ হিসেবে তৈরী করেছেন,জানোয়ার করে নয়।১৯৭১ সালে আমার যে বোন নির্যাতিত হলো তার যেমন কষ্ট তেমনি আজ আমার যে বোন নির্যাতিত হলো তার কষ্টের মাঝে আমি কোন তফাৎ খুঁজি না।১৯৭১ সালে রাতের আধারে খুন হওয়া আমার বাবার কষ্ট আর স্বাধীন দেশে দিবালোকে খুন হওয়া বিশ্বজিৎ এর কষ্ট আমাকে সমান নাড়া দেয়।আমার কাছে সব মৃত্যু সমান কষ্টের।আর তাই আমার চোঁখে যুগে যুগে নির্যাতনকারী সকল মানুষ এক একটা রাজাকার।কেউ এনালগ যুগের আবার কেউ বা ডিজিটাল।কেউ পরাধীন দেশের কেউ বা স্বাধীন!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




