somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“ডেসপেরাটলি সিকিং আনসেন্সর্ড” এর অর্থ হয়লো খোলামেলা জিনিস হন্ন হয়ে খুঁজা”

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্বি এ উদ্দেশ্যেই প্রায় এক বছর আগে গ্রুপটি খুলা হয়েছিলো। ডিসু নামেই বর্তমানে বেশী পরিচিত। সেক্স বিষয়ক সাধারণ মানুষের যে ট্যাবু তা ভাঙ্গানোর জন্যই এটি একটি দারুণ প্লাটফর্ম হিসেেবে কাজ করতো।একটি নির্দিষ্ট বয়সেরর পর সবারই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি অাকর্ষণ জন্মায়। সে জিনিসগুলো পরিবারের সাথে শেয়ার করা যায় না। প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে এ গ্রুপে আসতো, তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতো। যেহেতু সিকিং গ্রুপ তাই মেম্বারদের সহায়তায় তার যথাযথ সাহায্যও পায়তো। ধীরে ধীরে গ্রুপটি বড় হতে থাকে, একসময় পরিণত হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি গ্রুপে। আনসেন্সর্ড কথাবার্তার মাধ্যমে মজা নেওয়াটাই ছিলো এ গ্রুপের প্রথম উদ্দেশ্য। ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষগুলো এ গ্রুপে আসতো, বিভিন্ন পোস্টে বিভিন্ন কমেন্ট পড়ে তাদের রাত কাটতো। ডিপ্রেশনের রাতগুলোতে এশ ট্রেতে সিগারেটের ছাই ফেলে গভীর মনোযোগ দিয়ে এ গ্রুপের কমেন্ট পড়া অনেককেই আমি চিনি। ডিসু অনেক বড় একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। যেহেতু আমরা বাঙালি তাই সব ইস্যুতেই পাছার মতো দুটো ভাগে বিভক্ত হওয়া এ জাতির স্বভাব। এ জাতি অন্যজনের ভালো কখনোই সহ্য করতে পারে না, বড়ই অভিমানী জাতি আমরা!
ডিসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এ গ্রুপ নাকি পর্ণোগ্রাফি সাপ্লাই দেয়, বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ গড়ে তোলে। দেশ বরেণ্য সকল ধর্ষক নাকি এ গ্রুপ থেকেই টিপস নিয়ে ধর্ষণ করতে যায়। আর কিছু কী বাদ পড়েছে? ও আচ্ছা হ্যা মনে পড়েছে। এ গ্রুপের মেম্বাররা ভিডিও করে তা গ্রপে ছেড়ে দেয়! আসলে ভাইসাব আপনাদের সস্তা অনলাইন জার্নালিজম দেখে নিভৃতে হাসা ছাড়া আর তেমন কিছুই করা যায় না। পর্ণ কী ফেসবুকে এলাউড? এটি কী ফেসবুকের রুলস এন্ড রেগুলেশন ভঙ্গ করে না? এতোদিন ধরে ফেসবুক চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে যা জানি তাহলো যে জিনিস ফেসবুকের রুলস মেনে চলে না তা ফেসবুক থেকেই ডিলিট দেওয়া হয়, মূর্খ মানুষ তাই তেমন বিশেষ কিছু জানি না। এখন আমার উৎসুক মন জানতে চাই যে জিনিস ফেসবুকই এলাউ করে না তা ফেসবুকের একটি গ্রুপে কেমনে দেওয়া হয়? নাকি ফেসবুকের এ পলিসি কেবলমাত্র ডিসু মেস্বারদের জন্যই চেঞ্জড?
ডিসুর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে এ গ্রুপের মেম্বাররা নাকি ভিডিও করে তা গ্রুপে ছেড়ে দেয়। প্রখ্যাত আট মিনিটকে তারা মাশাআল্লাহ্ বহুত বড় রেফারেন্স হিসেবে ইউজ করছেন। এখন আমার প্রশ্ন হলো আপনি কী আসলেই আট মিনিটের ভিডিওটি দেখেছেন? দেখে থাকলে তো ভাই এ ধরণের মন্তব্য করার কোনো জায়গায়ই দেখছি না। ভিডিও তখনই বাইর হয় যখন কেউ তা ভিডিও করে, পরে নিজেদের খামখেয়ালীর ফলে নিজেরাই লিক করে। ভিডিও করলে দোষ নাই, ভিডিও লিক করলে দোষ নাই, ভিডিও দেখলেই দোষ? হিপোক্রেসি লেভেল তো মাশাআল্লাহ্ বিয়োন্ড ইনফিনিটি। যেহেতু গ্রুপটি আনসেন্সর্ড তাই এগুলো নিয়ে অনেকে মজা করবেই, এটিই স্বাভাবিক, কিন্তুু এডমিনরা দেখা মাত্রই তো সেসকল পোস্ট ডিলিট দিতো, একটি ফেসবুক গ্রুপের এডমিন হয়ে এর থেকে বেশী কী করা যায়? গ্রুপের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে এ গ্রুপের মেম্বাররা অন্যের আপত্তিকর ছবি তুলে গ্রুপে দেয়। ভাইসাব আপনি কী গ্রুপের রুলস পড়ে এসেছেন না ভিডিওটি শেষ হবার পর গিয়ে পড়বেন? স্পষ্টত ইংলিশ হরফে লিখা আছে অন্যের পার্মিশন ছাড়া কোনো পিক গ্রুপে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে আপনি যদি ইংলিশ না বুঝেন তাহলে কী আর করার।
আপনাদের আরো কিছু সস্তা অনলাইন জার্নালিজম দেখেছি। আরো অভিযোগ উঠেছে এ গ্রুপ থেকে নাকি মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে তাদের ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়। এরকম হয়লে তো ভাই দ্বীনদুনিয়ায় আর কেউ গরিব থাকতো না। সবাই মোটামোটি বিল গেটসকে টক্কর দেওয়ার মতন বড়লোক হই যায়তো। অভিযোগ যেহেতু তুলেছেন সেহেতু তা প্রমাণ করে দেখান। ডিসুর বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ আমি অস্বীকার করছি না। হ্যা স্বীকার করি এটি একটি আনসেন্সর্ড গ্রুপ, এখানে আনসেন্সর্ড কথাবার্তা বলা হয়। কিন্তু গোপনে বসে চটি৬৯ এর চটি পড়া থেকে খোলামেলা আলোচনা করে একটি বিষয়ের ট্যাবু দূর করা কী ভালো না? আমি তো তা ভালো চোখেই দেখি।
আপনারা ভালো মানুষ, আপনারা সমাজের ভালো বুঝেন, আপনারাই সমাজের খারাপ বুঝেন, সে খারাপ দিকটা অন্যকে বলে আপনারা কাঁদতেও জানেন। কিন্তু খুব বেশী জানতে ইচ্ছা করে সে খারাপ দিকটা ভালো দিকে পরিণতি করতে আপনারা কী করছেন? মানলাম ডিসু একটি আনসেন্সর্ড গ্রুপ, কিন্তু এখানে হওয়া ভলো কাজগুলো সম্পর্কে আপনারা কী কোনো ধারণাও রাখেন? মাঝরাতে রক্তের প্রয়োজন? ডিসুতে পোস্ট দাও, দশ মিনিটের ভেতর ডোনার ম্যানেজড। যাদের আপনারা ভবিষ্যত ধর্ষক ট্যাগ দিয়ে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ খেতাব দি দিয়েছেন তারাই মধ্যরাতে রক্তের প্রয়োজনে থাকা রোগীদের রক্ত দিতে যায়। ঈদে যখন আপনারা বাপের কামানো টাকায় এসি গাড়িতে আয়রন মেইডেন ছাড়ি ঘুরে বেড়ান তখন এ বিকৃত মস্তিষ্ককের মানুষরাই পথশিশুদের কাপড় দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর কাজে ব্যাস্ত ছিলো। টাকার অভাবে পড়তে না পেরে রিকশাচালানো একজনকে এ বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষরাই পড়ালেখার ব্যাবস্থা করে দেয়। একজন শিক্ষকের মেয়ের চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হোক কিংবা মেধাবী ছাত্র মিনারের জীবন বাঁচানোর জন্য অর্থ সহযোগীতা, সবক্ষেত্রে এ বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষরাই এগিয়ে এসেছে। অভিযোগ তুলেন ডিসু ভবিষ্যত ধর্ষক তৈরী করে কিন্তু তার আড়ালে এসব কিছু খুব সুন্দর করে আড়াল করার শিল্প আপনারা খুব ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। ডিসু যদি কোনো ভিডিও ভাইরালের প্রধান মাধ্যম হয় তাহলে কয়েক বছর আগে যখন ডিসু ছিলো না তখন প্রভা-রাজিবের বের হওয়া স্ক্যান্ডাল গুলো কে ভাইরাল করে?
ঐ ভিডিও তো কোটিপতি ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালাদের মোবাইলে পর্যন্ত ছিলো। আপনারা কাউন্টার টেরিজম ইউনিট দ্বারা ভার্চুয়াল জগতের একটি মামুলি গ্রুপের তিনজন এডমিনকে ধরেন কিন্তু ঐ পাশে তনু,খাদিজা, রিশারা মরি পঁচি থাকুক, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই। পাঁচ বছরের একটি মেয়েকে নরপশুরা ধর্ষণ করে, ঐ নরপশুর নামে থানায় প্রথমে কেস নেয় না।।তখন তো আর কেউ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঐ নরপশুরে ধরতে যায় না, তা ভাই আপনার ক্ষমতা আছে তা আপনি দুর্বলের উপর প্রদর্শন করে দেখালেন? বাহ! আজ ডিসু নাই। তাই আজ মধ্যরাতে কেউ রক্ত জোগাড়ে উঠে পড়ে লাগে না। আজ ডিসু নাই, তাই পাঁচ বছরেরর বাচ্চা ধর্ষণের ঘটনায় ফেসবুক গরম হয় না। প্রকৃতির নিয়মে হয়তো একদিন সবই যাবে। আজ ডিসুও গিয়েছে। মুখোশধারী ভদ্রলোকদের মুখোশও একদিন এ প্রকৃতিই খুলে দিবে। খুব সুন্দর করে আপনারা হয়তো একটি গ্রুপকে বন্ধ করে দিয়েছেন কিন্তু তা মানুষের মন থেকে রিমুভ করতে পারবেন? না, তা পারবেন না।
জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:৩৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×