somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন খাবারে কি বিষ, হচ্ছে কোন রোগ!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এ কে আজাদ : পৃথিবীতে এমন কোনো জীব নেই যা আহার ছাড়া বাঁচতে পারে। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রত্যেকটি জীবকেই খেতে হয়। মানুষও খায়। কিন্তু সেই খাবারে যদি থাকে বিষ, তাহলে তো তা নিশ্চিয়ই দুশ্চিন্তার ব্যাপার। কারণ, এই খাবার খেয়েই মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে জটিল রোগে ভুগছে।

বর্তমানে বাজারে এমন কোনো খাবার পাওয়া মুশকিল যাতে রাসায়নিক বিষক্রিয়া পাওয়া যাবে না। ফলমূল, মাছ-মাংস, শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাবার মেশানো হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক। এসব রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে- ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কারবাইড, সোডিয়াম সাইক্লেমেড, কালারিং এজেন্টস, হেপ্টাক্লোর, মেলামিন, ইঞ্চিনের পোড়া তেল, হরমোন ও সালফারিক এসিড। আর এসবের প্রভাবে কিডনি, ফুসফুস, যকৃত নষ্ট, ও স্মরণ শক্তি হ্রাস, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, বন্ধাত্ব, কিডনিতে পাথর ও ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

দৈনন্দিন আমরা যেসব খাবার খাচ্ছি সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো হয়। যা ধীরে ধীরে মানব শরীরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। শরীরে বাঁধে দুরারোগ্য ব্যাধি। মানুষকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণা বাজারের প্রায় প্রতিটি খাবারে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ল্যাবরেটিতে ৫০ ধরনের বিভিন্ন খাবারের ১০ হাজারের বেশি আইটেম নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ৬০ শতাংশ খাবারেই বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তথ্যানুযায়ী কোন খাবারে ক্ষতিকর কোন রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর প্রভাবে কি ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তা তুলে ধরা হলো।

কলা: কলায় মেশানো হয় বিষাক্ত রাসায়নিক ‘আলড্রিন’। এর প্রভাবে খিঁচুনি হতে পারে এবং ধীরে ধীরে মানুষের চেতনা শক্তি হ্রাস পেতে পারে।

আপেল: আপেলকে সংরক্ষণ করার জন্য তাতে মেশানো হয় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘আলফা ক্লোরড্যান’। যার প্রভাবে লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমা’র মতো মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার হয়।

আনারস: আনারস সংরক্ষণে এতে ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ইথিওন’। এর প্রভাবে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যা হয়। এছাড়া এর ফলে শ্বসনযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিম: সিম সংরক্ষণে তাতে মেশানো হয় রাসায়নিক পদার্থ ‘বেটা বিএইচসি’। যা মানবদেহের শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।

বাধাকপি: বাধাকপি সতেজ রাখতে ব্যবহার করা হয় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক বিষক্রিয়া ‘গাম্মা বিএইচসি’। এর ফলে মরণব্যাধি ক্যান্সার ছাড়াও মানুষের শ্বসনযন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে।

টমোটো: টমেটো সংরক্ষণে এতে ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ইথিওন’। এর প্রভাবে শ্বাসকষ্ট ছাড়াও শ্বসনযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুধ: দুধে মেশানো হয় মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘আলড্রিন’ এবং ‘ফরমালিন’। এর প্রভাবে খিঁচুনি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

শুটকি মাছ: শুটকি মাছ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয় ‘ডিডিটি’ নামের মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মারাত্মক রাসায়নিক। এর প্রভাবে ক্যান্সার হতে পারে এবং গভবর্তী নারী জন্ম দিতে পারে বিকলাঙ্গ শিশু অথবা জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

পাউরুটি/কেক জাতীয় খাবার: পাউরুটি এবং কেক জাতীয় শুকনো খাবারে মেশানো হয় বিষাক্ত রাসায়নিক ‘সাব-স্ট্যান্ডার্ড ইয়েস্ট’। যার প্রভাবে ডায়েরিয়া, বমি এবং এলার্জি হতে পারে।

চাল: চালে পাওয়া গেছে ‘আর্সেনিক’ ও ‘ক্রোমিয়াম’ নামে বিষাক্ত রাসায়নিক। যার প্রভাবে ত্বক, ফুসফুস, মুত্রথলি ও মুত্রাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও এর ফলে শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

গুড়া হুলদু: গুড়া হলুদে অস্তিত্ব মিলেছে ‘লিড (সীসা)’ ও ‘ক্রোমিয়াম’ নামে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক বিষক্রিয়ার। যার প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্র বিনষ্টসহ শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

মাছ: মাছে মেশানো হয় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ফরমালিন’। এর প্রভাবে ব্রনকাইটিস ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হয়।

গাজর: শুটকি মাছ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয় ‘ডিডিটি’ নামের মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মারাত্মক রাসায়নিক। এর প্রভাবে ক্যান্সার হতে পারে এবং গভবর্তী নারী জন্ম দিতে পারে বিকলাঙ্গ শিশু অথবা জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

ক্যাপ্সিকাম: ক্যাপ্সিকামে পাওয়া গেছে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘গাম্মা’ ও ‘ক্লোরডেন’। এর প্রভাবে যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি ছাড়াও হজম শক্তি নষ্ট ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।

ডিম: ডিমে মেশানো হয় এন্ডিবায়োটিক জাতীয় রাসায়নিক ‘সিপ্রোফ্ল·াসিন’। এর ফলে ডায়েরিয়া ও বমি হতে পারে।

মুরগির মাংস: মুরসগির মাংস সংরক্ষণে এতে ব্যবহার করা হয় এন্টিবায়োটিক জাতীয় রাসায়নিক ‘সিপ্রোফ্ল·াসিন’ ও ‘সালফোনামাইড’। যার প্রভাবে ডায়েরিয়া, ত্বক খসখসে হওয়া ছাড়াও বমি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে ওই গবেষণায় তিলের তেল, গোলমরিচ ও মেথিতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

(সংগৃহীত)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×