somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেনে নিন মিথ্যাবাদী ধরার সহজ ১০ টি কৌশল :)

৩১ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক সময়ই মনে হয় সামনের ব্যক্তিটি মিথ্যে বলছেন না সত্যি তা যদি জানা যেতো তাহলে অনেক ভালো হতো। অন্তত বোঝা যেতো তিনি কী ধরণের মানুষ। সত্যি বলতে কি, মিথ্যাবাদী কিন্তু বেশ সহজেই ধরে ফেলা যায়। বিহেভিওরাল এনালিস্ট এবং বডি ল্যাংগুয়েজ এক্সপার্ট ডঃ লিলিয়ান গ্লাস যিনি এফবিআই এর সাথে সংকেতের মাধ্যমে মিথ্যাবাদী ধরার মতো কাজ করছেন, তার মতে মিথ্যা বলার সময় মিথ্যেবাদীর মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসে যেমন মুখভঙ্গি, বডি ল্যাংগুয়েজ, কথা বলার ধরণ ইত্যাদি। এই জিনিসগুলো ভালো করে লক্ষ্য করতে পারলেই খুব সহজে ধরে ফেলা যায় কে মিথ্যে বলছেন, কে বলছেন না। তিনি তার বই ‘দ্য বডি ল্যাংগুয়েজ অফ লায়ারস’এ এই মিথ্যেবাদীর মধ্যকার পরিবর্তন সম্পর্কে লিখেছেন।

১) হুট করেই মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে কথা বলবেন
আপনার একটি প্রশ্নের জবাবে হুট করে মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলার অর্থ তিনি আপনাকে মিথ্যে বলছেন। ‘মাথা নিচু করে ফেলা, মাথা ঝাঁকিয়ে অন্য দিকে হেলানো ইত্যাদি এর অর্থ হচ্ছে তিনি মিথ্যে কথা বলছেন’, বলেন গ্লাস।

২) শ্বাসপ্রশ্বাসে পরিবর্তন আসবে
যিনি মিথ্যে কথা বলছেন বা বলার চেষ্টা করছেন তার শ্বাস প্রশ্বাসে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবর্তন আসবে। মিথ্যা বলার সময় ভারী নিঃশ্বাস নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে উল্লেখ করেন গ্লাস। আর যখনই শ্বাস প্রশ্বাসে এই ধরণের পরিবর্তন আসবে তখন স্বাভাবিক ভাবেই নিঃশ্বাসের সাথে কাঁধ একটু উপরে উঠবে এবং কণ্ঠ একটু হালকা হয়ে আসবে। গ্লাস বলেন, ‘যখন মিথ্যা কথা বলা হয় তখন আমাদের দুশ্চিন্তা ও নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারণে হার্টবিট ও রক্ত সঞ্চালনে পরিবর্তন চলে আসে, যার ফলে শ্বাস প্রশ্বাসের এই পরিবর্তন ঘটে’।

৩) অনেক বেশি স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকবেন
নার্ভাস হয়ে উসখুস করার বিষয়টি অনেকের নজরে পড়ে থাকে এবং তখন ধরে ফেলা যায় তিনি মিথ্যে বলছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি নজর দিতে হবে সামনের ব্যক্তিটি কি খুব বেশি স্থির হয়ে গিয়েছেন কিনা। গ্লাস বলেন, ‘এটি সাধারণ নিউরোলজিক্যাল ফাইট হতে পারে, কারণ স্বাভাবিক ভাবে যখন আমরা সত্য কথা বলি তখন আমাদের হাত পা আমাদের অবচেতন মনের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু যখন মিথ্যে বলা হয় তখন আমাদের অবচেতন মন থেকে আমাদের দেহ কোনো সাড়া পায় না, যার ফলে খুব বেশি স্থির হয়ে যাওয়া হয়’।

৪) একই কথা বারবার বলতে থাকবেন
যখন কেউ মিথ্যে কথা বলে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে তখন সেই মিথ্যেটা নিজের মনের মধ্যে গেঁথে নেয়ার জন্য হলেও একই শব্দ বা বাক্য বারবার মুখে উচ্চারিত হয়ে যাবে। আর এই বারবার একই কথা বলার মূল কারণ হলো এর পেছনে সে ভেবে নিচ্ছে পরের কথাটি কীভাবে সাজিয়ে বলা যায়।

৫) অনেক অপ্রয়োজনীয় কথা বলে ফেলবেন
‘যদি কেউ প্রশ্ন না করার আগেই আপনাকে অনেক কিছু বলে ফেলছেন এবং আপনি যা জানতে চাননি তাও বলে দিচ্ছেন এমন হয় তাহলে ব্যক্তিটি আপনাকে মিথ্যে বলছেন তার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে’। গ্লাস আরও বলেন, ‘যখন কেউ মিথ্যে বলেন তখন তিনি অতিরিক্ত কথা একারণেই বলেন যাতে আপনি তার কথা বিশ্বাস করে নেন’।

৬) মুখের কাছে হাত নিয়ে বা মুখ ঢেকে কথা বলবেন
কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় যদি হাত মুখের সামনে নিয়ে কথা বলা বা মুখের সামনে নিয়ে আসেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে ইতস্ততবোধ করছেন। গ্লাস বলেন, ‘যখন পূর্ণ বয়স্ক কেউ এই ধরণের কাজ করেন তার অর্থ হচ্ছে তিনি প্রশ্নটির সত্য উত্তর দিতে চাচ্ছেন না’।

৭) ঘন ঘন পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করবেন
পায়ের অবস্থানে পরিবর্তন বলে দেবে আপনার সামনে বসা মানুষটি মিথ্যে বলছেন যার কারণে তিনি অনেক নার্ভাস। গ্লাস বলেন, ‘এই পায়ের অবস্থান পরিবর্তন বেশ ভালো একটি কৌশল কারো মিথ্যে ধরে ফেলার’।

৮) কথা মুখে বেঁধে যাবে বা কথা বলতে কষ্টবোধ করবেন
‘আমাদের দেহের অটোম্যাটিক নার্ভাস সিস্টেম স্যালাইভারি ফ্লো কমিয়ে দেয় যখন আমরা অনেক বেশি মানসিক চাপে থাকি, যার কারণে আমাদের মুখের মিউকাস মেমব্রেন্স শুকিয়ে যায়। এবং এতে করেই কথা বলতে মুখে বেঁধে যায় বা কথা বলতে কষ্ট হতে থাকে’। মিথ্যা বলার সময় আমরা একই ধরণের মানসিক চাপের মধ্যে থাকি।

৯) একদৃষ্টিতে তাকিয়ে কথা বলবেন
সকলেরই ধারণা যারা মিথ্যে কথা বলেন তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু আপনাকে কথা বিশ্বাস করানোর জন্য এবং নিজের কথা মানিয়ে নেয়ার জন্যও অনেক মিথ্যাবাদী আপনার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মিথ্যে বলতে পারবেন। গ্লাস বলেন, ‘যখন আমরা সাধারণ ভাবে কথা বলি তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা চারপাশে তাকিয়ে কথা বলি এবং স্বাভাবিক নিয়মেই চোখের পাতা ফেলি, কিন্তু একজন মিথ্যেবাদী স্বাভাবিক এই নিয়মটি মানতে পারবেন না এবং তার চোখের পলক ফেলাও হবে নিয়ন্ত্রিত’।

১০) আপনাকে দোষী করে কথা বলতে থাকবেন
যখন একজন মিথ্যাবাদী নিজের কথা বিশ্বাস করাতে পারবেন না তখন তিনি আত্মরক্ষার খাতিরে উল্টো আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করেই কথা বলতে থাকবেন। কারণ স্বাভাবিক ভাবেই আপনি তার কথা বিশ্বাস না করার কারণে তিনি ক্ষেপে যাবেন।

(সংগৃহীত)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×