আলমগীর মহিউদ্দিন বাণী দিয়েছেন: ২৯শে অক্টোবরের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা দেখুন,
"এ দেশ থেকে বৃটিশরা চলে যাবার পর সবচেয়ে কালো দিবস ২৮শে অক্টোবর। এ ধরণের পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা কখনো ঘটেনি।" তিনি মিডিয়ার বিকৃত প্রতিবেদন ছাপা প্রসঙ্গে বলেন, "মিডিয়ার এ অবস্থা চলতে থাকবে।"
ভেবেছিলাম বাহবা দেব মিডিয়ার এই অতন্দ্র্য প্রহরীকে তাঁর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল প্রায় দশ বছর আগের একটা মন খারাপ করা ঘটনা। আমাদের পাড়ার একটা ছেলে --- বয়সে চার/পাঁচ বছরের ছোট হ'লেও আমরা সব একসাথেই খেলাধূলা, বাঁদরামী করতাম। পাড়তুতো ভাই-ই বলতে পারি তাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পা দিয়েই একটা ভুল করে বসলো সে। কে জানে কি বুঝে যোগ দিলো ইসলামী ছাত্র শিবিরে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই হয়তোবা বোধোদয় হ'লো তার। সিদ্ধান্ত নিলো শিবির থেকে বেরিয়ে আসবার। আর সেই সিদ্ধান্তই তার কাল হ'লো।
আমাদের পাড়ারই প্রান্তে এক নির্জন সন্ধ্যায় তাকে ঘিরে ধরলো একদল শিবিরের কর্মী (শুনেছি এদের সঠিক নাম রুকন, কর্মী নয়)। এরপরই শুরু হ'লো অমানুষিক প্রহারের পালা। প্রায় ঘণ্টাখানেক নাকি চলে এ বর্বরতা। আশেপাশের লোকজন মুমূর্ষু ছেলেটাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। প্রায় দু'সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে হার মানতে হ'ল তাকে।
এত সহজ, সরল একটা ছেলের ওপর কেন ওদের এতো অন্ধ ক্রোধ ছিলো, তা আমরা হয়তো কখনোই জানতে পারবো না। একবার শিবিরে যোগ দিলে তাদের ত্যাগ করা কি ইসলাম ধর্ম ত্যাগের মতোই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ? যার জন্য প্রাপ্য চরম শাস্তি?
নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মহাশয় হয়তো এসব ঘটনাকে অত "কালো" মনে করেন না। তিনি যে জামাতীদের সমাবেশে ষোলই ডিসেম্বরকেই কালো দিবস বলে আসেননি তাতেই আমাদের খুশী থাকা উচিৎ। আর পঁচিশে মার্চ কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারী কে এ পাঁকের মধ্যে নাই বা টেনে আনলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


