somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পলাপলি খেলার গল্প এবং আমাদের ছেলেমেয়েরা

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ঘটনা বলি।
সিনেমার ঘটনা। সিনেমার নাম 'হাওয়া বদল' । সিনেমাটির নায়ক শিল্পী মানুষ, গান-বাজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এক বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকেন। একদিন এক ভদ্রমহিলা সেই বাসায় এলেন, তিনিও সম্ভবত শিল্পজগতের সাথে সম্পৃক্ত, ভদ্রমহিলার ওজন মাশাল্লাহ ভালো(কেন ওজনের কথা বললাম, সেটা পরে বলছি)। তার সাথে কিছুক্ষণ আলাপচারিতার পর নায়কের উপলব্ধি হল, ভদ্রমহিলাটির 'উদ্দেশ্য' মোটেও ভদ্র নয়। সেই মহিলা নায়কের ইজ্জত লুটের চেষ্টা করলেন। ইজ্জতই জগতের একমাত্র জিনিস, যা একবার লুট হলে ফুরায় না। এই বস্তু বারবার লুট হয়, ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক লুট হয়। যা-ই হোক, সেই মহিলা যখন নায়কের ইজ্জত লুটের চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন সেই বাড়ির মালিক দরজা নক করলেন (মহিলার ওজন-জনিত কারনে সম্ভবত নিচের ফ্লোরে ধুপ-ধুপ শব্দ শোনা যাচ্ছিল, বাড়িওয়ালার আগমনের সেটা একটা কারন হতে পারে)।

ভেতর থেকে দরজা খোলার পর বাড়িওয়ালা উঁকি দিয়ে দেখলেন এবং যা বোঝার বুঝলেন। ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি দিয়ে তিনি বললেন,' পলাপলি খেলছেন বুঝি? সে অবশ্য খেলতেই পারেন, শিল্পী মানুষ বলে কথা, আপনারাই তো খেলবেন।'

'পলাপলি' খেলা এবং এর সাথে শিল্পী হবার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর বিষয়। আমাদের রাজনীতিকরা একেকজন বড় বড় শিল্পী- এটা অস্বীকার করলে উনাদের অপমান করা হবে। যেমন ধরুন, কোন ড্রাইভার বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ-হত্যা করলে সে বিষয়ে পরিবহন-শ্রমিকদের বন্ধুপ্রবণ মন্ত্রী শাজাহান খান শৈল্পিকভাবে ড্রাইভারদের পাশে দাঁড়ান। যথারীতি কোন বিচার হয় না। শুধু পক্ষে দাঁড়িয়ে নয়, বিপক্ষে দাঁড়িয়েও শিল্পের খেলা দেখানো সম্ভব। যেমন আমাদের সম্মানিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক'দিন আগে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে দুষ্টু চিকিৎসকদের শাসন করার আহ্বান জানালেন; জনপ্রতিনিধিরা কিছু করার আগেই কোন এক জনপ্রতিনিধির আত্মীয় এক চিকিৎসককে সম্প্রতি ভরপুর ধোলাই দিলেন, 'সূর্যের চেয়ে বালি গরম' টাইপের অবস্থা। অবশ্য তাতে কোন সমস্যা হয়নি, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীর বাড়িতে না গেলে তো চিকিৎসককে শাসন করা যেতেই পারে! ঘটনার পর সর্বত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জয়জয়কার। দুষ্টের দমনে সিদ্ধ মন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমার কোন কারন নেই।

আলোচ্য দুই মন্ত্রীর শিল্পের সাথে জনতার পরিচয় ভালোমতোই হয়েছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পী নাহিদ সাহেবের বেলায় জনগণ বিভ্রান্ত। তিনি স্পষ্টভাবে কিছু বলেন না, যা বলেন তা সব সময় করেনও না। পরীক্ষার পর জানা যায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, তিনি বলেন ফাঁস হয় নাই। আবার পরীক্ষার আগে তিনি বলেন প্রশ্ন ফাঁস হবে না, পরে দেখা যায় প্রশ্ন ঠিকই ফাঁস হয়েছে। এ ধরনের 'পলাপলি' খেলা তাঁর মতো শিল্পীর পক্ষে সহজ হলেও জনগণের জন্য কষ্টকর। শিক্ষামন্ত্রীর উচিৎ হবে স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং কাজ করা। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো মন্ত্রীর পক্ষে অসম্ভব হলে মন্ত্রী নৈতিক অবস্থানের কারনে পদত্যাগ করা, তবে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের মতো তুচ্ছ জিনিসের ধার ধারে না। সুতরাং নাহিদ সাহেবের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না(আসলে সে প্রশ্নও ফাঁস করে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ)।

তারচেয়ে নাহিদ সাহেব এক কাজ করতে পারেন। ফাঁস ঠেকানোর ভান না করে সবার হাতে হাতে প্রশ্ন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে যেতে পারে, ব্যানারে লেখা থাকবে-
'ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কেউ পাবে, আর কেউ পাবে না-
তা হবে না, তা হবে না'

বড় মন্ত্রীরা পুরো জাতির সাথে স্বচ্ছভাবে 'শিল্পচর্চা' করেন, অথচ নাহিদ সাহেব জাতির কোমলতম অংশের সাথে 'পলাপলি' খেলছেন। উনার ইমেজ এবং বয়সের সাথে এই 'পলাপলি' শোভনীয় নয়।

আমরা সামান্য জনগণ, শাসকের হস্তীতুল্য দেহ আমাদের নিয়ে এভাবে পলাপলি খেললে আমরা বারবার মেধায়-মননে-শরীরে শুধু লুট হতেই থাকব। মাঝেমধ্যে হয়তো ক্ষীণ হেসে বলব-

' পলাপলি খেলছেন বুঝি? সে অবশ্য খেলতেই পারেন, শিল্পী মানুষ বলে কথা, আপনারাই তো খেলবেন।'
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×