somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একনজরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ও কিছু করণীয়

০১ লা আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
সমস্যাঃ প্রচুর রোগী আসছেন হাসপাতালগুলোতে। এমনিতেই সরকারী হাসপাতালে বেড, আনুসঙ্গিক রসদ, ও জনবলের বিরাট সংকট আছে। সেখানে ডেঙ্গি রোগীর স্থান-সংকুলান করা কঠিন।

সম্ভাব্য সমাধানঃ সকল রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার হয় না, বিশেষত গুরুতর লক্ষণসমূহ (রক্তক্ষরণ, বারবার বমি, অজ্ঞান বা খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি) দেখা না দিলে হাসপাতালে গিয়ে লাভ নেই। বরং ক্ষতি আছে। আমাদের হাসপাতালগুলো রোগের আখড়া, নানা জীবাণুর বসতবাড়ি বলা যায়। সুস্থ লোক কিছুদিন থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে অধিকাংশ সরকারী হাসপাতালেই এমন পরিস্থিতি। কাজেই নিকটস্থ এমবিবিএস চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে বাড়িতে যথাযথ চিকিৎসায় থাকলে রোগী ভালো থাকবে। দরকার হলে হাসপাতালে যাবেন, অন্যথায় দৌড়াদৌড়ি করে নিজের, রোগীর, ও অন্যদের কষ্ট দেবেন না।

২.
সমস্যাঃ সরকার ডেঙ্গি রোগ নির্ণয়ের খরচ বেঁধে দিয়েছে। ফলে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ওর বেশি টাকা নিতে পারছে না। তাতে অবশ্য লম্পটদের লাম্পট্য থেমে থাকছে না। পয়সা মারা হচ্ছে অন্য কায়দায়। প্রথমত- টেস্ট না করেই রিপোর্ট দেয়া (তাতে অল্প টাকা পাওয়া গেলেও পুরোটাই লাভ)। দ্বিতীয়ত, প্যাথলজিস্ট/মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দিয়ে রিপোর্ট না করিয়ে টেকনিশিয়ানদের দিয়ে করানো (এতেও পয়সা সাশ্রয় হয়)। এটা অবশ্য আমাদের বেসরকারি খাতের মহাজনেরা নিয়মিতই করেন, প্রকাশ্যে কেউ এ নিয়ে কথা বলে না। তৃতীয়ত, (এবং আসল জায়গা) রোগীকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রেখে আজকে স্যালাইন কালকে ব্লাড দিতে থাকা। নির্দিষ্ট লক্ষণ না থাকলে স্যালাইন/ব্লাড/প্লেইটলেট কিছুই দিতে হবে না। মুখে তরল খাবার ও কয়েকদিন বিশ্রামই অধিকাংশ রোগীকে সুস্থ করে তুলবে- এই সত্য জেনেও দেশের বেসরকারী হাসপাতাল মালিকেরা মহামারীকে জিম্মি করে ফায়দা নিচ্ছে।

সম্ভাব্য সমাধানঃ বেসরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গি চিকিৎসার সকল খরচ (ভর্তি, থাকা, ও অন্যান্য ব্যায়) সরকারীভাবে ঠিক করে দেয়া, যাতে রোগীদের উটকো পয়সা না গুণতে হয়। সেইসঙ্গে ডেঙ্গি টেস্টের কোয়ালিটি (সঠিকভাবে ও সঠিক বিশেষজ্ঞের তত্তাবধানে) নিশ্চিত করা। এই দুটো না করলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। এই প্রসঙ্গে যারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কাজ করেন তাদের দ্রুত উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে।

৩.
সমস্যাঃ দেশে মশক নিধন ও প্রতিরোধসামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। যুদ্ধ কিংবা দুর্ভিক্ষের সময় ভারতবর্ষের দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ীরা অমানবিকভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিতেন, কাজেই আজকের মূল্যবৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। এই ব্যবসায়ীরা আমাদের সমাজেরই অংশ। একটু আগে যেই ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের আলোচনা করলাম- তারাও। কাজেই জনগণের বিপদের ফায়দা এরা তুলবেই। ২০ টাকার ক্রিমের দাম নিবে ২০০ টাকা, ৫০ টাকার ওষুধ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ৫০০ টাকায় বেচবে।

সমাধানঃ গত ঈদে আড়ংয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বেশি দামে জিনিস বিক্রি করায় জরিমানা করেছিলেন, তাতে মিডিয়ায় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল। যাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আছে, তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে ঝটিকা অভিযান চালাতে পারেন। এতে জনগণকে পাশে পাবেন, দেশের বড়ো উপকার হবে।

৪.
সমস্যাঃ আমাদের ডোবা-নালা ও বাড়ির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এত সুন্দর যে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন করা কঠিন। সেগুলোতে মশা মারতে গেলে যে উপকরণ, প্রশিক্ষণ, জনবল ইত্যাদি দরকার, সিটি/পৌর কর্পোরেশনগুলোর তা নেই।

সমাধানঃ আমাদের দেশে প্রচুর বেকার মানুষ আছে, আছে ছোট ছোট এলাকাভিত্তিক সংগঠন। এখন খুব সম্ভবত আমরা একটি আদর্শ সময় পার করছি "পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ" এবং "কমিউনিটি ভলান্টারিজম" চর্চা করার। বুদ্ধিটা সহজ- এলাকার/শহরের ব্যবসাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি/পৌর কর্পোরেশনগুলোকে মশা মারার যন্ত্র/উপকরণ দেবে। কর্পোরেশনগুলো ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেবে, দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সহায়তায় মশক নিধন ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচী নেবে। বড়োজোর ১৫ দিনের কাজ, শেষে একটা করে সার্টিফিকেট/সম্মাননা দেয়া যেতে পারে। ওতে ছেলেপেলে ও তরুণেরা অনুপ্রাণিত হবে, অনেক কিছু শিখবে, দেশের কাজে হাত লাগাবার অভ্যেস গড়ে উঠবে।
-----------------
আরও অনেক সমস্যা আছে, সব লেখা সম্ভবও না, প্রয়োজনও নেই। দরকার সদিচ্ছা। তাহলে বিদ্যমান সমস্যা দূর হবে, নতুন সমস্যার জন্ম কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মশা মরা কঠিন, কারন তাঁর হাত দুইটা, আর মশা অগণিত। ভালো কাজে কারো আদেশ দরকার নাই, কারন বঙ্গবন্ধু নিজেই বলে গেছেন-
" আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি... প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল... তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে"

এখন সময় মোকাবেলার।
ডেঙ্গি থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করবার।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:০১
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×