গরীব দুখি কেউ কখনও তার নিকট থেকে খালি হাতে ফেরত যায়নি। তাই বকতিয়ার আহমেদ এলাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। সুপরিচিত ছিলেন ‘বড় সাহেব নামে’। জনগনের সুখ দুঃখে সব সময়ই তাদের পাশে থাকতেন। সমাজে ন্যায়নীতি বোধ ও প্রকৃত গুনিজনদের কদর নেই- এ নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকতেন। মূল্যবোধের অবয়, নৈতিকয়, বিকৃত জীবনাচার রোধ করতে না পারলে সমাজ দ্রুত ধ্বংশের দিকে ধাবিত হবে। এই সমাজকে নিশ্চিত এ ধ্বংসের হাত থেকে রার জন্য বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমাজে ন্যায়নীত প্রতিষ্ঠা ও গুনিজনদের সঠিক মূল্যায়নের কোন বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকেই বখতিয়ার আহমেদ কমলগঞ্জের স্ড়্গুল, কলেজের সম্মানিত শিক বৃন্দের সম্বনয়ে ‘গুনিজন সংবর্ধনা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এই পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত এই বাম রাজনীতিক স্বাধীনতা পরিবর্তী সময়ে ন্যাপ (মোজ্জাফর) কমলগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠার সাথে। আজীবন অবহেলীতদের পাশে ছিলেন বলে শেষদিকে রাজনীতিতে অস্বচ্ছ পরিস্থিতি উদভাব হলে তিনি রাজনীতিতে নিষ্কৃয় হয়ে যান, নিজেকে আত্ননিয়োগ করেন সমাজ সেবায়। তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্কৃয় হলেও রাজনীতির কোন বদনাম কুড়াননি। তিনি মেধা ও দতার সাথে তার ছোট ভাই প্রাক্তন এম,পি উপাধ্য মোঃ আব্দুস শহীদ (প্রাক্তন বিরোধী দলিয় চীফ হুইফ) এর প্রতিটি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এলাকায় নির্যাতিয়দের বিচার সালিশে তিনি অগ্রনি ভূমিকা পালন করতেন। সত্যকে সত্য বলতে কোন ভয় ছিল না উনার। সষ্টভাষীতা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মধ্যবিত্ত ও দুস্থ জনগনের কল্যানে নিবেদিত ছিল তার প্রাণ। সমাজ সেবায় বকতিয়ার আহমেদ ছিলেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বার বার গরীব মেহনতি মানুষের কাতারে থাকতে ভালবাসতেন। উচ্চ শিতি ও মার্জিত রুচির অধিকারী বকতিয়ার আহমেদ (৬৫) গত ২০শে ফেব্রুয়ারী ২০০৭ চলে গেলেন নিরবে। যেখান থেকে তিনি আর কোন দিন আসবেন না। কাউকে ভাবনা চিন্তার সামান্যতম সুযোগ না দিয়ে বীরত্ব নিয়েই চলে গেলেন। মৃত্যুর কয়েকমাস পূর্বেও তিনি কমলগঞ্জের বিদায়ী শিদের সমবর্ধিত করার এক মহান পরিকল্পনা নিয়ে ছিলেন। যাদের মত ও পথের সঙ্গী ছিলেন এবং যাদের জন্য জীবনপন করে ছিলেন তারা কিন্তু তাকে ভূলে যায়নি। বরং প্রাণের মমতায় সিক্ত করে চির বিদায়েরণে শেষ দেখার যাত্রী হতে সিদেশ্বরপুর গ্রামের বাড়ীতে নেমে ছিল মানুষের ঢল।
বকতিয়ার আহমেদ চলে গেলেও তার কর্মোদ্যম ও সহßদয়তা সহমর্মিতা ও তারুণ্য তাঁকে চিরস্বরনীয় করে রাখবে সবার মধ্যে। তিনি চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী হারিয়েছে এক র্দুদিনের সাথীকে, তরুণরা হারিছেয়ে এক পরম সুহßদকে, আর একই পথের সহ সাথীরা হারিয়েছেন এক নিবেদিত প্রাণ সহযোদ্ধাকে। দেশ হারিয়েছে এক নিঃস্বার্থক দেশ প্রেমিককে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






