somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বকতিয়ার আহম্মেদঃ দেশ প্রেমিক ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ

৩১ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীরব সমাজ সেবক, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষানুরাগী, অসাম্প্রদায়িক, সততা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বকতিয়ার আহম্মেদ ছিলেন একাধারে বহুগুনের অধিকারী। তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের নির্বাচীত কোন প্রতিনিধি না হয়েও সমাজের একজন অলিখিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করেননি তিনি। তাই দেশ ও সমাজ কিভাবে উপকৃত হবে এ কথাই ভাবতেন সারাণ। ১৯৪২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদেশ্বরপুর গ্রামের এক সম্ভ্যান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই সমাজ ও রাজনীতি সচেতন ছিলেন। তাই ছাত্র জীবনে বাম ছাত্র সংগঠন ও বাম রাজনীতি করতেন তিনি। ৬৯’র গন-আন্দোলনে খুবই সক্রিয় ছিলেন তিনি। শিক্ষা জীবনে ১৯৬২ সালে সিলেট এইডেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, সিলেট এম·সি· কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৬৮ সালে সিলেট গভঃ কলেজ থেকে স্নাতক ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাষ্টার্স পাশ করেন। ৭১’র মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন একজন সাহসী যুদ্ধার মতোই কমলগঞ্জ এলাকায় দতার সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন। কমলগঞ্জ এলাকার পাক-সেনাদের দখলে চলে গেলে বকতিয়ার আহম্মেদ এর পরিবারের উপর নেমে আসে অত্যাচারের ষ্টিমরোলার। পাক সেনারা তাকে আত্নসর্ম্পন করাতে তার চার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যের শমসেরনগর সেনাক্যাম্পে নিয়ে অনেক নির্যাতন করেছিল। কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশ মাতৃকারকে মুক্ত করার মানসে অটল থাকেন তিনি। যুদ্ধ পরবর্তী দেশের মানুষের পুণবার্সন করার কাজেও তিনি ছিলেন খুব তৎপর, যাদের ঘরবাড়ী নেই তাদেরকে কিভাবে আশ্রয় দেওয়া যায় তা নিয়েই গভীর চিন্তা করতেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ ফেরদৌস আরা আহমদ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ৭৬ সালের মাঝামাঝি সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে চলে যান। সেখানে সফলতার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বহুজাতিক কোম্পানীর দ কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেছেন। বিদেশে থেকে তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কথাই ভাবতেন। কর্মজীবনে তিনি স্বচ্ছতা ও সততার স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক বাংলাদেশী নাগরিককে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন। তিনি পরপোকারী মনের ছিলেন বলেই মধ্যবিত্ত, পরিবারের অনেক সন্তানদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক মনের অধিকারী সামাজিক ও সংস্ড়্গৃতিক কর্মকান্ড সব Ëেত্র তার উপস্থিতি ও সহযোগিতার হাত উন্মুক্ত ও প্রসারিত ছিল।
গরীব দুখি কেউ কখনও তার নিকট থেকে খালি হাতে ফেরত যায়নি। তাই বকতিয়ার আহমেদ এলাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। সুপরিচিত ছিলেন ‘বড় সাহেব নামে’। জনগনের সুখ দুঃখে সব সময়ই তাদের পাশে থাকতেন। সমাজে ন্যায়নীতি বোধ ও প্রকৃত গুনিজনদের কদর নেই- এ নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকতেন। মূল্যবোধের অবয়, নৈতিকয়, বিকৃত জীবনাচার রোধ করতে না পারলে সমাজ দ্রুত ধ্বংশের দিকে ধাবিত হবে। এই সমাজকে নিশ্চিত এ ধ্বংসের হাত থেকে রার জন্য বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমাজে ন্যায়নীত প্রতিষ্ঠা ও গুনিজনদের সঠিক মূল্যায়নের কোন বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকেই বখতিয়ার আহমেদ কমলগঞ্জের স্ড়্গুল, কলেজের সম্মানিত শিক বৃন্দের সম্বনয়ে ‘গুনিজন সংবর্ধনা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এই পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত এই বাম রাজনীতিক স্বাধীনতা পরিবর্তী সময়ে ন্যাপ (মোজ্জাফর) কমলগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠার সাথে। আজীবন অবহেলীতদের পাশে ছিলেন বলে শেষদিকে রাজনীতিতে অস্বচ্ছ পরিস্থিতি উদভাব হলে তিনি রাজনীতিতে নিষ্কৃয় হয়ে যান, নিজেকে আত্ননিয়োগ করেন সমাজ সেবায়। তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্কৃয় হলেও রাজনীতির কোন বদনাম কুড়াননি। তিনি মেধা ও দতার সাথে তার ছোট ভাই প্রাক্তন এম,পি উপাধ্য মোঃ আব্দুস শহীদ (প্রাক্তন বিরোধী দলিয় চীফ হুইফ) এর প্রতিটি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এলাকায় নির্যাতিয়দের বিচার সালিশে তিনি অগ্রনি ভূমিকা পালন করতেন। সত্যকে সত্য বলতে কোন ভয় ছিল না উনার। সষ্টভাষীতা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মধ্যবিত্ত ও দুস্থ জনগনের কল্যানে নিবেদিত ছিল তার প্রাণ। সমাজ সেবায় বকতিয়ার আহমেদ ছিলেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বার বার গরীব মেহনতি মানুষের কাতারে থাকতে ভালবাসতেন। উচ্চ শিতি ও মার্জিত রুচির অধিকারী বকতিয়ার আহমেদ (৬৫) গত ২০শে ফেব্রুয়ারী ২০০৭ চলে গেলেন নিরবে। যেখান থেকে তিনি আর কোন দিন আসবেন না। কাউকে ভাবনা চিন্তার সামান্যতম সুযোগ না দিয়ে বীরত্ব নিয়েই চলে গেলেন। মৃত্যুর কয়েকমাস পূর্বেও তিনি কমলগঞ্জের বিদায়ী শিদের সমবর্ধিত করার এক মহান পরিকল্পনা নিয়ে ছিলেন। যাদের মত ও পথের সঙ্গী ছিলেন এবং যাদের জন্য জীবনপন করে ছিলেন তারা কিন্তু তাকে ভূলে যায়নি। বরং প্রাণের মমতায় সিক্ত করে চির বিদায়েরণে শেষ দেখার যাত্রী হতে সিদেশ্বরপুর গ্রামের বাড়ীতে নেমে ছিল মানুষের ঢল।
বকতিয়ার আহমেদ চলে গেলেও তার কর্মোদ্যম ও সহßদয়তা সহমর্মিতা ও তারুণ্য তাঁকে চিরস্বরনীয় করে রাখবে সবার মধ্যে। তিনি চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী হারিয়েছে এক র্দুদিনের সাথীকে, তরুণরা হারিছেয়ে এক পরম সুহßদকে, আর একই পথের সহ সাথীরা হারিয়েছেন এক নিবেদিত প্রাণ সহযোদ্ধাকে। দেশ হারিয়েছে এক নিঃস্বার্থক দেশ প্রেমিককে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×