somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিষ্ঠুর প্রকৃতি আর কতো মৃত্যু চাও তুমি?

১৫ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাহাড় ধসে মাটির নিচে চাঁপা মৃত ওই এক বছরের শিশুটি তাদের কোন আপনজন নয়, নয় কোন রক্তের সর্ম্পক। সে তো অসহায় কোন এক মায়ের সন্তান। নিষ্ঠুর প্রকৃতি আর কতো মৃত্যু চাও তুমি? নাকি এসবই তোমার অভিশাপ?

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই তো পরিবেশ। পাহাড়, হাওর-বাওর, বনাঞ্চল ও জলাভূমি প্রকৃতির এসব কিছুইতো পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এগুলোকেই ঠিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের নিজেদের, আমাদের পরিবেশের স্বার্থে, আমাদের নিজেদের জীবনের তাগিদে।

গত ১১জুন চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০ এর উপরে। আর এ রকম স্মরণকালের প্রাকৃতিক দুর্যেêাগের সাথে আমাদের পরিচয় দীর্ঘ কয়েক বছরের।
১৯৭৪ সালেও প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মারাত্মক ভূমি ধস হয়েছিলো। তখন সম্পদের ব্যাপক য়তি হলেও মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ২জন। তবুও আমরা অতীত থেকে কোন শিক্ষা নেইনি। নির্বিচারেই কেটে যাচ্ছি পাহাড় ও বনাঞ্চল। যার কারণে দিনে দিনে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার আসল চেহারা। ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। এটি শুধু চট্টাগ্রাম নয় দেশের প্রতিটি বনাঞ্চল আজ গাছ কেটে উজার বনভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

প্রতিটি পাহাড় কেটে কিছু লোভী মানুষ গড়ে তুলেছে লেবু বাগান ও বসত বাড়ি। আবাসিক প্রকল্পের সাইন বোর্ডও শোভা পাচ্ছে পাহাড় কাটা অনেক সমতল জায়গায়। এ যেন আমরা নিজের হাতেই তৈরি করছি নিজেদের মরণ ফাঁদ। প্রতিনিয়ত প্রহর গুনছি মৃত্যুর। মুলকথা অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারনেই ঘটছে ভূমিধস। আমরা দেখেছি বৃটিশ আমলে সাহেবদের বসত বাড়ি বানানোর জন্য পাহাড় কাটা হলেও সেখানে ব্যাপক হারে গাছ লাগানো হতো।

আর তখন পাহড় কাটার পরিমাণও এত ব্যাপক ছিল না। ষাটের দশকে শিল্পায়নের নামে যে পরিমাণ পাহাড় কাটা হয়েছিল গত ১ দশকে এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে পাহাড় কাটার প্রতিযোাগীতায় নেমেছিলো কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কতিপয় হাউজিং সোসাইটির ব্যবসায়ীরা। গত ৫ বছরে পাহাড় কাটার দৌড়ে যোগ দিয়েছিলেন নব্ব ধনীক শ্রেণীর কিছু লোক। যারা পাহাড় কেটে গড়ে তোলেছিলেন শখের ‘বাগান বাড়ি’। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন বিকৃত হয়েছে। মাটি হয়েছে নরম। ফলে অতি বর্ষনের কারণে পাহাড় ধসে পড়ছে। কিন্তু এর দায়ভার কার? দেশে আইন আছে পাহাড় কাটা নিষেধ, বৃক্ষ নিধন নিষেধ কিন্তু বাস্তবে কতোটা প্রয়োগ হচ্ছে এই আইনের।

চট্টগ্রাম নগরির বাটালি হিল থেকে সীতাকুন্ড, প্রবর্তক সাইন বোর্ড ও জালালাবাদ পাহাড়কে ১৯৯৫ সালের বিশেষ মুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ কেউই মানছে না এ ঘোষণা। জেলা প্রশাসক অফিস থেকেই ইজারা দেয়া হয় পাহাড়ী খাস জমি। ফলে যে যার ইচ্ছেমতোই কাটছে পাহাড় ও পাহাড়ের গাছপালা। যুগযুগ ধরেই এই গাছপালাই বৃষ্টিজনিত ভূমিয়ের হাত থেকে পাহাড়কে ঠিকিয়ে রেখেছিলো। তাইতো নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন ও আজ পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ। কিন্তু যারা প্রতিনিয়ত লঙ্গন করছে এই আইন তাদেরকি কোন শাস্তি হয়েছে। আসলে শাস্তি দেবে কে?

আমাদের দেশে তো রক্ষকই পালন করছে ভক্ষকের ভূমিকা। এই মানুষগুলোর মৃত্যুতে তাদের কি আসে যায়, যাদের দায়িত্ব এই পাহাড় ও গাছপালাকে রক্ষা করা। পাহাড় ধসে মাটির নিচে চাঁপা মৃত ওই এক বছরের শিশুটি তাদের কোন আপনজন নয়, নয় কোন রক্তের সর্ম্পক। সে তো অসহায় কোন এক মায়ের সন্তান। নিষ্ঠুর প্রকৃতি আর কতো মৃত্যু চাও তুমি? নাকি এসবই তোমার অভিশাপ?

পাহাড় কাটার ফলে আমাদের যা ক্ষতি হবার তাতো হয়েই গেছে। কিন্তু এখনোও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই কাটা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। তাই সবার আগে প্রয়োজন পাহাড় কাটার মতো বিধ্বংসী কার্যকলাপ থেকে আমাদের বিরত থাকা। প্রশাসন ও জনগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আর যেন একটি পাহাড়েও না লাগে কোন কোদালের দাগ। কেটে ফেলা পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনঃরুদ্ধারের জন্য কার্যকর পদপে নেওয়া প্রয়োজন, প্রয়োজন স্বজন হারাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো।

ভবিষ্যতে আর যেন ভূমিধসের লাশ গুনতে না হয়। সে জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন ও জলাভূমিকে রক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হয়ে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাঁচবে পরিবেশ, বাঁচবো আমরা। ভারসাম্যহীন পরিবেশ ফিরে পাবে তার ভারসাম্যতা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×