somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি আকশি্নক + নাটকীয় + ভয়াবহ + রোমহর্সক ঘটনা********

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমি দুই বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা লোমহর্সক ঘটনা নিয়ে লিখব । ঘটনাটি ঘটেছে 2004 সালের ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিকে ।

মূল ঘঠনা শুরু করার আগে কিছু জিনিস জানিয়ে রাখি । তখন আমি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য হন্য হয়ে চেষ্টা করছিলাম । ফিনল্যন্ড থেকে এনট্রানস পরীক্ষা দেওয়ার অফার পেলাম । ছক্কা ফতে !!!! ভাবলাম এবার বুঝি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা সফল হলো । কিন্তু একটা প্রবলেম, তা হলো বাংলাদেশে ফিনল্যন্ডের কোন এম্বাসি নেই । ইনডিয়ার Delhi-তে গিয়ে ভিসা ফেস করতে হবে । এম্বাসেডরের সাথে কয়েকদিন ইমেইল চালাচালি হল যে কোনভাবে কি টুরিষ্ট ভিসাটা বাংলাদেশে বসে পাওয়া যায় কি না । কিন্তু না । আমাকে স্বশরীরে Delhi-তে গিয়ে ভিসা আনতে হবে এবং আগামী 10 দিনের মধ্যে apply করতে হবে । ভাগ্য ভাল ছিল যে পাসর্পোট আগের থেকে করা ছিল । পরের দুটো দিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটলো, ইন্ডিয়ার ভিসা নেওয়া থেকে শুরুকরে কলকাতা পর্যন্ত যাওয়ার টিকেট করে ফেললাম । জীবনের প্রথম ইন্ডিয়া সফর । তাই খুব আনন্দের মধ্যে ছিলাম । কিন্তু যাওয়ার পথে যে আমার জন্য একটা ভয়াবহ ঘটনা অপেক্ষা করছে তা ঘূনর্াক্ষরেও চিন্তা করি নাই । মূল ঘটনাটি ঘটে সাধারনত ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে ।

তখন আমার জানামতে কলকাতায় যাওয়ার ডাইরেক্ট বাস ছিল একমাত্র বি.আর.টি.সি, তাও আবার রাতে যেটা ছাড়বে সেটা । আমার এক মামা আমাকে বিদায় জানাল । কমলাপুর থেকে বাসটি কলাবাগানে আসলো নির্দিষ্ট টাইমের 10-15 মিঃ পর । তো যথারীতি আমি বাসে গিয়ে উঠলাম । কলাবাগান থেকে যাত্রী উঠানোর পর গাবতলী থেকে আরো কিছু যাত্রী উঠানোর পর আমরা ভেবেছিলাম আর বোধহয় কোন কাউন্টার নেই । কারন সাধারনত সব যাত্রী উঠার পর সিকিউরিটি পারপাসে ভিডিও করা হয় । আমরা বুঝতেই পারি নাই যে সাভার নবীনগরে একটা কাউন্টার আাছে । ওখান থেকে উঠল আরো চার যাত্রী । ঐ চার জনের ভিডিও করা হলো কি হলো না আমরা কেউ খেয়াল করি নাই । চার জনের মধ্যে কে কোন জায়গায় বসেছে খেয়াল নেই তবে একজন ড্রাইভারের ইমেডিয়েট পিছনের সিটে বসেছিল ।

তখন আনুমানিক 12 কিংবা সোয়া 12টা বাজছিল । রাতের জার্নি হলেও আমি কিন্তু সহজে ঘুমায় না । বাস তখন মানিকগনজ দিয়ে যাচ্ছিল । হঠাৎ দেখলাম বাসটার গতি কমে গেল এবং কিছুটা ঠলে উঠল । দেখলাম শেষ চার যাত্রীর অসাধারন ডাকাতি তৎপরতা । সামনে যে ছিল সে কোন ফাকেঁ যে ড্রাইভারের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিল বুঝতে কিছু সময় লাগলো । বাকি তিন জনের মধ্যে দুইজনের হাতে পিস্তল আর শেষ জনের ছোরা ছিল । একজন পিস্তল ধারী সামনে দাড়িয়ে সবকিছু নজরে রাখছিল আর বাকী দুইজন ডাকাতি চালিয়ে যাচ্ছিল এবং যাত্রীদের মারধর করছিল ।

বাসের মধ্যে আমি ছিলাম ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় । আমি টোটাল 400ডলার নিয়েছিলাম আর 1000টাকার মত বাংলাদেশী টাকা । 400ডলারের মধ্যে 200ডলার রেখেছিলাম আমার পকেটের মধ্যে আর বাকিটা ছিল ব্যাগের মধ্যে । তো যখনই বুঝলাম যে বাস ডাকাতি হচ্ছে তখনি ঐ 200ডলার দুই সিটের মাঝখানের ফাকা জায়গার মধ্যে আমি লুকিয়ে রাখলাম, ভেবেছিলাম ডাকাতরা খুজে পাবে না ।

ডাকাতদের মুখে খালি একটা কথাই শুনা যাচ্ছিল "......ডলার দে ........... ডলার দে" । ওরা যাত্রীদের চড় থাপপর কিলঘূষি মেরে যার কাছ থেকে যা পাচ্ছে তাই নিয়ে নিচ্ছে । মেয়েদেরকে খুব খারাপভাবে গালি এবং ডলার পাওয়ার জন্য গোপনীয় জায়গাগুলোতে পর্যন্ত খোজা বাদ রাখছে না । আর ঘটনার আকশি্নকতায় হতবিম্ভ আমি বুঝতেই পারলাম না কখন যে একজন এসে চিৎকার দিয়ে বলল ডলার দে । বললাম ''আমার কাছে ডলার নাই'' । একটা গালি দিয়েই আমার পকেট সার্চ শুরু করে দিল । আমার মানিব্যাগ, আইডি কার্ড ও কিছু প্রয়ো জনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেল । ভাগ্য ভালো আমার পাসপোর্ট ও কিছু অতি সেনসেটিভ কাগজপত্রউপরে ব্যাগের মধ্যে ছিল । ডাকাতরা অনেকের পাসপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছিল ।

মনে মনে ভাবলাম ডলারগুলি বুঝি এ যাত্রায় বেছে গেল । কিন্তু না, আরেকজনকে দেখি অপরদিক থেকে লুকানো ডলারের খোজে সবাইকে রি-চেক করছে । আমি চুপচাপ বসে রইলাম । ভাবলাম ডলারগুলি বুঝি আর পাবে না । দ্্বিতীয় জন এসে যখন আমার কাছে কিছুই পেল না তখন সে আমার সিট ও আশেপাশে খোজা শুরু করে দিল । যখনই সে সিটের মাঝখান থেকে ডলারগুলি বের করল তখনই সে আমার উপর চেতে গিয়ে তীব্র গালিগালাজ করতে থাকল আর ছুরি দিয়ে এমনভাবে শাষাল যে আমি ভয় পেয়ে গেলাম । কিন্তু সে আমাকে ছুরি না একটা তীব্র ঘুষি দিয়ে সিটে বসিয়ে দিল । ঘুষির তীব্রতা এত বেশী ছিল যে পরবতর্ী কয়েক মিনিট কিছুই বুঝে উঠতে পারি নাই ।

কয়েক মিনিট পর দেখলাম ডাকাতরা এক জায়গায় বাস থামিয়ে পুরো বাসর্ভিত ফতুর যাত্রীদের অনিশ্চিত এক অন্ধকারের মধ্যে রেখে নেমে গেল । পরে যাত্রীদের চাপে চালক বাধ্য হয়ে বাস সংসলিষ্ঠ থানায় নিয়ে যাই । পুলিশ চালক ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে ।

পরে মালিক পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বাসে করে আমরা ঢাকাই ফিরে আসি । যাত্রীরা ঢাকাই পৌছানোর পর ক্ষতিপূরনের দাবিতে কাউন্টার ভাংচুর করে । পরে আমরা অবশ্য টিকেটের টাকা ফেরত পেয়েছিলাম । ফেরত পেলে কি হবে, এ রকম ভয়নকর পরিস্তিতিতে পরা আর তার থেকে জানে বেচে আসাটা আসলে ভাগ্যের ব্যাপার ।

দুদিন পর অবশ্য বিমানে করে ডাইরেক্ট Delhi গিয়েছিলাম...................
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×