মূল ঘঠনা শুরু করার আগে কিছু জিনিস জানিয়ে রাখি । তখন আমি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য হন্য হয়ে চেষ্টা করছিলাম । ফিনল্যন্ড থেকে এনট্রানস পরীক্ষা দেওয়ার অফার পেলাম । ছক্কা ফতে !!!! ভাবলাম এবার বুঝি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা সফল হলো । কিন্তু একটা প্রবলেম, তা হলো বাংলাদেশে ফিনল্যন্ডের কোন এম্বাসি নেই । ইনডিয়ার Delhi-তে গিয়ে ভিসা ফেস করতে হবে । এম্বাসেডরের সাথে কয়েকদিন ইমেইল চালাচালি হল যে কোনভাবে কি টুরিষ্ট ভিসাটা বাংলাদেশে বসে পাওয়া যায় কি না । কিন্তু না । আমাকে স্বশরীরে Delhi-তে গিয়ে ভিসা আনতে হবে এবং আগামী 10 দিনের মধ্যে apply করতে হবে । ভাগ্য ভাল ছিল যে পাসর্পোট আগের থেকে করা ছিল । পরের দুটো দিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটলো, ইন্ডিয়ার ভিসা নেওয়া থেকে শুরুকরে কলকাতা পর্যন্ত যাওয়ার টিকেট করে ফেললাম । জীবনের প্রথম ইন্ডিয়া সফর । তাই খুব আনন্দের মধ্যে ছিলাম । কিন্তু যাওয়ার পথে যে আমার জন্য একটা ভয়াবহ ঘটনা অপেক্ষা করছে তা ঘূনর্াক্ষরেও চিন্তা করি নাই । মূল ঘটনাটি ঘটে সাধারনত ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে ।
তখন আমার জানামতে কলকাতায় যাওয়ার ডাইরেক্ট বাস ছিল একমাত্র বি.আর.টি.সি, তাও আবার রাতে যেটা ছাড়বে সেটা । আমার এক মামা আমাকে বিদায় জানাল । কমলাপুর থেকে বাসটি কলাবাগানে আসলো নির্দিষ্ট টাইমের 10-15 মিঃ পর । তো যথারীতি আমি বাসে গিয়ে উঠলাম । কলাবাগান থেকে যাত্রী উঠানোর পর গাবতলী থেকে আরো কিছু যাত্রী উঠানোর পর আমরা ভেবেছিলাম আর বোধহয় কোন কাউন্টার নেই । কারন সাধারনত সব যাত্রী উঠার পর সিকিউরিটি পারপাসে ভিডিও করা হয় । আমরা বুঝতেই পারি নাই যে সাভার নবীনগরে একটা কাউন্টার আাছে । ওখান থেকে উঠল আরো চার যাত্রী । ঐ চার জনের ভিডিও করা হলো কি হলো না আমরা কেউ খেয়াল করি নাই । চার জনের মধ্যে কে কোন জায়গায় বসেছে খেয়াল নেই তবে একজন ড্রাইভারের ইমেডিয়েট পিছনের সিটে বসেছিল ।
তখন আনুমানিক 12 কিংবা সোয়া 12টা বাজছিল । রাতের জার্নি হলেও আমি কিন্তু সহজে ঘুমায় না । বাস তখন মানিকগনজ দিয়ে যাচ্ছিল । হঠাৎ দেখলাম বাসটার গতি কমে গেল এবং কিছুটা ঠলে উঠল । দেখলাম শেষ চার যাত্রীর অসাধারন ডাকাতি তৎপরতা । সামনে যে ছিল সে কোন ফাকেঁ যে ড্রাইভারের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিল বুঝতে কিছু সময় লাগলো । বাকি তিন জনের মধ্যে দুইজনের হাতে পিস্তল আর শেষ জনের ছোরা ছিল । একজন পিস্তল ধারী সামনে দাড়িয়ে সবকিছু নজরে রাখছিল আর বাকী দুইজন ডাকাতি চালিয়ে যাচ্ছিল এবং যাত্রীদের মারধর করছিল ।
বাসের মধ্যে আমি ছিলাম ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় । আমি টোটাল 400ডলার নিয়েছিলাম আর 1000টাকার মত বাংলাদেশী টাকা । 400ডলারের মধ্যে 200ডলার রেখেছিলাম আমার পকেটের মধ্যে আর বাকিটা ছিল ব্যাগের মধ্যে । তো যখনই বুঝলাম যে বাস ডাকাতি হচ্ছে তখনি ঐ 200ডলার দুই সিটের মাঝখানের ফাকা জায়গার মধ্যে আমি লুকিয়ে রাখলাম, ভেবেছিলাম ডাকাতরা খুজে পাবে না ।
ডাকাতদের মুখে খালি একটা কথাই শুনা যাচ্ছিল "......ডলার দে ........... ডলার দে" । ওরা যাত্রীদের চড় থাপপর কিলঘূষি মেরে যার কাছ থেকে যা পাচ্ছে তাই নিয়ে নিচ্ছে । মেয়েদেরকে খুব খারাপভাবে গালি এবং ডলার পাওয়ার জন্য গোপনীয় জায়গাগুলোতে পর্যন্ত খোজা বাদ রাখছে না । আর ঘটনার আকশি্নকতায় হতবিম্ভ আমি বুঝতেই পারলাম না কখন যে একজন এসে চিৎকার দিয়ে বলল ডলার দে । বললাম ''আমার কাছে ডলার নাই'' । একটা গালি দিয়েই আমার পকেট সার্চ শুরু করে দিল । আমার মানিব্যাগ, আইডি কার্ড ও কিছু প্রয়ো জনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেল । ভাগ্য ভালো আমার পাসপোর্ট ও কিছু অতি সেনসেটিভ কাগজপত্রউপরে ব্যাগের মধ্যে ছিল । ডাকাতরা অনেকের পাসপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছিল ।
মনে মনে ভাবলাম ডলারগুলি বুঝি এ যাত্রায় বেছে গেল । কিন্তু না, আরেকজনকে দেখি অপরদিক থেকে লুকানো ডলারের খোজে সবাইকে রি-চেক করছে । আমি চুপচাপ বসে রইলাম । ভাবলাম ডলারগুলি বুঝি আর পাবে না । দ্্বিতীয় জন এসে যখন আমার কাছে কিছুই পেল না তখন সে আমার সিট ও আশেপাশে খোজা শুরু করে দিল । যখনই সে সিটের মাঝখান থেকে ডলারগুলি বের করল তখনই সে আমার উপর চেতে গিয়ে তীব্র গালিগালাজ করতে থাকল আর ছুরি দিয়ে এমনভাবে শাষাল যে আমি ভয় পেয়ে গেলাম । কিন্তু সে আমাকে ছুরি না একটা তীব্র ঘুষি দিয়ে সিটে বসিয়ে দিল । ঘুষির তীব্রতা এত বেশী ছিল যে পরবতর্ী কয়েক মিনিট কিছুই বুঝে উঠতে পারি নাই ।
কয়েক মিনিট পর দেখলাম ডাকাতরা এক জায়গায় বাস থামিয়ে পুরো বাসর্ভিত ফতুর যাত্রীদের অনিশ্চিত এক অন্ধকারের মধ্যে রেখে নেমে গেল । পরে যাত্রীদের চাপে চালক বাধ্য হয়ে বাস সংসলিষ্ঠ থানায় নিয়ে যাই । পুলিশ চালক ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে ।
পরে মালিক পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বাসে করে আমরা ঢাকাই ফিরে আসি । যাত্রীরা ঢাকাই পৌছানোর পর ক্ষতিপূরনের দাবিতে কাউন্টার ভাংচুর করে । পরে আমরা অবশ্য টিকেটের টাকা ফেরত পেয়েছিলাম । ফেরত পেলে কি হবে, এ রকম ভয়নকর পরিস্তিতিতে পরা আর তার থেকে জানে বেচে আসাটা আসলে ভাগ্যের ব্যাপার ।
দুদিন পর অবশ্য বিমানে করে ডাইরেক্ট Delhi গিয়েছিলাম...................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
