রাতঃ 11:45 মিনিট
অবস্থানঃ অগ্রনী আল মনোয়ার এপার্টমেন্ট
ঠিকানাঃ 129 অগ্রনী আল মনোয়ার এপার্টমেন্ট, রমনা সেঞ্চুরি এভিন্যু, বড় মগবাজার, ঢাকা
মুড়ি খাবার ইচ্ছে হল। কিচেনে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর যেটা মিলল
সেটা দেখে যে কারো মাথা গরম হওয়ার কথা। একটা কৌটোর মধ্যে নেতানো
কিছু মুড়ি। মনে হয় রোজার মাসের।
আম্মু,আম্মু আমি মুড়ি খাব চানাচুড় দিয়ে।
ভালো কথা খাবি, তো চেচামেচির কি হলো?
আম্মু এসে দেখল আমার হাতে মুড়ির কৌটো ধরা তাতে মুড়ি নেই।
-মুড়ি নেই?
-না
-চানাচুর আছে না?
-তাও নেই
-তাহলে নুডুলস করে খেয়ে নে
-না, আমি মুড়িই খাব
- কোন ফাষ্টফুড খেয়ে নে
-না, আমি মুড়িই খাব। তুমি বাবাকে সামনের দোকান থেকে আনতে বলনা।
আমি পারবনা বলে মা তার রুমে চলে গেল। রাগে ক্ষোভে নিজের পার্টস খুঁজতে লাগলাম।
দেখি মাত্র 500 টাকার একটা নোট পরে আছে। ওটা শেষ করা যাবেনা। দেখি বাবার রুমের
লাইট জ্বলছে। চুপিচুপি রুমে ঠুকলাম। কাশি দিলাম। কোন সাড়া শব্দ নেই। বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরেছে। মানিব্যাগে দেখি 2000 টাকা। সেখান থেকে দ্রুত 100 টাকা নিয়ে বাসা থেকে লিফটে করে নীচে নেমে গেলাম । দেখি গেট লক্ করা। এদিক সেদিক তাকাতেই দেখি দাড়োয়ানকে। বোতলে পানি আনতে যাচ্ছে।
-সালাম দিয়ে বলল, আপা একটু দাড়ান।
-আচ্ছা
দাড়োয়ান অনেক দিনের পরিচিত। অনেক ছোট খাট কাজ সাবলিল ভাবেই করে দেয়। বিনিময়ে
হাসি ছাড়া কিছুই দিতে পারিনা। তবে আব্বু এদের বিভিন্ন অকেশনে টাকা দেয়। এবং সেটা আমার মাধ্যমেই। হাটতে হাটতে গেটের কাছে আসলাম। দেখলাম একজন লোক গেঠে আঘাৎ দিচ্ছে। একটু ঘাবরে গেলাম।
-গেটটা খুলুন একটু
40 থেকে 42 বছরের একজন লোক। পরনে লুংগি ও গেঞ্জী। খালি পা। মনে হয় কোথা থেকে
দৌড়ে এসেছে। কন্ঠে ভয়ের জড়তা।
-গেটটা খুলুন একটু
-বললাম না লক করা
-ঐতো খোলা আছে
-ধুর মিয়া আপনার মাথা খারাপ! গেট লক করা তখন থেকে বলে যাচ্ছি, আপনি শুনতে পাচ্ছেননা?
এর মধ্যে দাড়োয়ান এসে গেট খুলে দিল। লোকটি দৌড়ে সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে গেল।
-চেনেন ওনাকে? ওনার সমস্যা কি? কোন বিপদ?
-পুলিশ আসবে মনে হয়। আপনার কোন সমস্যা নেই। আপনি এই চেয়ারে বসেন। কি আনতে হবে আপা?
আমি 100 টাকা দাড়োয়ানের হাতে দিয়ে বললাম মুড়ি চানাচুড় নিয়ে আসেন। দাড়োয়ান চলে গেল দোকানে। চেয়ারে না বসে দাড়িয়ে আমি নানান কথা ভাবছি। লোকটি যখন গেট থেকে নিচু হয়ে ঢুকছিল তখন তার গলায় একটা মোটা সোনার চেন দেখতে পেলাম যার ওজন কমপক্ষে পাঁচ ভরি হবে কিন্তু লোকটি খালি পায়ে কেন?
তার কি খুব বিপদ? বাসায় কেউ কি অসুস্থ? আবার দাড়োয়ান পুলিশের কথা বলছে কেন? নানা প্রশ্ন মাথায় কিলবিল করতেছিল। এরমধ্যে দাড়োয়ান চলে এল।
আমায় মুড়ি চানাচুর আর টাকা হাতে দিয়ে বলল, আপা বাসায় যান। আমি চলে যেতে উদ্দ্যত হলাম। মনে মনে ভাবলাম এতো রাতে উনি আমার কাজটি করে দিলেন ওনাকে অন্তত 20 টাকা দেয়া দরকার। নিতে রাজি হলনা।
-বলল, আপা লাগবেনা রাখেন। সব সময়ইতো দেন
রাখেন 20 টাকা বলে ধমক দিলাম। দাড়োয়ান টাকা নিল কিন্তু একটা আবেদন পত্র জুড়ে দিল তার সাথে।
- এবার কোরবানীর ঈদে কিন্তু আমার মাইয়াডারে একটা জামা কেনোনের টাকা দিবেন আপনি।
আচ্ছা দেখা যাবে বলে রওনা দিতেই অনেক জুতার শব্দ। জুতার শব্দগুলো আমার বহুদিনের চেনা। সব হাই হিল। মানে মেয়েদের জুতা। 10 থেকে 15 জন মহিলা সাথে সেই লোক। লোকটির হাতে একটা ব্রিফকেস্ আর মেয়েগুলোর কাঁধে ভ্যানিটি ব্যাগ। সবাই এমন ভাবে দৌড়াচ্ছে মনে হচ্ছে যেন ফ্লাটে আগুন লেগেছে। কড়া মেকআপে খুবই সুন্দর লাগছিলো মেয়েগুলোকে। দাড়োয়ান আবার গেট খুলে দিল। হুড়মুড় করে সবাই বেড়িয়ে গেল। যাবার সময় সেই লোকটা দাড়োয়ানের কাছে চাবি দিতে চাইল। দাড়োয়ান চাবি নিলনা। দাড়োয়ান কি বিষয়টা জানে?
ফিরে যাচ্ছি বাসায়। ক্ষুধার্ত মুখগুলোর মাঝে নিজেকে বারবার মেলাতে চাইলাম। ওদের কি রাতের খাওয়া হয়েছে? মেলাতে চাইলাম দাড়োয়ানের ছোট্ট শিশুটিকে যার জন্য কিছুক্ষন আগেও ঈদের পোষাক কেনার জন্য আমার কাছে টাকা চাইল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



