somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সোনালী যুগের রাষ্ট্রপ্রধানের গল্প।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমাজে ন্যায়ের শাসন
থাকলে তার অবস্থা কেমন
হতে পারে তার একটি নমুনাও
বলা যেতে পারে একে।
রাসূলুল্লাহ সা. এর
ইন্তিকালের পর
ইসলামী খিলাফতের প্রথম
খলীফা হন হযরত আবূ বকর
রা.। তার
ইন্তিকালের পর খলীফা হন
হযরত
উমর রা.। এই উমর রা. এর
কথাই বলছি।
তার শাসনামল ন্যায় ও
ইনসাফের
উজ্জল আলোয় এমন
আলোকময় ছিল,
আজও পর্যন্ত ইতিহাস যার
দ্বিতীয়
নমুনা উপস্থাপন
করে দেখাতে সক্ষম হয়নি।
এসময় ইসলামী রাষ্ট্রের
আইন-কানুন
এবং নিয়ম-নীতি ছিল
অত্যন্ত
সুশৃংখল ও সুসংহত।
কোনো ধরণের
দুর্নীতি বা ফাঁক ফোঁকরের
অবকাশ
ছিলো না কোথাও।
রাজা হোক
বা প্রজা, আইনের
চোখে সবাই
সমান। কুরআন ও
সুন্নাহকে মানদন্ড
সাব্যস্ত করে রাষ্ট্রীয়
শাসন ও
ফায়সালার মূল ভিত্তি ছিল
ন্যায়
ও ইনসাফ। ন্যায় বিচার
যদি খলীফার বিপক্ষেও
যেতো,
তিনি তা মেনে নিতেন,
ইনসাফে স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধানও
যদি ক্ষতিগ্রস্থ হতেন
তিনি দ্বিমত
করতেন না।
উল্টো প্রতিশোধ
নেয়া তো দূরের কথা,
বরং ন্যায়
বিচারকে সাধুবাদ জানাতেন।
এমন অনেক ঐতিহাসিক
প্রামাণ্য
ঘটনাবলীর মধ্যে নিম্নোক্ত
ঘটনাও
তার একটি।
ইসলামী সম্রাজ্যের দ্বিতীয়
খলীফা হযরত উমর রা.
একবার
বাজার হতে নিজের
ব্যক্তিগত
কাজে একটি ঘোড়া ক্রয়
করলেন।
বিক্রেতার কাছে ঘোড়ার
সঠিক
মূল্য বুঝিয়ে দেয়ার পর
তিনি ঘোড়াটি নিয়ে কিছুদুর
অগ্রসর হতেই দেখা গেল যে,
ঘোড়াটি একটু
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছে। হযরত
উমর
রা. আকস্মিক ঘোড়ার এই
অবস্থা পরিবর্তন লক্ষ্য
করে কিছুটা চিন্তিত
হয়ে পড়লেন
এবং ঘোড়াটি বিক্রেতার
কাছে ফেরত দেয়ার মনস্ত
করে ঘোড়াটি নিয়ে বিক্রেতার
কাছে ফিরে এলেন।
হযরত উমর রা.
ঘোড়াটি বিক্রেতার
কাছে নিয়ে এসে বললেন,
তোমার এই
ঘোড়া ভালভাবে চলতে পারে না,
এটি খোঁড়া। তুমি এটি ফেরত
নিয়ে আমাকে আমার
টাকা ফেরত দাও।
কিন্তু বিক্রেতা এটা মানল
না।
সে বলল, আমি যখন
এটি আপনার
কাছে বিক্রি করেছিলাম,
তখন
তো এটি খোঁড়া ছিল না।
আপনার
হাতে যাওয়ার পর
এটি খোঁড়া হয়েছে।
সুতুরাং এটি তো আমার
দোষ না।
হয়ত আপনার কোন কাজের
কারণে ঘোড়াটি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে, তবে আমি কেন
আপনাকে টাকা ফেরত
দেবো?
বিষয়টি নিয়ে বিক্রেতার
সাথে হযরত উমর রা. এর
কথা বাড়তেই থাকলো কিন্তু
কোন
সমাধান হলো না।
অবশেষে তারা বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন
কাজী হযরত আমের
ইবনে শুরাহবিল
রা. এর কাছে আসলেন। তার
কাছে সমস্ত
ঘটনা খুলে বলে উভয়েই
নিজেদের
বক্তব্য রাখলেন এবং এই
পরিস্থিতিতে তাকে সমাধানের
অনুরোধ জানালেন।
হযরত আমের
ইবনে শুরাহবিল রা.
উমর রা.
কে জিজ্ঞাসা করলেন,
আপনি যখন এই
ঘোড়াটি তার
থেকে ক্রয় করেছিলেন তখন
কি এর
মধ্যে কোনো দোষ
দেখতে পেয়েছিলেন?
: হযরত উমর রা. বললেন, না।
কেনার
সময় এর মধ্যে কোন দোষ
ছিল না।
: হযরত আমের
ইবনে শুরাহবিল রা.
জিজ্ঞেস করলেন,
তাহলে আপনি স্বীকার
করছেন
যে, এই ঘোড়ার
মধ্যে খোঁড়াপনা এসেছে আপনার
হাতে আসা ও আপনার
চালানোর
পর?
: হযরত উমর রা. স্বীকার
করলেন যে,
হ্যাঁ। আমি এটি নিয়ে কিছুদুর
যাওয়ার পর তার
মধ্যে খোঁড়াপনা দেখতে পেয়েছি তার
আগে এর মধ্যে কোন
সমস্যা ছিল
না।
এরপর হযরত আমের
ইবনে শুরাহবিল
রা. উভয়কে লক্ষ্য করে এই
ফায়সালা দিলেন যে, যেহেতু
এই ঘোড়াটি ক্রয়ের সময়
এতে কোন
দোষ ছিল না, ছিল না কোন
লুকোচুরি, তাই এটির ক্রয়-
বিক্রয়
সম্পূর্ণ সঠিক
উপায়ে হয়েছে। তাই
এই ক্রয়-বিক্রয় উড্ড
করে বিক্রেতার
কাছ থেকে টাকা ফেরত
নেয়ার
কোন অধিকার ক্রেতার নেই।
হ্যাঁ,
তবে উভয়ে যদি সম্মত হয়
এবং ক্রেতা ঘোড়াটিকে তার
পূর্বের অবস্থায় সুস্থ্য-
স্বাভাব
িকভাবে বিক্রেতার
কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে,
কেবল তাহলেই
ক্রেতা বিক্রেতার কাছ
থেকে তার দাম
ফিরিয়ে নিতে পারবে অন্যথায়
নয়।
এমন সুন্দর বিচার
দেখে হযরত উমর
রা. ও সেই বিক্রেতা উভয়েই
বিচারকের এই
বিচারকে স্বাগত
জানালেন। উভয়েই তার
সিদ্ধান্ত
মেনে নিলেন। ন্যায় বিচারের
প্রয়োজনে স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধানের
স্বার্থের বিপক্ষেও
যে ফায়সালা হতে পারে, তার
একটি আদর্শ
উপমা হয়ে রইলো এই
বিচার।
এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয়
হলো, হযরত
উমর রা. হলেন মুসলিম
সালতানাতের প্রেসিডেন্ট
আর
হযরত আমের
ইবনে শুরাহবিল রা.
হলেন তাঁরই নিযুক্ত একজন
বিচারক।
কিন্তু তারপরও ন্যায়ের
শাসনের
ফলে বিচারের
ফায়সালা হযরত
উমর রা. এর স্বার্থের
বিপক্ষে একজন সাধারণ
ব্যক্তির
পক্ষে গেলেও
এক্ষেত্রে তার
করার কিছুই ছিল না।
বিষয়টি একবার আমাদের
এই
সমাজের
আলোকে চিন্তা করলে মাথা গুলিয়ে যাবে,
তাই না। কিন্তু এই
অসম্ভবই সম্ভব
হয়েছিল ইসলামী খিলাফত
ব্যাবস্থা বিদ্যমান
থাকা এবং তার স্বচ্ছ ও
সুন্দর শাসন
ব্যাবস্থা বহাল থাকার
কারণে। এর
পরের
ঘটনা আরো চমৎকার। এই
ফায়সালার কারণে, হযরত
উমর রা.
বিচারক আমের
ইবনে শুরাহবিল
রা. কে পদচ্যুত করেন নি,
বরং তাকে পদোন্নতি দেন
করেন
এবং প্রধান
বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ
দান করেন। যা আমাদের
আজকের
সমাজের অবস্থায় সম্পূর্ণ
অসম্ভব
বলে মনে হবে।
সোনালী যুগের কুরআন ও
সুন্নাহর
সেই শাসন পদ্ধতি আমাদের
সমাজে আবারও
যদি পুন:প্রতিষ্ঠা হয়,
তবে আমরা আবারও এমন
সুন্দর সমাজ
ও ন্যায়ের শাসন লাভ
করতে পারবো। মহান
আল্লাহ
আমাদেরকে তাওফীক দিন,
আমীন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×