somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুণ্ডা

০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল ৬.০০ টা। এক মনে কনডম ঘষাঘষি করে চলেছে ছাদ্দাম, আর কিছুক্ষন এর মাঝেই সরগরম হয়ে উঠবে বদি মিয়ার ক্যারামবোর্ড। সেই সাথে ভোর থেকেই চাঙা রয়েছে ক্যারামবোর্ডের দোকান লাগোয়া স্বপনের চা দোকান। নামে “স্বপন টি স্টল’ হলেও চাল ডাল সবই পাওয়া যায় স্বপনের দোকানে। ছোটো একটা দোকান ছিলো স্বপনের, তা থেকে আজ প্রায় ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, আর এসব ই হয়েছে বদি মিয়ার ক্যারামবোর্ডের কল্যাণে। বাজি ছাড়া খেলা হয়না বললেই চলে, যাও দু একদল বাজি ছাড়া খেলে তারা একটু পর পর চা সিগেরেট খেতেই থাকে। আর চা ঠান্ডা বাজি তো চলছেই। বেচা বিক্রী ভালোই হয় স্বপনের। এসবে মাথা ঘামায়না স্বপন, তার আসল কাষ্টমার আসে সন্ধ্যার পর। সোজা ক্যারামবোর্ডে যায়া ঢুকে, একটু পর পর বদি মিয়ার কর্মচারী সাদ্দাম আসে অমুক ভাই চা চাইসে, লগে সিগেরেট আর বিস্কুট। প্রথমেই ভালো একতা বিস্কিটের প্যাকেট দেয় স্বপন, সেই সাথে ঠান্ডা পানি। ইচ্ছা করে হাফ লিটার পানির বোতল দেয় সে, এতে লাভ বেশি। ঐসব নিয়ে যায় সাদ্দাম, এর মাঝেই চা বানায় স্বপন, সেই চায়ে দুই টাকা দামের দুই প্যাকেট বিস্কিট গুড়া দেয়, তারপর ডিব্বায় ভরে হিট দেয়। সাদ্দাম আসে নিয়ে যায় চা আর সাথে কিছু সিগেরেট। রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত এরকম বেশ কয়েকটা গ্রুপ আসে। কি খায় না খায় তার হিসাব কেবল স্বপন ই রাখে। খেলা শেষ হলে দোকানে আসে, কিরে স্বপন বিল কত হইসে? ভাই ২৬৩ টাকা। ২৬০ টাকা দেন জবাব দেয় স্বপন। প্রকৃত পক্ষে বিল হয় ১২০-১৫০ টাকা। না তুই আরেকতা সিগেরেট দে, ২৬৩+৮ =২৭১ নে তুই ২৭০ রাখ, তিন টাকা না এক টাকা কম রাখ। আর এরকম ৫-৬ টা গ্রুপের কারণে স্বপনের বাড়তি ইনকাম ৫-৬০০ টাকা। স্বপন সবসময় ঢাকাতি করেনা, মাসের ১০-২০ তারিখ বিল বলে ডাবল। ২০-৩০ তারিখ মোট বিলের উপর ৫০ টাকা বাড়ায়, আর ১-১০ তারিখ বাড়ায় ৩০ টাকা। এতে সন্দেহের অবকাশ পায়না খদ্দের। একদিন জানতে চেয়েছিলো বিপ্লব কিরে স্বপন ইদানিং বিল কম আহে ক্যা? “ভাই মাসের শেষ আপনেগো টানাটানি, আমারো টানাটানি, সিগেরেট আছিলো না দোকানে, কম দিছি। এল্লিগা বিল কম আইসে” চটপট জবাব দেয় স্বপন। সন্তুষ্ট হয় বিপ্লব, পোলা ভালো। নোয়াখাইল্লাদের দেখতে পারেনা বিপ্লব, কিন্তু আশেপাশে আর দোকান না থাকায়, তাছাড়া খেলার সময়ে দূর থেকে সদাই আনা ও যন্ত্রণা। কিন্তু আস্তে আস্তে নোয়াখাইল্লাদের পছন্দ করতে শুরু করেছে বিপ্লব। স্বপন প্রথমে এমন ছিলোনা, এলাকার কিছু ছেলেপের অবসান এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। স্বপন ব্যাস্ততার ফাকে হিসাব সবসময় রাখতে পারতোনা, তখন নতুন দোকানদার ছিলো, সবাইকে সাধু মনে বিশ্বাস করতো সে, যে যা খিয়াসে বলতো সে তাই মেনে নিত, আর ওরা একটু পর পর একটা করে সিগেরেট নিতো। যার জন্য স্বপন চাইলেও পারফেক্ট হিসাব রাখতে পারতোনা। আবার ‘আগে টাকা পরে সদাই’ এই সিষ্টেম চালু করার উপায় ও নাই। পোলাপান গুন্ডা টাইপের। মাস খানেক পরে স্বপন টের পেলো চালান থেকে টাকা বের না করলেও তা থেকে চালান কমে যাচ্ছে।

নিবিষ্ট মনে খেলা দেখছে সুহাস সরকার। খেলছে এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যাক্তি। টাকার প্রভাব নাই তবে অস্ত্রের আছে। উনারা ৬ গুটি খেলছে। যার যার সাইডের পকেট হলো পয়েন্ট পকেট। প্রতি বার নির্দিষ্ট গুটি পকেটে ঢুকাইলে ৬ পয়েন্ট। খেলা দেখার পাশাপাশি হিসাব ও রাখছে সুহাস। ৫ টা সাদা আর ৫ টা কালো গুটি রেখেছে সামনে। সাদা গুটি রাখছে নীল ভায়ের হিসাব আর কালো গুটি রাখছে সাকিব ভায়ের হিসাব। নীল ভায়ের পয়েন্ট হলে সাদা গুটি আলাদা করে রাখছে একটা আর সাকিব ভায়ের হলে কালোটা। এইভাবে দুজনের ই ২৪ হয়েছে। রঙ পকেটে গুটিউ যাচ্ছে, আবার নতুন বোর্ড শুরু হচ্ছে। ক্যারাম খেলায় সাধারণত পাশে যারা থাকে তারা অনেকেই সাজেশন দেয়ার চেষ্টা করে, বা যে কোনো একপক্ষের সাইড নিয়ে সদা হাস্যত্মক ভাবে প্রতিপক্ষে কে ব্যাঙ্গ করার চেষ্টা করে। ইচ্ছে থাকা সত্বেও তা পারছেনা সুহাস। যারা খেলছে তারা একে অপরে ঘনিষ্ট বন্ধু, তা ছাড়া দুজনেই সোহাগ রে ভালো জানে। যদিও এই মুহুর্তে সোহাগের ইচ্ছে হচ্ছে যে কোনো একজনের পক্ষ নেবার, কিন্তু সে কাউকেই পছন্দ করেনা বলে নিতে পারছেনা। আবার সহজাত প্রবৃত্তির কাছে হার ও স্বীকার করতে পারছেনা, আবার এলাকার একই ব্যাচের দুই বড় ভাই বলে নেওয়া যাবেনা, হিসাব রেখে উঠে যেয়ে সিগেরেট ও খাও্যা যাচ্ছেনা, এদের সামনেও খাও্যা যাবেনা মহা যণত্রণার বিষয়। এটা হচ্ছে ফসলা খেলা। সকাল ৮ টায় তাদের খেলা শুরু হয়েছে, এখন বেলা ১১ টা। এতক্ষন তারা যে খেলছে তাতে সমান সমান, মোট ২৯ টা গেম । যার ২৮ টা শেষ উভয়েই ১৪ করে জিতছে, এটা তে যে হারবে তাকে দিতে হবে ৫০০০ টাকা, আর যে জিতবে সে ইচ্ছা হলে ২৯ গেমের ২৯০ টাকা গেমভারা দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে। তবে দিয়া দেয় তারা। আবার এই টাকা দিয়া দুই বন্ধু একসাথে মদ খাবে। স্বপনের দোকানে বিল দেবার সময় সুহাস রে জিজ্ঞাইবো খাবি কিছু? খাইলে খা। সোহাগ না উত্তর দিবে। দুজনের একজন বলবে চা খা, অই স্বপন আমাগো তিন ভাই রে চা দে। সুহাস হাসিখুশি বদনে চা খাবে আর ওগো ১৪ গোষ্টিরে গালাগাল দেবে, তারপর তারা চলে গেলে একটা জন প্লেয়ার মুখে নিয়ে আড়ামে ফুকবে। তবে এই গেমের যে অবস্থা তাতে আরো ২ ঘন্টায় গেম উঠবে কিনা ভেবে পাচ্ছেনা সুহাস। কপাল ভালো থাকলে দুই মিনিট, না থাকলে তো হইলোই। একটা ফোন আসায় বের হয়ে আসে সুহাস, স্বপনের দোকান থেকে একটা জন প্লেয়ার নিয়ে টানতে টানতে রউনা দেয় পশ্চিম অভিমুখে। সেখানে পর্যাপ্ত কাজ রয়েছে সুহাসের।

চলবে

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কম্বলটা যেনো উষ্ণ হায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৭


এখন কবিতার সময় কঠিন মুহূর্ত-
এতো কবিতা এসে ছুঁয়ে যায় যায় ভাব
তবু কবির অনুরাগ বড়- কঠিন চোখ;
কলম খাতাতে আলিঙ্গন শোকাহত-
জল শূন্য উঠন বরাবর স্মৃতির রাস্তায়
বাঁধ ভেঙ্গে হেসে ওঠে, আলোকিত সূর্য;
অথচ শীতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেবকে আরো পা্ঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৪৪


আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি পুরো ১৫ মাস ধরেই ছিলো। মব করে মানুষ হত্যা, গুলি করে হত্যা, পিটিয়ে মারা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা, পুলিশকে দূর্বল করে রাখা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদির যাত্রা কবরে, খুনি হাসছে ভারতে...

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৬

হাদির যাত্রা কবরে, খুনি হাসছে ভারতে...

শহীদ ওসমান বিন হাদি, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

হ্যাঁ, সত্যিই, হাদির চিরবিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার এই মুহূর্তটিতেই তার খুনি কিন্তু হেসে যাচ্ছে ভারতে। ক্রমাগত হাসি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

'জুলাই যোদ্ধারা' কার বিপক্ষে যুদ্ধ করলো, হ্তাহতের পরিমাণ কত?

লিখেছেন জেন একাত্তর, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৫১



সর্বশেষ আমেরিকান ক্যু'কে অনেক ব্লগার "জুলাই বিপ্লব" ও তাতে যারা যুদ্ধ করেছে, তাদেরকে "জুলাই যোদ্ধা" ডাকছে; জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ ছিলো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ছাত্রলীগ; জুলাই বিপ্লবে টোটেল হতাহতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিকে মারল কারা এবং ক্রোধের আক্রশের শিকার কারা ?

লিখেছেন এ আর ১৫, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:০৩

হাদিকে মারল কারা এবং ক্রোধের আক্রশের শিকার কারা ?


হাদিকে মারল জামাত/শিবির, খুনি নাকি ছাত্রলীগের লুংগির নীচে থাকা শিবির ক্যাডার, ডাকাতি করছিল ছেড়ে আনলো জামাতি আইনজীবি , কয়েকদিন হাদির সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×