ক্রিস্টি,
এখন তুমি কেমন আছো, ক্রিস্টি?
কোন ভুবনে বিচরণ করছো তুমি?
কি আছে তোমার মনোলোকে?
কাকে খুঁজে বেড়ায় তোমার দুটো চোখ?
কি ভেবেই বা ক্ষণে ক্ষণে তুমি মুচকি হাসো?
অথচ-
এমনটি তো হওয়ার কথা ছিলনা।
মেধা ও মননের অপূর্ব সমন্বয়ে তুমি,
কতই না অসাধারণ ছিলে!
শ্বেতপরী হয়ে ছুটেছো এদিক ওদিক,
পীড়িতের সেবায় নিমগ্ন থেকেছো রাতদিন।
হঠাৎ,
মস্তিষ্কে তোমার নাড়া দিল এক অচেনা অতিথি,
দ্রুত সার্জারীতে দেখা গেল সে নির্দোষ।
ক্রমে সেরে উঠছিলে তুমি, প্রিয়জনের মুখে হাসি।
কিন্তু, কোথা থেকে যেন আবার কি হয়ে গেলো,
এন্সেফেলাইটিসে আবার অবচেতনে গেলে তুমি।
সেই থেকে-
পৃথিবীর ভার যেন নেমে এল তোমার দেহে,
তোমার জীবন হয়ে গেল চলৎশক্তিহীন, শয্যায় সীমিত।
পর পর এপিলেপ্টিক আক্রমণে দেহ হলো ক্ষতবিক্ষত।
তীব্র খিঁচুনিতে পড়ে যাও, কেটে যায় জিহ্বা,মুখ।
নিমেষেই হয়ে যাও অবোধ শিশুর মত, মাতৃনির্ভর!
সেই দিন,
কি জানি কেমন করে, দেখা হলো তোমার সাথে,
হাসপাতালের শয্যায় তুমি চেতন, তবে বোধহীন।
চিরচেনা ডাক্তারের দেখা পেয়ে মুচকি হেসেছিলে,
মাথায় হাত বুলানোর সময় তাকে ‘স্যরি’ বলেছিলে,
কারণ অযত্নে তোমার চুলগুলো ‘গ্রীজি’ হয়েছিল।
বেদনাবিধুর
সেই শয্যাপাশে ছিল তোমার মা, আর বিশ্বস্ত স্বা্মী।
চোখে তাদের গভীর হতাশা, মুখে চিন্তার বলিরেখা।
কঠিন সময়ে কবিমনা ডাক্তারকে বলতে হয়েছিলো,
নিষ্ঠুর সত্যকথা। দিন যাবে খারাপের দিকে, দিনদিন।
শুন্যের কোঠায় মিলিয়ে যাবে তোমার স্মৃতি একদিন!
আমি ছিলাম,
সেই সত্যকথনের সাক্ষী, আর প্রার্থনা করেছিলাম,
'ফিরিবার পথ নাই' কথাটা যেন মিথ্যে হয়ে যায়!
বন্ধ হওয়া পথের চাবি যার হাতে, মর্ত্যে নেমে এসে
তিনি যেন খুলে দেন বদ্ধ দুয়ার, আবার যেন হাসিমুখে
ফিরে আসে আমাদের ক্রিস্টি, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল!
ক্রিস্টিকে আমি দেখেছিলাম এক বিষন্ন বিকেলে, আমেরিকার একটি হাসপাতালের শয্যায়। শুনেছিলাম তার করুণ কাহিনী। ত্রিশের নীচে বয়স। নিজে নার্স ছিলেন, আজ তার জীবন নার্স নির্ভর। বিধাতা যেন তার অপার করুণায় তাকে সুস্থ করে দেন, এই ভাবনায় কবিতাটি লিখেছিলাম!
নিউ ইয়র্ক সিটি,
৩১ মে ২০১৩।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

