একটা গল্প বলি। মশা এসেছে মাছির বাড়ি; সাথে কিছু বাহারি ঘাস লতাপাতা। বেশ কয়েকদিন পর দেখা হয়েছে। তাদের প্রথম পরিচয় পর্বটা ছিল মশার কাছে স্বরণীয়। দুই পায়ের সেই নিষ্ঠুর প্রাণীগুলা যখন রাতে ঘুমাতে যাবে ঠিক তখন মশা গিয়েছিল নিজের অনাগত সন্তানের জন্যে রঙিন পানি পান করতে। সেই প্রানীগুলার অনেক শক্তি কিন্তু মশাদের চেয়ে ধীর। তা না হলে কার এত সাহস যে, ওই প্রাণীগুলার ধারে কাছে যায়! সেদিন রঙিন পানির নেশা এমন পেয়ে বসেছিল যে, আর একটু হলে এপার ছেড়ে ওই পাড়ে চলে যেতে হত যদি মাছি তার সুরের মুর্ছনায় ওই দুপায়ে প্রাণীটাকে সময়মত বিভ্রান্ত না করত। তাই মাছির কাছে মশার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।
যাক সে কথা, আজকে মশা ইচ্ছা থাকা সত্তেও মাছির জন্যে বেশি কিছু আনতে পারে নি। মশা অনেক গরিব, তার কি এত সাধ্য যে মাছির মন ভরাতে পারবে? মাছিকে অবশ্য এবারও বেশি খুশি করতে পারে নি কৃতজ্ঞ মশা। পরেরবারের জন্যে আরেকটা দীর্ঘ তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে মশার হাতে। কত দিন যে এভাবে কেটে যাচ্ছে তার কোন হিসাব নাই। নতুন জীবনের ঋণ শোধ করতে মশার চেষ্টার কোন ত্রুটি নাই। মশাটা এভাবেই তার বাকী জীবনটাকে নিজের অজান্তেই উৎসর্গ করেছিল মাছির জন্যে।
মাছিটা নিজেকে বড় চালাক মনে করে। মশা কখনোই বুঝতে পারে না যে মাছিটা সেচ্ছায় মশার জীবন বাঁচায় নি। এটা নিছক একটা কাকতালীয় ঘটনা ছিল। সেদিন মাছিটি অনেক ঘটা করে মশাকে তার বীরত্ব আর পরোপকারের কথা বর্ণনা করে শুনিয়েছিল; আর মশাটা তাতেই পুরো ফিদা। মাছিটা মশাকে যতটা নির্বোধ মনে করত আসলে মশাটা ছিল ততটাই মহানুভব।
এটা আসলে কোন সাজানো গল্প নয়। এটা এই পৃথিবীর একটা চলমান ঘটনা। মশাটাকে এতক্ষনে চিনে ফেলার কথা। এখন তো মশাটা আসল ঘটনা জেনে গেল। আমার কথা বিশ্বাস করা না করা যার যার ব্যক্তিগত ব্যপার। মাছিটা এই কৃতজ্ঞতাবোধের যোগ্য হলে মশার কাজকর্ম মানানসই ছিল। কিন্ত অপাত্রে মুক্তো ছড়িয়ে আমরা নির্বোদ্ধিতা আর বিলাসিতা করছি। এখন সময় হচ্ছে মশাটার নতুন জীবনের স্বপ্ন গুলাকে নিয়ে কাজ করা। জ়ীবনের ঋণ শোধ করার বৃথা চেষ্টা অনেক হয়েছে। এখন একটু খেয়ে পড়ে বাচঁতে চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




