আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক তো আর একদিনের নয়, বহুদিনের। দুই দলই অর্ধ শতাব্দী পাড় করেছে বহু আগে। সেই অর্থে তারা উভয়ই যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্ত। কিন্তু টিপাইমুখে বাধ নিয়ে তারা এমন আচরণ করছে যেন তারা উভয় উভয়ের ভাসুর! পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারী বিভিন্ন মহল থেকে এমনভাবে কথা বলা হচ্ছে যেন এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই না। ভারতকে তারা চটাতে চায় না। চটাতে মানে সম্পর্ক খারাপ আর কি! সে না হয় ঠিকাছে। কিন্তু ন্যায্য কথা বলবে না? আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি বলে তো কিছু একটা আছে, নাকি! আশ্চর্য, সাধারণ ন্যায্য দাবীর কথা বলতেও এতো কিসের দ্বিধা? কেন এখনো সরকার বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে সরকারীভাবে কোনো আপত্তি জানাচ্ছে না?
অন্যদিকে, বিএনপি জামাত শুরু করেছে আবার সেই পুরনো রাজনীতি- ভারত বিরোধী একটা হুঙ্কার তুলে বাংলার জনগণকে এক করার একটা হাস্যকর পাঁয়তারা। বিশ্ব রাজনীতি পাল্টে গেছে, সেটা তাদের বুঝতে হবে। না, তারা সেটা বুঝবেন তো না-ই, উল্টো এক কাঠি বেড়ে ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জনের অপসারণ দাবী করছেন। বিএনপির সংসদীয় কমিটি থেকে এই দাবী করা হয়েছে- অফিসিয়ালি। এর মানে কি? একটা প্রতিবেশী দেশের হাই কমিশনারকে আপনারা বের করে দিতে বলছেন। সেই হাই কমিশনার তো টিপাইমুখ নিয়ে ভারত সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কিছু বলেনি, বলেছে নিজের মতামত। তাতেই এরকম রিয়্যাকশন করা কি ঠিক? বিএনপির তো পররাষ্ট্র বিষয়ক এক্সপার্টরা রয়েছেন। তারা কূটনৈতিকভাবে সরকারের কাছে দাবী জানাতে পারে। টিপাইমুখে যেন বাধ নির্মাণ না হয় সেটা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু না, তারা সাধারণ এক হাই কমিশনার কি বলেছে তা নিয়ে ইস্যু তৈরী করছেন। জনগণ বোকা নয়। তারা সবই বোঝে।
দুই দলেরই বোঝা উচিৎ ভারতের সঙ্গে ঝগড়া করে নয়, কৌশল করে চলতে হবে। ভারতের স্বার্থপরতা আমরা দেখে আসছি, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে এ বাংলাদেশ সরকারেরও অপারগতা অবলোকন করছি। ফারাক্কা নিয়ে কিছুই করতে পারলো না কেউ। লীগ এখন মনে করছে টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধী দল কথা বলছে অতএব তাদের সুরে সুর মেলানো যাবে না- ভুল। সুর মেলাতে হবে জনগণের স্বার্থের সঙ্গে, দেশের মঙ্গলের সঙ্গে।
হীন রাজনীতি বন্ধ করে মহৎ হয়ে উঠুন--- আপনারা যারা নিজেদের রাজনীতিবিদ বলে দাবী করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


