somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ভূমিকম্প

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বসন্তের এক বিকেলে সুবীর কুমার যখন তার স্নান সেরে পুকুর ঘাট থেকে উঠছিল, ঠিক তখন ঘটনাটি ঘটে গেল এক নিমিষে। সে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পুকুর ঘাটায়। ঘটনাটি বিশেষভাবে তাকে নজর কাড়ে নি, কিন্তু তার হৃদপিন্ডকে ধসিয়ে দিয়ে গেছে।

দুপুরবেলা ঘন্টা খানেক ঘুমিয়ে উঠে স্ত্রীকে ভাত আনতে বলে সে বারান্দায় একটা পাটি বিছিয়ে বসে পড়ে। সেখান থেকে পুকুরের স্বচ্ছ জল দেখতে পায় সে। তখনই তার স্নান করার ইচ্ছে জাগে। সে অপেক্ষা করে কখন তার স্ত্রী ভাত নিয়ে আসবে।

তাদের বাড়ি ভরা গাছ-গাছালিতে ভর-পুর। সারাদিন পাখির কিচির-মিচিরের শব্দ শুনে তারা। বিশেষ করে কোকিল গান গেয়ে তাদের মন ভরিয়ে রাখে। বাতাসে গাছের পাতা-গুলো নড়তে দেখা যায়। টিনের উপর বাঁশ এসে ঘষ ঘষ আওয়াজ করে।

কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী ভাত নিয়ে আসে। তার সামনে দিয়ে বলে, নাও খাও। সেই কখন বেলা পড়ে গেছে আর এখন খাচ্ছ। দাড়াও জল এনে দেই। বলে সে জল আনতে টিউবওয়েলে যায়। বারান্দায় বসে সে টিউবওয়েলের শব্দ শুনতে পায়। কিছুক্ষণ একটানা শব্দ হতে থাকে। তারপর এক সময় থেমে যায়। জল এনে একটা গ্লাসে ঢেলে দেয় সে। ততক্ষণে সুবীর কুমার খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। ভাতের লোকমা মুখে পুড়ে সে বলল, বউ তুমি খাইছো নাকি?
হু। বলে সে তার প্রিয়তম স্বামীকে বাতাস করতে যায়, কিন্তু সুবীর নিষেধ করে বলে, তুমি সামনে বইস্যা থাক, এমনিতেই শরীর জুড়াইয়া যাইব। তার স্ত্রী হাসে, কিছু বলে না।
সে খাওয়া শেষ করে প্লেটে হাত ধুয়ে তার গলার গামছা দিয়ে হাত-মুখ মুছে। তার স্ত্রী এঠো প্লেট নিয়ে টিউবওয়েল পাড়ে যায় ধুতে।
খাওয়ার পর তার শরীরে আলস্য এসে যায়। সে একটা উড়া-মুড়ি দিয়ে পুকুর পাড়ে যায়। একটা প্রকান্ড আমগাছের গোড়ায় বসে। পড়ন্ত বিকালের রোদে পুকুরের পানি চিকচিক করে। তার চোখে আসে সেই রোদের প্রতিফলন। সাদা চকচকে দৃশ্য দেখে তার চোখ জুড়ায়। পুকুর পাড়ে এমনিতেই ঠান্ডা আবহাওয়া। তার উপর এখন বাতাস বইতে শুরু করেছে। তার অর্ধ-নগ্ন শরীর এখন জলের মত ঠান্ডা হয়ে গেছে।
অতঃপর সে পুকুরের দিকে যায়; ঘাট একটি মোটা গাছের কান্ড দিয়ে বেধে দেওয়া। সেখানে সে বসে পা দুলিয়ে দেয় পানিতে। আহ! কি আরাম? সে বলে উঠে মনের অজান্তে।
সে ঝাঁপ দিয়ে নামে, এক ডুবে ছেল্লৎ করে পুকুরের মাঝে চলে যায়। ফস করে মাথায় তোলে। স্বচ্ছ পানিতে তার দেহ দেখা যায়। শীতল পানিতে তার শরীরে আলস্য কেটে যায়। তার আর পানি ছেড়ে উঠতে মনে চায় না।
কিন্তু তার স্ত্রী তাকে ডাকে, হুনছো, ত্যাল নাই। বাজারে যাও।
সে চিৎকার বলে, যাইতেছি।
সে ধীরে ধীরে ঘাটলার দিকে যায়, সাতরে সাতরে। পা দিয়ে পানিতে আঘাত করে। জোরে জোরে করে। ইচ্ছে করেই করে। তার ভাল লাগে। ঘাটে এসে আরো কয়েকটা ডুব দেয়।

ঘাটে মাত্র উঠেছে, এমন সময় পুকুরের পানি খলখল করে উঠে। পায়ের নিচের মাটি কাঁপতে থাকে। সে ভয় পেয়ে যায়, হচ্ছে কি? কয়েকটা মাছ পুকুরপাড়ের লাফ দিয়ে উঠে ছট-ফট করে।
তার বুক ফাঁকা হয়ে যায়। ফাঁকা বলতে একেবারে ফাঁকা। তার যে বুকের ভিতর কিছু থাকতে পারে, এই অনুভূতি সে হারিয়ে ফেলে। তার শরীরও মাটির সঙ্গে সঙ্গে কাঁপে। প্রায় ত্রিশ সেকেন্ড এইরকম ভাবে পুকুরের পানি আর পায়ের নিচের মাটিতে প্রবল ঝড় বয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তার হৃদয়ে। যেন কেউ হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মারছে।
সবকিছু ঠিক-ঠাক। কিন্তু তার ভিতরের ফাঁকা ফাঁকা ভাবটা যায় না। তার মনে হয়, সে যদি পুকুরে তখন থাকত বা কোন উচু দালানে, তাহলে হয়ত মরেই যেত। সে ঘাটেই বসে পড়ে।
দূর থেকে চিৎকার করে তার স্ত্রী বলে, ভূমিকম্প হয়ে গেল।
সে বুঝে কিন্তু কিছু বলে না। তার শরীর তখনও কাঁপছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×