শোক-দুঃখ, কান্না-কাটা ও অশ্রু বিসর্জন মানুষের স্বভাবজাত। প্রকৃতিগতভাবেই এ বৈশিষ্টগুলো মানব জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর পরই ক্রন্দন দিয়ে তার এ পৃথিবী জীবনের সূচনা হয়। যদি কোন শিশু জন্মের পর না কাঁদে আমরা সেটাকে অস্বাভাবিক মনে করি এবং শিশুটির বেঁচে থাকার ব্যাপারে সন্দেহ পোষন করি। তখন সাথে সাথেই চিকিৎসক ডেকে এনে শিশুটির কান্নার ব্যবস্থা করি। যতক্ষণ পর্যন্ত সে না কাঁদে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তার বেঁচে থাকার ব্যাপারেও সন্দেহমুক্ত হতে পারিনা।
শুধু শিশুদের বেলায় কেন, বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এ সত্যটি অনস্বীকার্য। কোন লোক যখন তার পরম পাওয়ার কোন বস্তু হারিয়ে ফেলে কিংবা নিকটতম কোন প্রিয়জনের মৃত্যু ঘটে তখন মানুষ কেবল কান্নায় ভেঙ্গেই পড়েনা বরং নিজেকে নিজে আঘাত করে মাতম জারি করতে থাকে। যদিও সে জানে যে, এর দ্বারা তার হারানো বস্তু বা আত্মজনকে ফিরে পাবেনা। তথাপীও তার অন্তরের বিয়োগ জ্বালার কারণে সৃষ্ট অদৃশ্য শোকমাতম ও কান্নাকে রুখতে পারেনা। এমনকি কখনও ইচ্ছা না থাকলেও উষ্ণ অনুভূতির ভাবাবেগে মানুষ নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলে। এ ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, অনেকে শোকে-দুঃখে মূহ্যমান হয়ে একটি নিটল পাথরের মূর্তির আকার ধারণ করে। অর্থাৎ তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে. বোধশক্তি রহিত হয়ে যায় এবং সে হয়ে যায় একটা অস্বাভাবিক মানবমূর্তি। তখন এ ব্যক্তির বেঁচে থাকার ব্যাপারেও আমরা আশংকা বোধ করি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে কাঁদানোর নানারকম পদ্ধতি অবলম্বন করি।
বরং এসব ক্ষেত্রে যদি কোন লোকের মধ্যে দুঃখের ছাপ পরিলক্ষিত না হয় এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করে কিংবা আনন্দ উল্লাসের কোন কাজে শরীক হয় তখন লোকেরা তার সন্মন্ধে নানা রকম কথাবার্তা বলে থাকে। লোকেরা ধারণ করে যে, এ লোকটি পাষাণ হৃদয়ের লোক। এর মধ্যে মানবতা, মনুষত্ব ও মমত্ববোধ বলতে কি কিছুই নেই? সে অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রকৃতির একটি লোক। এজাতীয় আরও বহু ভৎর্সনা ব্যঞ্জক কথাবার্তা। লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বেদনা-বিধুর ও শোক-দুঃখ জনিত ঘটনাবলী যাদের মধ্যে কোনই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনা তারা হয় পাগল না হয় নির্বোধ মানব আকৃতির প্রাণী বিশেষ। অথবা হিংস্র প্রকৃতির এক পাষাণ।
(চলবে.............)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


