আল্লামা মুহাম্মদ আলী শারকি রচিত "কেয়াসে হক্ব" এর সপ্তম পাতায় লিপিবদ্ধ আছে যে, জন্মের পর থেকে মানুষের জীবন কিছু ঘটনাবলী ও অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে। যেমনঃ অসুখ-বিসুখ বা সুস্থতা, কেশোর-যৌবন বা বৃদ্ধাবস্থা, নিদ্রা-বিনিদ্রা হত্যাদি। এছাড়াও বিশেষ দু'টি অবস্থা হচ্ছেঃ সুখ-স্বচ্ছন্দ বা দঃখ-কষ্ট। প্রথম অবস্থাটা মানুষের মধ্যে তখন দেখা দেয় যখন তার মনে কামনা-বাসনা কিছুটা পূর্ণ হয় অথবা খোদার নেয়ামত লাভ করে। এরই বাহ্যিক প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তার চেহারায় আনন্দ ও খুশির ছাপ। দ্বিতীয় অবস্থাটা মানুষের মধ্যে তখন পরিলক্ষিত হয় যখন সে বুঝতে পারে যে, তার নিজের কিন্বা নিকটতম কোন আত্মীয়-স্বজনের অথবা আন্তরিক কোন বন্ধু-বান্ধবের কারো কোন ক্ষতি বা অপ্রত্যাশিত কোন কাজ সাধিত হয়েছে। এমতাবস্থায় তার প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়া ও প্রভাবটাই হচ্ছে তার চেহারায় শোক-দুঃখের ছাপ, কান্না-কাটা ও অস্থিরতা।
ক্রন্দনের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে মনজুর তাঁর "লিসানুল আরাব" ১ম খন্ড, ৮৭৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ "আল্-ফার্রা বলেনঃ ক্রন্দনের অর্থ হচ্ছে শোক-দুঃখ প্রকাশের সময় যে শব্দ বা আওয়াজ বের হয় অথবা অশ্রু বিসর্জন বা চোখ দিয়ে পানি নির্গত হওয়া।" এ পর্যায়ে আল্-খালিল বলেনঃ ক্রন্দন অর্থ উদ্বেগ বা আহাজারীর শব্দ।
খোদার গজব ও আযাবের ভয়ে কিন্বা জাহান্নামে দগ্ধ হবার ভয়ে অথবা খোদার নেয়ামত হাতছাড়া হয়ে যাবার আশংকায় ক্রন্দন করা আল্লাহর নিকট খুবই প্রিয়। অনেকে কারও মৃত্যুতে এ কারণে কেঁদে থাকেন যে, খোদার নেয়ামত হাতছাড়া হয়ে গেছে। হযরত রাসুলে আকরাম (সাঃ) নিজ পুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যুতে কেঁদেছিলেন। সাহাবাগণ যখন জিজ্ঞেস করলেনঃ "ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনিও কাঁদছেন?" উত্তরে আঁ হযরত বল্লেনঃ এ কান্না রহমতের কান্না। (মিছবাহুল হারামাইন,পৃঃ ৩১১)।
অবশ্য কখনও কখনও ক্রন্দন আবার নিন্দনীয় হয়ে থাকে। যেমনঃ কোন তুচ্ছ বস্তুর জন্য কিন্বা ধোকা-প্রতারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে অথবা অহেতুক কাজের জন্য কাঁদা। ইসলামের দৃষ্টিতে সেটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। (মিছবাহুল হারামাইন, পৃঃ ৩১১)।
মানব জাতীর প্রথম ব্যক্তি হযরত আদমের (আঃ) এই পৃথিবী জীবন শুরু হয় ক্রন্দন দিয়েই। সাইয়্যেদ আবুতোরাব ছাফাঈ আমোলী তাঁর কিচ্ছাহায়ে কোরান গ্রন্থে লিখেছেন যে, এ পৃথিবীতে এসে হযরত আদম (আঃ) নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় ও লজ্জায় একশ বছর কেঁদেছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করেছেন। যখন জিব্রাঈল ফেরেস্তা তাঁর তওবা কবুল হবার সুসংবাদ পরিবেশন করলেন তখন তিনি আরও একশ বছর খুশিতে আনন্দাশ্রু নিঝরণ করলেন এবং খোদার শুকুর আদায় করলেন।
(চলবে...............)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


