somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরাও বাংলাদেশের হার্ডকোর সমর্থক :) :) :)

১৬ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ এখন শুধু আমাদের বাংলাদেশিদেরকেই নয় বিশ্বব্যাপী মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। একসময়ের প্রথিতযশা দলগুলোকেও ভাল টেনশন দিতে পারছে, প্রশংসা কুড়োচ্ছে বিশ্বব্যাপী, নন্দিত ও নিন্দিত হচ্ছে, সিধু টাইপ পাগলারা এখন বাংলাদেশকে তেলাপোকার সাথে তুলনা করে নিবীর্য বৃদ্ধদের মত স্বপ্নে রতিসুখ লাভের চেষ্টায় রত। সেই বাংলাদেশ আজ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলছে নিজের দেশেই। আমরা সবাই প্রাণ ঢেলে দিচ্ছি প্রতিটি খেলায়, বাসার বুড়ো থেকে বাচ্চা পর্যন্ত এক জপ করছে "বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ" যে পিচ্চি হয়ত জানেইনা ভালমত ক্রিকেট কি সেও শুধু বাংলাদেশ নামটা শুনে টিভির সামনে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে কখন খেলা শেষে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে উচ্ছ্বাস করতে করতে রাস্তায় নামবে একটা লাল সবুজ পতাকা হাতে। শুধু স্টেডিয়াম নয়, মেতে উঠছে প্রতিটি ঘর, মার্কেট, টি এস সি সহ কত শত প্রান্তর, রাস্তা ঘাট।

টি এস সিতে খেলা দেখার কি আকর্ষন, বন্ধুদের নিয়ে হইহল্লা করার কি সুখ তা সকলেই জানেন। কিন্তু একদল সমর্থককে টি এস সি যাবার আগে চিন্তা করতে হয় সেখানে যেতে পারবে কিনা, আর উৎফুল্লভাবে ফিরতে পারবে কিনা। এই দলের নাম নারী সমর্থক। আমি সেই গোত্রের বলেই আজকের এই পোস্টের অবতারনা। আমাকে টি এস সি যাবার আগে ভাবতে হয় সেখানে বন্ধুরা আছে কিনা, যাওয়া যাবে কিনা (যদিও বেশির ভা সময়েই যাওয়াটা খুব বেশি ঝামেলার হয়না) আর খেলা যখন শেষ পর্যায়ে তখন আমাদের শুভাকাংখী বন্ধুরা বলেন আর যখন অল্প কিছু রান বাকি থাকবে তখন যেন আমরা মেয়েরা টি এস সি থেকে বের হয়ে যাই। তাদের এ অনুরোধ আমাদের প্রতি শুভাকাংখা ও ভালবাসারই প্রকাশ এবং অতিমাত্রায় বাস্তবসম্মত। কারণ একদল সমর্থক খেলা শেষের সুযোগে কিছু অপ্রীতিকর ব্যবহার করার চেষ্টা করেন আমাদের সাথে। আর অদ্ভূত ব্যাপার হল এই দল সংখ্যায় খুবই কম, তারপরও আমাদের সামলে চলতে হয় এদের ব্যাপারেই! টি এস সি তে বেশির ভাগ সমাগম হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণোচ্ছল ছাত্র ছাত্রীদের, তারা খুব মজা করে খেলা দেখতে আসেন ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সকল বন্ধুরা মিলে। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবার মনেই থাকে সমান উৎসাহ, তবুও নেক মেয়েকেই খেলার শেষটা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এটা দুঃখজনক নয়?

ভাই আমরাও কিন্তু আপনাদের মতই হার্ডকোর সমর্থক। বাংলাদেশের কেউ যখন আউট হয় আমাদের কলজেও ছিড়ে যায় আপনাদের মতই, যখন ৪-৬ মারে আমাদেরও আনন্দ বাঁধ মানতে চায়না। আমাদেরও বক্ষ দুরুদুরু খেলার শেষ মুহূর্তগুলোতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের পার্ফরমেন্সের সাথে সাথে আমরাও মরে যাই বা বেঁচে উঠি বারবার, খুশিতে, দুঃখে, আনন্দে, হতাশায়.....

আমরাও দেখব খেলার শেষটা। অবশ্যই দেখব। এখন আপনারাও একসাথে দেখবেন নাকি আমাদের লজ্জা দিতে গিয়ে নিজেদেরই লজ্জা বাড়াবেন অপ্রীতিকর আচরণ করে আপনারাই ভাবুন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিজয় কামনা করে আজকের মত শেষ করলাম:)
জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ....গর্জে ওঠো কারণ তোমাদের মাধ্যমেই আমরা বেঁচে উঠছি, মরে যাচ্ছি...
১টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×