সভ্য যুগের সামাজিক প্রাণির নাম মানুষ , যেহেতু সামাজিক জীব তাই একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকা আবশ্যক আর এই চাহিদা অনুধাবন করেই জুকার্বাগ তৈরী করে ফেললেন ফেসবুক । বর্তমানে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুগলের একটা জরিপে দেখা গেছে শুধু মাত্র বাংলাদেশে ৮০ ভাগ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে । সংখ্যা দিয়ে হিসেব করলে এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি। তার মধ্যে আবার আছে অসংখ্য ভুয়া আইডি । পারস্পারিক যোগাযোগ রক্ষার্থে ফেসবুকের ভূমিকা অতুলনীয় কিংবা নিজের মনের ভাব থেকে শুরু করে যাবতীয় অনুভূতি খুব সহজেই ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে সমাজে সব চেয়ে বড় জলন্ত প্রশ্নটি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি আমাদেরকে কতটুকু সামাজিক রাখতে পেরেছে ??? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে থমকে যেতে হয় । একটা ছেলে যখন নেশাখোরের মত ফেসবুক ব্যবহার শুরু করে দেয় , তখন সে কি মানসিক ভাবে সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না ? কিংবা যে মানুষগুলো ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাদের নৈতিকতা কি প্রশ্নবিদ্ধ নয় ? ফেসবুক তথ্য আদান প্রদান কি আদৌ নিরাপদ ? এই প্রশ্নগুলো যখন চোখের সামনে ভাসে তখন আমরা নিশ্চিত হয়ে বলতেই পারি বর্তমান সময়ে মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রধাণ কারণ ফেসবুক। তখন স্বভাবই প্রশ্ন আসে তাহলে ফেসবুক আসার আগে কি আমাদের মূল্যবোধ ঠিক ছিল ? কিংবা আপেল ছুড়ির গল্প শুনিয়ে কেউ জিজ্ঞাস করতে পারেন মূল্যবোধ অবক্ষয়ের জন্য দায়ি কে ফেসবুক নাকি ফেসবুকের ব্যবহারকারী ? এর প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুজার জন্য আমাদেরকে একটু বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতার দিকে আলোকপাত করতে হবে। আজকে ৭ কোটির মত মানুষ ফেসবুকের সাথে কোন না কোন ভাবে সংযুক্ত। এদের মধ্যে অনেক বড় একটা অংশ সমাজ বাস্তবতা থেকে দূরে গিয়ে ভার্চুয়াল জগতে নিয়ে পড়ে থাকতে পছন্দ করে। ফলে আশে পাশে কি ঘটছে এই সম্পর্কে কোন হুশ থাকে না । ফেসবুকে যেহেতু ভুয়া আইডি করা যায় তাই ভূয়া আইডির সুযোগ নিয়ে অনেকে বিভিন্ন ধরণে উড়ো খবর দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে কিংবা কারও সম্পর্কে অনেক বাজে কিছু লিখে বা কোন স্থির বা চলমান চিত্র দিয়ে মান সম্মানে আঘাত হানতে পারে। ভুয়া আইডির উড়ো খবরে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে অনেক সিরিয়াস কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে তার অনেক বড় একটা উদাহরণ রামুর ঘটনা । বাংলাদেশে ফেসবুকের কোন সার্ভার না থাকায় এটি নজরদারী বাইরে আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে সন্ত্রাসীগুলো। ফেসবুকের পেজ গুলো অনেক সহজ লভ্য খুব সহজে যে কেউ এটি খুলতে পারে , আর পেজের এডমিন যেহেতু পাঠকের কাছে অজানা তাই এই সুযোগে তথ্যের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা অনেক সহজ হয়ে যায় । বাশের কেল্লা নামক পেজটি তার অনেক ভাল একটা উদাহরণ। আজকে ফেসবুকের কারণ মানুষের মধ্যে গোপন ছবি বা ভিডিও ধারণের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে , উদ্দেশ্য একটাই ফেসবুকের দিয়ে আনন্দ নেয়া যাবে কিংবা ব্ল্যাক মেইল করা যাবে । সেলফির প্রবনতার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ফেসবুক , কিছু দিনের আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যাদের মধ্যে ফেলফির প্রবনতা বেশী তারা কোন না কোন মানসিক কষ্টে ভুগছে । আইডি হ্যাক করে মুখরোচক খবর ছড়ানো আজ অনেক স্বাভাবিক একটা বিষয়ে পরিণত হয়েছে । সব মিলিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমেই আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় তুরান্বিত হচ্ছে এবং বর্তমান সময়ে মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রধান কারণ ফেইসবুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




