somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুঁড়িয়ে পাওয়া বিবেকবোধ! পর্ব-২৷ ~হাওয়াই চুমু~ ও ~ভাড়া দিমুনা~

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

~হাওয়াই চুমু~

~ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পর আর নিচে নামা হয়নি। ছোট খাটো কাজগুলোকে এড়িয়ে চলেছি, যেগুলোতে নিচে না গেলেই নয়। ছয় তলা বাসা বলে কথা!

~৮টা ৫০ এর দিকে এক ফ্রেন্ডের জোড়াজুড়িতে নিচে নামলাম ওর সাথে চা খেতে যেতে হবে। বাসার গেট খুলে বের হয়েছি মাত্রই একটা কাপোল আমাদেরকে অতিক্রম করলো। ছেলেটা মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে হাটছে, গতানুগতিকতার বাহিরে গিয়ে! আমি ইগ্নোর করলাম। যদিও এসব হরহামেশায় ঘটছে, তারপরও এটা একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছিলো। সোসাইটিতে স্ট্রিট ল্যাম্প ছিলো। ২ মিনিট হেটে গেলেই বামে একটা মোড় পরে, তার অদূরেই কিছু দোকান। এদের মাঝেই একটা চায়ের দোকান আছে যেটা আমাদের গন্তব্যস্থল। বামে মোড় নেওয়ার অংশের স্ট্রিট ল্যাম্প নষ্ট!

~উনাদের ইমিডিয়েট পরপরই আমরা হাটছিলাম। হাটা অবস্থাতেই আমি ডক ফাইলে লিখছিলাম, তাই সামানে তেমনটা নজর ছিলোনা (কারোর প্রাইভেট ব্যপারে ইন্টারেস্টেড ছিলোনা।) বামে মোড় ঘুরে হাটা অবস্থাতেই একে অপরকে লিপ কিস করলো। পরমুহূর্তেই মেয়েটা পিছন ফিরে আমাদের দিকে তাকালো (হয়ত ভেবছিলো আমরা ফলো করছি, বা কোন রেকর্ড নিচ্ছি অথবা অন্য কিছু। যে কিছুই হতে পারে, অথবা কোন কারণ ছাড়াও তাকিয়ে থাকতে পারে) আমার ফ্রেন্ড মেয়েটার উদ্দেশ্যে হাওয়াই চুমু ছেড়ে দিলো, মেয়েটাও মুচকি হেসে আবারো বামে মোড় নিয়ে নিলো। আমরা ডানে মোড় নিলাম, গন্তব্য চায়ের দোকান!

১১/০২/১৯ ইং
৮ঃ৫০-৮ঃ৫৫ মিনিট।


~ভাড়া দিমুনা~

~এইতো সেদিন। জানুয়ারীর ৩০ তারিখ ছিলো। মানিকনগর থেকে লাব্বাঈক বাসে করে গন্তব্যে ফিরছিলাম। সিটিং বাসে যথারীতি চেকপোস্ট অতিক্রম করার পরই ভাড়া নিতে আসে কন্ট্রাক্টররা। খামার বাড়ির চেকপোস্ট পার হওয়ার পর কন্ট্রাক্টর ভাড়া নিতে আসলো, আমি আগের চেকপোস্ট পার হওয়ার পরই ভাড়া দিয়েছিলাম। কন্ট্রাক্টর আমার পিছনে থাকা যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিতে গেলো, কিন্তু ঐ সময়ে আমার পিছনের সিটে থাকা লোকটি ঘুমাচ্ছিলো!

~বাস তখন আড়ং মোড় অতিক্রম করে আসাদ গেট এর সামনে খুব ধির গতিতে এগুচ্ছিলো, রাস্তায় মোটামুটি জ্যাম ছিলো। রাত তখন প্রায় এগারোটা!

~কন্ট্রাক্টর ভাড়া নেওয়ার জন্য আমার পিছনের সিটের লোকটির কাছে গেলো, লোকটি গুমাচ্ছিলো বলে কন্ট্রাক্টর উনাকে ডাক দিলো। খুব মোলায়েম গলায়েই ডাক দিয়েছিলো। একবার দুইবার, তিনবার, আরো কয়েকবার। এবার কন্ট্রাক্টর একটু জোড়েই ডাক দিলো, উনার গায়ে হাত দিয়েই।

-ঘুম থেকে জাগার পর লোকটির প্রথম কথাই ছিলো, আমাকে ডেকে ঘুম থেকে জাগাইলি কেন? তুই একটু পর ভাড়াটা নিলে তোর সমস্যা কি হতো?

-সাধারণত আমরা চেক পার হওয়ার পর ভাড়া নেই, সেজন্য আপনাকে ডাকা। তাছাড়া আপনি কোথায় নামবেন সেটাওতো আমি জানিনা...

-তোর এত কিছু জানতে হবে কেন? তুই আমার ঘুমটা ভাঙ্গাইলি কেন?

-আপনি এখন আমাকে ভাড়াটা দিয়ে দেন, আর কোথায় নামবেন সেটা বলে দেন। তারপর ঘুমান, আপনাকে আর বিরক্ত করবোনা। নির্দিষ্ট যায়গায় নামিয়ে দিবো। (এখনো শান্ত গলা)

-তুই আমার ঘুমটা ভাঙ্গাইছিস আবার জ্ঞান দিতে আসছিস। বলছিনা ভাড়া দিমুনা....

-(একটু গরম স্বরে) ঐ মিয়া আপনার সমস্যা কি? আপনি আমার যাত্রী, আপনার কাছে কি আমি ভাড়া চাইতে পারিনা? এতো ঘুমানোর দরকার হলে প্রাইভেট সার্ভিসে করে যাবেন.....

~আরো কয়েকবার উত্তর প্রতুত্তর। তারপর লোকটি ৫০ মিটারের মধ্যেই গণভবনের আগের সিগনাল (চন্দ্রিমা উদ্যান, প্রাক্তন জিয়া উদ্যান যাওয়ার মোড়) এ নেমে গেলো বাস থেকে, ভাড়া দেয়নি...!!!

৩০/০১/১৯ ইং
রাত; ১১ টা (প্রায়)

~প্রথম পর্বঃ কুঁড়িয়ে পাওয়া বিবেকবোধ!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×