Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা
সময়কাল (১৭৪০-১৮১৪)
বিতর্কিত চরিত্র,কন্ডে এলাকার রাজ পরিবারের একজন
সাধারণ চিন্তাধারার বাইরে তার লেখাগুলোয় বিকৃত মনোভাব,দুঃখবাদী
justine the misfortunes of virtue,Juliette,120 days of Sodom,The crimes of love ছাড়াও অন্যান্য
(২) হেয়ারপিনের বাড়ীর কাজে
কয়েক মাস কেটে গেছে,অর্ধভুক্ত হতাশ জাষ্টিন,কোনভাবে দিন কাটাচ্ছিল।ভাগ্যের হাতে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে ঘিঞ্জি ঘরটাতে দিন কাটানো ছাড়া আর কিইবা করার ছিল তার?বাড়িওয়ালীর চমক,ধমকের কমতি ছিল না যদিও,তবে অত কিছুর পরেও বাড়িওয়ালী তাকে রাস্তায় বের করে দেয়নি।ভাড়া কম দেয়াত বদলে বাড়ীর ঝাড়ু দেয়া,ধোঁয়া মোছার কাজ সহ অন্যান্য টুকিটাকি কাজ ছিল জাষ্টিনের।দিনে বরাদ্দ কটা রুটি আর মাঝে মাঝে সুপ।দুর্যোগের ঐ দিনগুলোতে একটা সুপ্ত আশা জাষ্টিনকে উজ্জিবিত করে তুলতো,হয়তো কোন ভাবে দেখা হবে,জুলিয়েটের,মুক্তি পাবে এই যন্ত্রনার রাজ্য থেকে।রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার স্ময় প্রতিটা মুখ ঘুরে ঘুরে পরখ দেখতো জাষ্টিন, সেই ক্ষীন আশায়,হ্যতো জুলিয়েট।
একদিন বাড়িওয়ালী জাষ্টিনকে বললো, ‘তোমার কপাল ভাল,শেষমেষ একটা কাজ খুঁজে বের করলাম তোমার জন্য’।
‘আমি জানি ঈশ্বর,অত নিষ্ঠুর হতে পারে না’,আকাশের দিকে হাত তুলে কাঁদছিল জাষ্টিন।কাজ প্যারিসের এক মহাজন হেয়ারপিনের বাসায়।টাকা ধার দেয়া ছাড়াও অসহায় মানুষকে ঠকানোটাও ছিল যার কাজ। শহরের একটা গরীব এলাকায় থাকতো হেয়ারপিন,বৌ বছর পঞ্চাশের,বেশ বুড়িয়ে গেছে।
জাষ্টিনকে দেখে অনেক কিছুল জিজ্ঞাসাবাদ করলো হেয়ারপিন,উত্তরে সন্তষ্ট হেয়ারপিনকে,জাষ্টিন বললো, ‘আপনার আপত্তি না থাকলে,আমাকে তেরেসা বলে ডাকবেন’।
‘দেখ,তেরেসা এই বাড়ীতে আমরা সবাই সৎ পথে চলার চেষ্টা করি আর সৎ মানুষদের সঙ্গটাই পচ্ছন্দ করি আমরা।এখানে যদি একটা কানাকড়িও চুরি কর,পার পাবে না কোনভাবে,নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবো।আমি আর আমার বৌ এর আমাদের পরিশ্রমের ফসল কিছুটা ভোগ করছি এখন,জীবনে কখনও সংযম আর বিশ্বাস হারায়নি আমরা।শোন,তুমি খুব বেশী খাওয়া দাওয়া কর না তো’?
‘না,না,কয়েক টুকরা রুটি,পানি আর সুপ মাঝে মাঝে,এই…’।
‘সুপ…কি বললে…সুপ।শোন পরিষ্কার বলে দিচ্ছি,ঐ সব সুপ টুপের চিন্তা মাথা থেকে বের করে ফেল’,তারপর বৌ এর দিকে মুখ ঘুরিয়ে হেয়ারপিন বল্লো, ‘দেখ কি বলছে,বছরখানেক প্রায় না খেয়েই আছে,আর এখানে ঢুকতে না ঢুকতেই সুপ খুজছে।তেরেসা,তুমি জান না,রোববারেও আমাদের সুপ খাওয়ার সুযোগ হয় না,আমরা খেঁটে যাচ্ছি একেবারে দাসের মত।শোন আবার বলে রাখছি,দিনে তিন টুকরা রুটি পাবে,আর মাঝে বোতলে পরিষ্কার পানি।হ্যা,তোমার কাজে সন্তষ্ট হলে,বছরের শেষে পাবে আমার বৌ এর পুরোনো একটা গাঁউন,একটা ফ্রাঙ্ক।কাজের মধ্যে তেমন কিছু একটা করার নাই,যা আছে সেটা সারতে খুব একটা সময় লাগবে না।কাজ বলতে,এই ছয়টা ঘর পরিষ্কার করা,বিছানা করা,আমার পরচুলাতে চিরুনি দেয়া,বৌ এর চুল বেঁধে দেয়া।আর হ্যা রান্নাবান্না আছে,কাপড়চোপড় পরিষ্কার,কুকুর আর তোতাপাখীর খবরদারী,এ টুকুই।তোমার নিজের জন্যে অনেক সময় খুঁজে পাবে তুমি,যদি বুদ্ধি করে কাজ কর,আর তোমার উন্নতিও হবে খুব সহজেই’।
সবস্ময়ই আশা ছিল তেরেসার,নিশ্চয় ভাল কিছু অপেক্ষা করছে তার ভব্যষিতে।কিছুটা হতাশ হলেও হেয়ারপিন সাহেবের প্রস্তাব গ্রহন করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না,তার।সে দিনই সন্ধ্যাবেলায় হেয়ারপিনের বাড়িতে জায়গা করে নিল,তেরেসা।হেয়ারপিন বেশ বৈষয়িক মানুষ,বৈষয়িক না বলে হয়তো কৃপন বলাটাই ঠিক হবে।কোন ঘরে বাতি ব্যাবহার হতো না,বাইরের আলোতে যতটুকু দেখা যায়। চাদর,তোয়ালে,ন্যাপকিন,টেবিলের কাপড়ের ব্যাবহার ছিল না বাড়ীতে,ওটাকে হেয়ারপিনরা অযথার অপচয় মনে করতো।আর হ্যা,মদ বা ও ধরণের পানীয় দৈনিক তো দুরের কথা ছুটিছাটাতেও কেনা হতো না।মাদাম হেয়ারপিনের ভাষায় পানি,পানির মত পবিত্রতা,পরিছন্নতা আর কোন পানীয় তে খুঁজে পাওয়া যায় না।
ধর্মীয় আঁচারেরআয়েশ, আনন্দ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করতো হেয়ারপিন,এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহে তাকে পুরোনো যুগের ধর্মীয় গুরু,সন্ন্যাসীদের পর্যায়ে ফেলা যায়।এমনই ছিল হেয়ারপিনের হিসেবী সংস্কার,যে রুটি কাটার সময় প্লেটে পড়ে থাকা গুড়োগুলো যোগাড় করে অন্যসময় ব্যবাহার করতো,আর রোববারে সেটা মাখনের সাথে বিশেষ খাবার হিসেবে পরিবেশন হতো।কাপড়চোপড় ধোঁয়াও হতো না ব্যাবহারের পর পর,তাতে কোন অস্বস্তি ছিল না হেয়ারপিনদের।এমন কি ছিঁড়ে যাওয়া জুতোর তলা গরম ইস্ত্রী দিয়ে নিজেরাই ঠিক করতো।
হেয়ারপিনের উপরতলার ভাড়াটিয়া ছিল বেশ নামকরা এক অলংকার ব্যাবসায়ী,নানান ধরণের মণিমুক্তার ব্যাবসা ছিল তার,হেয়ারপিনের বরাবরই নজর ছিল ঐ সব জহরতের দিকে।জাষ্টিন শুনতো প্রায়ই হেয়ারপিন বৌ এর সাথে বল্যাবলি করছে,‘দেখার মত ঐ সোনার বাক্সটা,যদি হাত করতে পারতাম’।
তবে হেয়ারপিনের কোন স্ময় কোন কিছু বেআইনী কিছু করার ইচ্ছা বা সাহস কোনটাই ছিল না,নিজের লোভ পুরন করার জন্যে সে জাষ্টিনের সাহায্য নেয়ার কথা ভাবলো।
‘শোন তেরেসা,তুমি জান কি না,তবে চুরিই হলো এক মাত্র পদ্ধত্বি যাতে আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় কিছুটা সাম্যতা আসতে পারে।গরীবেরা চুরি করবে ধনীদের প্রাচুর্যতা থেকে,আর ধনীরা কেড়ে নিবে গরীবদের সম্বল, এটাই হলো উন্নতির চাবিকাঠি।এটাই প্রকৃতির সাজানো নিয়ম,এখানে অন্যায় নেই কোথাও।তা ছাড়া চুরি বলতে পার একটা সম্মানজনক কাজ,দরকার আছে সাহস,বুদ্ধি।এমনও দেশ আছে যেখানে চুরিকে একটা উচুদরের কাজ হিসাবে ধরা হয়,ভয় করো না তুমি ধরা পড়বে না,আর আমি তো আছিই কোন কিছু অঘটন ঘটলে তার ব্যাবস্থা কর্রবো,আমি’।
কথা শেষ করে হেয়ারপিন জাষ্টিনের হাতে দুটা চাবি তুলে দিল,একটা চাবি অলংকার ব্যবাসায়ীর ঘরের দরজার,আরেকটা চাবি তার সিন্দুকের।হেয়ারপিন বলে দিল,’শোন এখন একটা ভাল সুযোগ,লোকটা বাইরে গেছে কয়েকদিনের জন্যে,তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ফেল,বছরের শেষে গোটা দশেক ফ্রাংক পাবেম্লি ব্ল’?
‘এটা কি বলছেন আপনি,বাড়ীর মনিব হয়ে আমাকে চুরির রাস্তায় এগিয়ে দিচ্ছেন?ভব্যিষতে যে আমি আপনার বাড়ীতেই চুরি করবো না,তার কোন নিশ্চয়তা আছে?আপনিই আমার হাতে অস্ত্র দিয়ে তার ব্যাবহারও দিচ্ছেন,মনিব এটা শুধু অদ্ভুত,অবিশ্বাস্য না অসহনীয়।অন্য কাউকে কি আপনি দোষী করতে পারবেন,ঐ অস্ত্র আপনার কাঁধে পড়লে’?
জাষ্টিনের কথা শুনে হেয়ারপিনের ভাবভঙ্গী বদলে গেল,‘তেরেসা তোমাকে পরীক্ষা করছিলাম,আমার প্রস্তাবে সায় না দিয়ে তোমার সততাই প্রমান করলে,তুমি সত্যিই সৎ চরিত্রের মানুষ’।
জাষ্টিন তখনও বুঝতে পারেনি,অসৎ লোকদের কাছে হয় আত্মসর্পপন করা উচিত,না হয়,তাদের সঙ্গ সর্ম্পুন ত্যাগ করা উচিত,তা হলে হয়তো ভব্যিষতের যন্রনা থেকে সে অব্যাহতি পেত।এমনও হতে পারে সেটাই ছিল তার নির্ধারিত ভাগ্য,আকাশের মেঘের আড়ালে বসে থাকা ঈশ্বরের বিচার,প্রতিটা ভাল কাজের জন্যেই তাকে শাস্তি পেতে হবে।
এ ঘটনার পর একটা থমথমে ভাব ছিল হেয়ারপিনদের বাড়ীতে,তবে জাষ্টিন যথারীতি তার কাজকর্ম করে যাচ্ছিল,আর হেয়ারপিনও তাকে তেমন কিছু আর বলেনি।প্রায় বছর দুয়েক কেটে গেছে,একদিন মাঝরাতে হঠাৎ হেয়ারপিন ঢুকলো জাষ্টিনের ঘরে সাথে চারজন পুলিশ।
‘ঐ যে…ঐ যে মেয়েটা…চোর…আমার হীরাগুলো,সব চুরি করে নিয়ে গেছে।এখনও হয়তো পার ক্রতে পারেনি,কোন সন্দেহ নাই,এই ঘরে লুকানো আছে কোথাও’।
হেয়ারপিনের চীৎকার আর লাফালাফিতে জাষ্টিনের কোন কথাই পৌচ্ছাছিল না পুলিশদের কানে,তা ছাড়া আসামীরা ধরা পড়লে,এ ধরণের ভড়ং তো করেই।হীরা জাষ্টিনের তোষকের নীচে ঠিকই পাওয়া গেল(হেয়ারপিনের হাতেই লুকিয়ে রাখা),আর কিছু না বলে হাতকড়ি দিয়ে পুলিশ জাষ্টিনকে নিয়ে গেল জেলখানায়।এটা তো জানাই সততার পতাকাধারী শুধুই সবলেরা,আর দুর্বলেরা সেখানে শুধুই নিরুপায়,বিষন্ন এক চেহারা,তবুও মানুষ বোকার মত বিশ্বাস করে সত্যের জয় হবেই।
বেশ তাড়াতাড়ি বিচার হয়ে গেল কোর্টে,হাতেনাতে ধরা পড়া আসামী,আর একজন নামকরা ব্যাবসায়ির চুরির অভিযোগ,সেখানে জাষ্টিনের প্রতিবাদ ছিল শুধু অসহায়ের অহেতুক চীৎকার।যত কিছুই সে বলুক না কেন,বাড়ীর মালিকের চুরির অভিযোগ,তা ছাড়া দামী হীরাগুলো পাওয়া গেছে তারই তোষকের নীচে,কি ভাবেই বা নিজেকে নির্দোষ প্রমান ক্রতে পারবে জাষ্টিন,আর কেইবা শুনবে তার কথা?জাষ্টিন যখন কোর্টে হেয়ারপিনের অলঙ্কার ব্যাবসায়ীর সোনার বাক্স চুরির প্রস্তাবের কথা বললো,জাজ উল্টো ক্ষেপে গিয়ে বললো, ‘তোমার মত জঘন্য চরিত্রের মেয়ে আমি কখনও দেখিনি,তুমি শুধু চুরির দোষে দায়ী না,সমাজের এক সভ্রান্তশালি ব্যাবসায়ী,গন্যমান্য মানুষের নামে অপবাদের দোষেও দায়ী।চ্রম শাস্তি হবে তোমার’।
মাদাম ডুবুয়ার সাথে পরিচয়
জেলখানার ছোট্ট ঘরটায়,জাষ্টিন ছাড়া ছিল আরও তিনজন,মাঝবয়সী এক মহিলা যাকে সবাই মাদাম ডুবুয়া নামে ডাকতো।ঘটনা চক্রে জাষ্টিনের সাথে মাদাম ডুবুয়ার বেশ ভাল একটা সর্ম্পক হয়ে গেল।হতাশা আর কান্নার মাঝে মাদাম ডুবুয়ার কাছে জাষ্টিন খুঁজে পেল উষ্ণ আমেজ,বিষন্ন কান্না ভঁরা মনটার কিছুটা সান্তনা।দুর্বল মন খোঁজে কোন না কোন সবল আশ্রয়,আর আকাশের ইশ্বরের দয়া,এ ছাড়া তাদের কোন গতি নেই আর।জাষ্টিন তার দুঃখের কাহিনী খুলে বললো মাদাম ডুবুয়াকেম।আর জেলখানার ঐ ছোট্ট ঘরটায় তখন তারা দুজন ছিল যেন একে অন্যের সান্তনার কাঁধ।
এক সন্ধ্যায় মাদাম ডুবুয়া জাষ্টিনকে বললো, “শোন আজকে রাতে ঘুমাবে না,আমার পরিচিত কয়েকজন ডাকাতীর কয়েদী জেলখানায় আগুন দিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করছে,জেগে না থাকলে ঐ আগুনে মারা যাবে আরও কয়েকজন কয়েদীদের মত,অন্যান্যদের কি হবে তাতে আমাদের কি যায় আসে?তা ছাড়া ওরা আমাদেরও পালাতে সাহায্য ক্রবে,এটা নিশ্চয় একটা সুখবর’।
ঠিক রাত আটটায় হৈচৈ,ছোটাছুটি আরম্ভ হয়ে গেল,আগুন ছিল জেলখানার ভেতরে,বাইরে,জন দশেক কয়েদী মারা গেল,পালালো কয়েকজন,তাদের দলে ছিল জাষ্টিন আর মাদাম ডুবুয়া।জন চারেক পালানো কয়েদী,আর মাদাম ডুবুয়ার সাথে জাষ্টিন আশ্রয় নিল মাদাম ডুবুয়ার পরিচিত শিকারীর জঙ্গলের ঘরে।
‘এই…তেরেসা…তুমি এখন স্বাধীন…আকাশের পাখীর মত যখন যেখানে ইচ্ছা যেতে পার।একটা উপদেশ,ঐ যে পাপ,পুন্য,ওর হিসেবটা মাথা থেকে বের করে ফেল।ঐ বিশ্বাসে তুমি শুধু ধাক্কাই খাবে পদে পদে,খুঁজে পাবে না কাউকে পাশে।তোমার সততা,পুন্য ভাব তোমাকে নিয়ে যাচ্ছিল গিলোটিনের নীচে,তুমি রক্ষা পেলে একটা অপরাধ করে,আর কয়েকজন অপ্রাধীর সাহায্য নিয়ে।ভেবে দেখ,পৃথিবীর যাঁতাকলের চক্রে পুন্যের অবস্থানটা কোথায়?শুধু শুধু অন্ধ বিশ্বাসের জন্যে আত্মাহুতি দেয়া কি যুক্তিযুক্ত?তোমার বয়স কম,আবেগ অনেক বেশী হয়তো সবকিছু বুঝতে পারছো না।তুমি বেশ সুন্দরী,শোন নিজেকে ঠিকমত ব্যাবহার করলে,বছর দুয়েকেই টাকা পয়সা প্রাচুর্যতায় নতুন হয়ে যাবে।এই পৃথিবীতে আয়েস,প্রার্চুযতার জন্যে অনেক কিছুই করতে হয়,শুধু বসে বসে পাপ পুন্যের হিসেব করলে হবে না,নিজেই ভেবে দেখ কি করবে?হাতে কটা দিন আছে,তারপর এখান থেকে চলে যেতে হবে আমাদের’।
‘মাদাম ডুবুয়া,আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।আপনি আমাকে নতুন জীবন দিলেন,যদিও ভাবতে খারাপ লাগছে ঐ অসহায়দের কথা,যারা যন্ত্রনায় পুড়ে মারা গেল,হয়তো আমাকেও শাস্তি পেতে হবে ঐ পাপের জন্য।আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো,তবে আমার কাছে পুন্যের হোঁচটে রক্তাত্ত হওয়া অনেক ভাল,পাপের হাসির ঐ আনন্দের থেকে।ধর্ম বিশ্বাস আমি হারাবো না কখনও,আমি জানি এই পৃথিবীতে আমার সৎ কাজের কোন ফল না পেলেও ওপারে আমার জন্যে আছে ঈশ্বরের পুরস্কার।আমার বিশ্বাসই আমাকে সাহস যোগায়,আমার যন্ত্রনাকে কমিয়ে দেয়,আজ না কাল না হোক,আমি ঠিকই দেখবো হাসির মুখ একদিন,জানি ঈশ্বর আমার সহায়’।
‘ফুস…বিধাতা…ঈশ্বর তার বিচার…তার শাস্তি…তার পুরস্কার…এগুলো আর কিছু না শুধু বোকাদের সান্তনা।চোখে দেখতে পাও না,ধনীদের অত্যাচারই শেখায় গরীবদের বিদ্রোহের মন্ত্র,যন্ত্রনায় ধুঁকে ধুঁকে না পেরে তারা চীৎকার করে উঠে।কোথায় থাকে তখন ঈশ্বর তোমার?ধনীরা কেন পারে না তাদের কিছুটা গরীবদের সাথে ভাগ করে নিতে,তাদের তো আছে অনেক।মানবতা কেন খুঁজে পায় না প্রতিপত্তিশালীরা,কেন খুঁজে নিতে হবে হতাশদের পাপ,পুন্যে সান্তনা?আমাদের দুর্ভাগ্য,ধৈর্য,বিশ্বাস,সব কিছু মেনে নেয়ার চিন্তাধারায় আর নিজেদের পায়ে একের পর এক এ সব বিশ্বাস,সংষ্কারের শিকলে অচল হয়ে যাওয়া।জন্মে আমরা সবাই স্বাধীন,তারপর অজানা নিয়মে সেটা বদলে যায়,অজানা শিকল পায়ে আমরা হোচট খেয়ে বেড়াই।স্বাধীনতার সাথে সাথে আমরা হারাই সাহস,দুর্ব্ল,হতাশ নতুন তখন।আমাদেরই দায়িত্ব সেটা বদলে দেয়া,মেনে নেয়া না। গরীব বলে কি আমরা হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে যাব,পিপাসায় কি নর্দমায় ছুটে যাব,ক্ষিদে পেলে কি নুড়ি পাথর খাব?সাধারণ ভাবে বেঁচে থাকতে চাইলেও যদি অপরাধ করা ছাড়া উপায় না থাকে,তা হলে কি করবে তুমি, শেষ হয়ে যাবে শুধু পরকালের আশায়?যাদের কাছে আমরা মাথা নত করে দুটো রুটি চাইছি,যতদিন তারা ক্ষমতায় আছে,থাকবে আমাদের কান্না,আমাদের হতাশা।না,না,তুমি জান না,তেরেসা!হয় তোমার ঐ ঈশ্বর ধনী একজন কেউ না হয় অর্থব,বুদ্ধিহীন।ভেবে দেখ তোমার ঐ ঈশ্বর ঠেলে দিল আমাদের এই অসহায় অবস্থায়, সেই ঈশ্বরেরই দেয়া অন্যায়,অত্যাচার,তোমাকে খুঁজে নিতে তোমার হিসেব,শুধু অযথার কান্না,হাহতাশ না’।
কিন্ত জাষ্টিনের বিশ্বাস ছিল অটল,ঐ সব কথাবার্তায় আর যাই হোক জাষ্টিনের বিশ্বাসে কোন ফাটল ধরেনি।জাষ্টিন মাদাম ডুবুয়াকে বললো,তার নিঃশ্বাস পর্যন্ত সে কোনদিন ঈশ্বরের বিশ্বাস হারাবে না, আর কোন ভাবেই সে কোন অপকর্মে যোগ দিতে চায় না।
‘ঠিক আছে তোমার যেটা ভাল লাগে সেটাই কর,তবে মনে রাখবে তোমার ঐ বিশ্বাসের জগতের আসল চেহারায়,পুন্যকে শাসন করে পাপ,আমার কথা একদিন তুমি ঠিকই বুঝতে পারবে’।কথা বলতে বলতে মাদাম ডুবুয়া তখন আর চারজন ডাকাতীর কয়েদীর সাথে মদ খাচ্ছিল।এক সময় চার কয়েদী দাঁড়িয়ে মাদাম ডুবুয়াকে ফিসফিস করে কিছু একটা বললো,বোধগম্য না হলেও তাদের চোখেমুখের হাবেভাবে জাষ্টিন তখন ভয়ে অস্থির হয়ে গেছে।এ টুকু তার বুঝতে কষ্ট হয় নি,তার কপালে আছে,হয় টাকাপয়সার বিনিময়ে শরীর বিক্রি,না হয় শেষমেষ মারধর খেয়ে শরীর দেয়া।উপায় না দেখে জাষ্টিন মাদাম ডুবুয়ার পা ধরে কান্নাকাটি আরম্ভ করলো,মাদাম ডুবুয়া কিছু না বলে হাসছিল।
‘না,তুমি সত্যিই একজন দুর্ভাগা,না বোকা বললেই মানায় ভাল,এ রকম চারজন সবল পুরুষ শরীর আনন্দের জন্যে তোমার সঙ্গ খুঁজছে আর তুমি হাহুতাশ করছো।আরে বোকা মেয়ে প্যারিসের অর্ধেক মেয়েরা তোমার জায়গায় হলে টাকাপয়সা দিয়েও সানন্দে ওদের প্রস্তাবে হাসিমুখে এগিয়ে যেত’।একটু ভেবে মাদাম ডুবুয়া বললো, ‘শোন আমিই এ ডাকাত দলের নেতা,তোমাকে বাচাতে পারি,তবে একটা শর্তে’।
‘আপনি বলে দেন,আমাকে কি করতে হবে’?
‘তুমি আমাদের দলে যোগ দিবে,কোন প্রতিবাদ করতে পারবে না,প্রতিবাদ মানেই নিশ্চিত মৃত্যু’।
চারজনের ভয়াবহ চেহারা আর পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা ভেবে জাষ্টিন উত্ত্র দিল,‘ঠিক আছে আমি রাজী আপনার প্রস্তাবে,ওদের হাত থেকে আমাকে বাঁচান’।
মাদাম ডুবুয়া তখন সঙ্গীদেরকে বললো, ‘শোন ও এখন আমাদের দলের একজন।অনেক কাজে আসবে এই মেয়ে,তোমাদের এই কয়েক মিনিটের শরীরের আনন্দের কথা ভুলে যাও এখন।ওকে ঠিকমত ব্যাবহার ক্রলে আমাদের লাভ হবে অনেক’।
মদের নেশায় তখন ঐ চারজনের মাথায়,মাদাম ডুবুয়ার গম্ভীর,নেতৃত্বের সুর তাদের শরীরের উন্মাদনাকে কি থামাতে পারবে কি না ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না,তারা প্রস্তত হয়ে ছিল মাতাল জাষ্টিনের সাথে শরীর খেলায়। সুন্দ্র চেহারার মেয়েটার ভরাট স্তন,মসৃন নিতম্বের চেহারা তাদের চোখে ভেসে বেড়াছে,তবে মাদাম ডুবুয়ার কথা উপেক্ষা করে অযথা গোলমাল পাকানোর ইচ্ছে ছিল না তাদের।
‘ভেবে দেখ মেয়েটার নারীত্বকে আমরা কতভাবে ব্যাবহার করতে পারি,ওটাতে আমাদের বেশী লাভ হবে নাকি তোমাদের ক্ষনকয়েকের আনন্দে’?,মাদাম ডুবুয়া তাদের বুঝিয়ে ব্ললো।
চারজনের মধ্যে নেতা গোছের ডাকাত বললো,‘ঠিক আছে মেয়েটার কাছে সতীত্ব যখন এতই দামী আমরা না হয় ভুলে যাব সেটা,তা ছাড়া চারজনকে কি আর,ঐ একজন মেয়ে কি খুশী করতে পারবে?ঠিক আছে তেরেসা তুমি কাপড়চোপড় খুলে ফেল,আমরা তোমার সুন্দ্র শরীরটা দেখতে চাই’।
‘কি বলছো,তোমরা?হায় ঈশ্বর…আমাকে উলঙ্গ দেখে…তারপ্র…’,জাষ্টিন বললো।
কয়েদীদের একজন আর বাদানুবাদ না করে উঠে গিয়ে থাপ্পড় মারলো জাষ্টিনকে,পড়ে যাচ্ছিল সে,আটকে ধরে আবার থাপ্পড় মারলো, ‘ফাজলামি[।
আরেকজন মন্তব্য করলো, ‘এ ভাবে মার খাওয়ার কোন মানে হয়,শুধু শুধু শয়তানী,তার কথায় রাজী হওয়ার পরেও শয়তানী,আরও জোরে মার ওকে,বুঝুক আমরা কে?ফাজলামী করছে আমাদের সাথে’।
দ্বিতীয় কয়েদীও নিজে উঠে জাষ্টিনকে মারধর আরম্ভ করলো,গালে,নিতম্বে,স্তনে,লাল হয়ে গেছে তার শরীরের নানান অংশ।ব্যাথায় কাত্র জাষ্টিন হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছিল,কিন্ত কে শোনে তার কথা?
তৃতীয়জন ভুগতো বিকৃত যৌনতায়,সে জাষ্টিনকে বাধ্য করলো তার লিঙ্গ নিয়ে খেলা ক্রতে,মুখে দিতে,তার বিকৃত আকাঙ্খার কোনটা যেন বাদ না পড়ে।
চতুর্থ কয়েদী জাষ্টিনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মাদাম ডুবুয়ার পাশে বসালো,মাদাম ডুবুয়া চুমু খাচ্ছিল তাকে,সেও মাদাম ডুবুয়ার স্তনে হাত দিয়ে খেলা করছে,আর উত্তেজনায় হাতে ধরে থাকা দড়িতে টান দিচ্ছিল,উত্তেজনার রকমফেরে আর জাষ্টিনের দড়িতে তত জোরেই টান পড়ছিল,এক সময় কয়েদী মত্ত হলো মাদাম ডুবুয়ার সাথে শরীর খেলায়,রক্ষা হলো জাষ্টিনের কুমারীত্ব,তার বিশ্বাস।
মাদাম ডুবুয়া,যৌন তৃপ্ত কয়েদীর সাথে জাষ্টিনকে নিয়ে বের হয়ে গেল আস্তানা থেকে।লুভ এলাকা থেকে বেশ কিছুটা বাইরে রাত কাটানোর বন্দোবস্ত হলো।জাষ্টিনের ইচ্ছা ছিল মাদাম ডুবুয়ার পাশেই রাতটা কাটাবে,তবে পারতপক্ষে সেটা হয়ে উঠলো না,মাদাম ডুবুয়ার মনে ছিল অন্য কেউ।একাই শুয়ে ছিল জাষ্টিন, তবে ঘুম ছিল সেখান থেকে অনেক দুরে,ছিল শুধুই ভয়।রাতের মাঝ প্রহরে ঐ চার ডাকাতদের সর্দার এসে বললো, ‘তেরেসা আমি কি তোমার পাশে ঘুমাতে পারি?অন্ততঃ এ অনুরোধে তোমার কোন আপত্তি থাকার কথা না,শুধু শুয়ে শুয়ে তোমার সাথে গল্প করবো।অযথা সতী সাবিত্রীর মত ভান করার কোন মানে হয় না মত।তুমি হয়তো জান না,আমি অন্যান্যদের না থামালে তোমার এই কুমারীত্বের গর্ব সে দিনই শেষ হতো।তা ছাড়া তুমি শুধু রক্ষা পেলে আমাদের এই দলের প্রয়োজনে,আর তোমার ঐ পুন্যতা বা সতীত্ব যাই বলো,সেটা দরকারে শিকারদের বোকা জানানোর জন্যে’।
‘হায়…হায়…ঈশ্বর…শোন তোমাকে বলে রাখছি,শরীরের এই পবিত্রতার জন্যে,আমি জীবন দিতেও ভয় পাব না,সেটা ভুলে যাবে না’।
‘আমরা তোমাকে ব্যাবহার করবো লাভের জন্যে না আননদের জন্যে,সেটা আমরা বিচার করবো।তবে মনে রাখবে তেরেসা,পৃথিবীতে অনেক কিছুই বদলায়,এমন কি মানুষের চিন্তাধারাও।শোন বলছি,আমি তোমাকে চাই,আমাকে বঞ্চিত করো না।আমার আনন্দে যোগ দাও,অজানা অচেনা এক আনন্দ খুঁজে পাবে,তুমিও।যে স্বররগের জন্যে অপেক্ষা করছো,সেটা আছে এই পৃথিবীতেই।ভুলে যাও জীবনের এই হতাশা যন্ত্রনার কথা,আমি তোমাকে সব দুঃখ থেকে নিয়ে যাব সুখের রাজ্যে’।
‘আমি…তুমি…আমাকে একজন…রক্ষিতা হতে বলছো’?
‘ভয় পাচ্ছ কেন?তুমি জান,আমি ডাকাত,ওটা সত্যি।তুমি বলতে পার,আমাকে নিজেকে নিয়ে গর্ব করার মত তেমন কিছুই নাই,আছে আমি সব্ল,শক্তিশালী,শুধু ভয় করি নিজেকে।তোমার জানাই,আমার মত লোকেরা ঘর সংসার করার কথা চিন্তা করে না,বিয়ে,সংসার এ গুলো একটা সংষ্কার,তুমি অন্যান্য আরও অনেক কুসংষ্কারের সাথে এগুলো যোগ করতে পার।তবে আমার সুন্দরী বন্ধু,এক প্রেমিকের সঙ্গ,হাজারো বেশ্যাবৃত্তির সঙ্গের চেয়ে অনেক ভাল নিশ্চয়’।
জাষ্টিন বললো,‘এমন না যে পৃথিবীতে আর কিছু করার নাই,তোমার দেয়া দুটো রাস্তার মধ্যে যে কোন একটা আমাকে পচ্ছন্দ করতেই হবে’?
‘তেরেসা,মনে রাখবে তুমি যা সত্যি মনে কর,পুন্যতার যে পৃথিবী তোমার স্বপ্নের,সেই পৃথিবী আছে শুধু সবলদের রাজ্যে,তুমি তো দুর্বল,অসহায় একজন।ও তোমার স্বপ্নের জগত হতে পারে বাস্তবতার না।তা ছাড়া শরীরের এই পবিত্রতা,কুমারীত্ব যাই বল,তাকে একেবারে জীবন মরণের আসনে নিয়ে যাচ্ছ,এটা তোমার চ্রম বোকামী।তোমার মত এক বুদ্ধিমতী মেয়ে কি ভাবে বিশ্বাস করতে শরীরের কোন অঙ্গে একটু চামড়া থাকলো না ছিন্ন হয়ে গেল,তার ওপর নির্ভর করছে তোমার বেঁচে থাকা।প্রকৃতির সব সৃষ্টিই কোন না কোন কাজের জন্যে সাজানো,তাদের সেই নিয়ম ধরে এগিয়ে যাওয়াটাই কাম্য।মেয়েদের সৃষ্টি পুরুষদের জন্যে,তারা এক ছাড়া অন্য অসর্ম্পুন,তাদের শরীরও সাজানো সে ভাবে,এটা বলাই যায় প্রকৃতির সেই স্রোতে বাঁধা দেয়া অবশ্যই অপরাধজনক।তোমার এই পুন্যের বিশ্বাস প্রকৃতির সেই ছন্দ তছনছ করে দেয়।যাই হোক আমি তোমাকে খুশী করতে তোমার শরীরের এই পুন্যতা আমি কেড়ে নিতে চাই না।নারীর পুরুষকে সন্তষ্ট করার অনেক উপায় আছে,তুমি আমাকে তার কিছুটা দিলে না হয়।এর পরে আর বেশী কিছু বলার দরকার আছে বলে মনে হয় না,তেরেসা?বোঝার চেষ্টা কর,অযথা কথা বাড়িয়ে আর কি হবে’?
জাষ্টিন উত্তর দিল,‘জানি না তুমি ঠিক কি বোঝাতে চাচ্ছ?তবে মনে হলো সেটা আমার নারীত্বকে অসম্মান করার এক প্রস্তাব।ঈশ্বরের কঠোর শাস্তি নেমে আসবে,এ ধরণের অপকর্মে’।
‘কি বলছো,তুমি?জানি না,এই সব আজেবাজে গল্প কে শেখালো তোমাকে?জীবনের উৎস সাজানো আছে আমাদের শরীরে,আর সেটাকে যথাযথ ব্যাবহার না করাটাই অপরাধ,সেটাই আনবে তোমার ঈশ্বরের শাস্তি।আর প্রকৃতি যদি আমাদের সৃষ্টি না করে থাকে শুধু নতুন জীবন আনার জন্যে,তা হলে কি যায় আসে তুমি তোমার শরীরের যে কোন ব্যাবহারে?আর আমাদের নতুন জীবন আনার সেই ক্ষমতা কি ভাবে ব্যাবহার হলো তাতে কি যায় আসে?নতুন প্রান,নতুন জীবন এটাই কি বিধাতার পাপ পুন্যের হিসাব’?
ডাকাতের সর্দার নিজের কথায় বেশ উজ্জীবিত হয়ে গেছে তখন,সে ভাবছিল হয়তো জাষ্টিন বুঝবে তার কথা।জষ্টিন ভাবছিল,শরীরের পবিত্রতা,কুমারীত্ব রক্ষার আর কোন উপায় নাই,ডাকাতের প্রস্তাব মেনে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ,শারিরীক অত্যাচারে জর্জিত হওয়ার চেয়ে।ঠিক সে সময় গাড়ীর চাকার শব্দ শোনা গেল, ডাকাতের সর্দার নিজের আনন্দ একপাশে রেখে কাজের জন্যে সঙ্গীদের সঙ্গে চলে গেল।কিছু সময়ের মধ্যেই ফিরে আসলো সবাই,রক্ত মাখানো শরীর আর সাথে লুঠপাঠের টাকাপয়সা।
মাদাম ডুবুয়া বললো,‘এখানে থাকা,আর কোন ভাবেই ঠিক হবে না,চল সবাই সরে পড়ি’।
পরের দিন তারা পৌছালো চান্টিলি এলাকার জঙ্গলে,রাতের লুটের টকাপয়সা হিসেব করে দেখলো সবাই, তেমন কিছুই না।
এক ডাকাত মন্তব্য করলো, ‘এ ভাবে এ কটা টাকার জন্যে খামাখাই কয়েকজনকে খুন করলাম’।
‘না বুঝে কেন মন্তব্য করছো’,মাদাম ডুবুয়া বললো,‘আমিই তোমাদেরকে বললাম ওদের শেষ করার জন্যে, অবশ্য তার কারণ ছিল।আইনের চোখে ডাকাতি আর খুন একই কথা,তা হলে ভেবে দেখ আমাদের ডাকাতি ঢাকার জন্যে কেন খুন করবো না,আমরা?ঐ তিনজন খুন হলো আমাদের স্বার্থে,ওরা বেঁচে আছে কি না,তাতে তোমাদের কারও কোন কিছু যায় আসে না,তবে ওরা বেচে থাকলো হতো সাক্ষী?যদিও আমাদের খুব একটা লাভ হয়নি,তবে কোন ক্ষতি হয়নি আমাদের।তোমরা প্রশ্ন করতে পার,পাপ পুন্য নিয়ে,তবে এই পাপ পুন্যের বিশ্বাস আর কিছু না,সাজানো এক খেলা।দুর্বলতা,অন্ধ বিশ্বাস,যা কোন প্রশ্ন যুক্তির উর্ধে,আর আকাশ ছোঁয়া ধর্মের সংষ্কার,মানুষকে শেখায় ঐ সব পাপ পুন্যের হিসাব।ভেবে দেখ এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে বিশ্বাসীদের অবস্থান কোথায়?ওরা শুধু কান্নায় হতাশায় সবকিছু মেনে নেয়,জানে না যুদ্ধ করতে,সেটা অন্যায়।যারা সবল তারা সব কিছু একপাশে সরিয়ে খুঁজে নেয় নিজেদের আনন্দ,আর হতাশা ঠেলে দেয় দুর্বলদের কাছে,যারা আকাশে খোঁজে সান্তনা।ক্ষমতাশালি সবল লোকজন মুখ লুকিয়ে হাসে ঐ সাজানো নিয়ম,বিশ্বাসে’।
জাষ্টিন বললো, ‘এ আপনি কি বলছেন মাদাম,আপনি কি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করছেন?ঐ বিশ্বাস মানায় হয়তো বা ক্ষমতাশালি প্রাসাদের লোকজনকে,তবে আমরা ডাকাতি করছি,বিপদ ছুটছে আমাদের পেছনে, আর আমাদেরই তো সবচেয়ে দরকার সেই অজানা শক্তির বিশ্বাস।আমরা সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি,সমাজ তো এক হয়ে আছে আমাদের বিরুদ্ধে,আমাদের দরকার সহায়তা।অবাক লাগছে আবার আপনি সবাইকে নিজের কথা ভাবতে বলছেন,সেটা তো আমাদেরকে দুর্বলই করবে।আপনার কাছে সেই মানুষ কি দোষী যে টাকার জন্যে নিজের সঙ্গীকে খুন করবে?আর কি যুক্তি দিয়ে আপনাকে বোঝাবো, ঐ ঈশ্বরে সাহায্য দরকার আমাদের’।
ডাকাতদের সর্দার তখন মন্তব্য ক্রলো, ‘আমার প্রিয় তেরেসা,আপাতঃ দৃষ্টিতে তুমি যা বললে,মনে হয় সেটাই সত্যি।তবে তোমার ঐ পাপ পুন্যের ঈশ্বর আমাদেরকে এক করে রাখছে না,আমরা এক হয়ে আছি আমাদের স্বার্থ।যে কারণে এই দলের সবচেয়ে শক্তিশালী হয়েও বাদানুবাদ হলেও আমি কাউকে খুন করিনা, কারণ আর সবাইকে দরকার আমার।আমাকেও যে ওরা খুন করেনি সেটাও একই কারণে।স্বার্থপরতা আমাদেরকে এক করে রাখছে,যা আমাদের দল,তোমার কাছে হয়তো সেটা মনে হতে পারে অন্য কিছু।ভেবে দেখ সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে ঐ স্বার্থপরদের সাথে যোগ দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ কি না?।মানুষ সবাই স্বার্থপর,নিষ্ঠুর,স্বৈরাচারি,সবাই শুধু নিতে দিতে জানে না কেউ।মানুষ যুদ্ধ করে যায় নিজের জন্যে,আইনের হাত হোক,রক্ত ছড়িয়ে,হোক সে যে কোন ভাবে।আর আমরা যাকে সমাজ বলি,সেটা আর কিছু না ঐ খুনী,নিষ্ঠুর মানুষদের সাময়িক সস্তির অবস্থা।আমার বিশ্বাস কর্পদকশুন্য মানুষদের সমাজের ঐ চাপানো নিয়ম কানুনের আওতার বাইরে থাকার চেষ্টা করা উচিত’।
জাষ্টিন বললো, ‘তোমার কি মনে হয় না,যুক্তিযুক্ত মানুষ চেষ্টা করবে না,পাপ থেকে দূরে থেকে নিজেকে অনন্ত কালের সুখের খোঁজ করতে?ধরে নিলাম পৃথিবীতে সাময়িক আনন্দ ঠিকই পাওয়া যাবে,তবে ঈশ্বরের আক্রোশ থেকে কে রক্ষা করবে তোমাকে?তুমি কি মনে কর তোমার চিন্তাধারার বাইরে আর কোন কিছু থাকতে পারে না,হতে পারে না।কেন ভুলে যাচ্ছ,মৃত্যু আছে,আছে পরকাল,আছে ঈশ্বরের বিচার’?
না থেমে জাষ্টিন বলে গেল, ‘দুর্বল,অসহায় ঈশ্বর ছাড়া আর কার কাছে আশ্রয় খুঁজবে?মানুষ আমাদের ফেলে দিলেও আমাদের আছে ঈশ্বর’।
‘শোন প্রিয় তেরেসা,এই যে স্বর্গ,পাপ পুন্য,ঈশ্বর আর কিছু না সবই বানোয়াট,ক্ষ্মতাশালী,সবলদের সাজানো। বলতে পার দুর্বল,অসহায়দের কষ্ট,যন্ত্রনা প্রাপ্যই,তাদের আছে শুধু মেনে নেয়া,বিশ্বাস করা সবই ঈশ্বরের মানুষকে পরীক্ষা করার পদ্ধতি!ঐ বিশ্বাস আর কিছু না প্রতিপত্তীশালীদের জন্যে হিসাব করে তৈরী করা, এটাই বাস্তব।আমরা যাকে পাপ বলি,আমরা যে অন্যায় করি,সেটা আর কিছু না আমাদের জন্যে সাজিয়ে রাখা।কেন অনুতাপ করবো আমরা,কেন না সেটাই তো আমাদের ভাগ্যের ইতিহাস।অন্যায় করাটাই স্বাভাবিক, বরং নিজেকে প্রকৃতির স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোই চরম পাপ।এতোমার ধর্ম বিশ্বাসের কথাই ধরা যাক, আদিম মানুষেরা বজ্রপাত,বন্যা,সূর্যের আসা যাওয়া দেখে ভাবতো নিশ্চয় কোন না মহাশক্তির নিয়ন্ত্রন আছে এই সব কিছুর পেছনে,আর আরম্ভ হলো সেই শক্তির উপাসনা।বলতে পার এক এক গোত্র খুঁজে নিল তাদের নিজেদের পচ্ছন্দের ঈশ্বর আর সেখান থেকেই এলো নানান দেব দেবী,ঈশ্বরের নানান চেহারা। দেব দেবীর বিশ্বাসে আর কিছু নাই,আছে মানুষের অন্ধত্ব।যদিও একেক দেব দেবী দেখতে একেক রকম,তবে এক জায়গায় আছে মিল সবার,তাদের জন্ম আমাদের অন্ধত্বে।তেরেসা,বোকারা না হয় পুজা করে ঐ দেব দেবীদের,তবে বুদ্ধিমানেরা কেন বির্সজন দিবে তাদের আনন্দ,আয়েস,ঐ অন্ধত্বে।তুমিই বল,কেন কেউ গল্পের বোকা কুকুরের মত হারাবে তার সব,শুধু পানিতে নিজের ছায়া দেখেই।জেনে রাখ,ঈশ্বর বলে কোন কিছুই নাই,কোন স্ময় ছিল না।প্রকৃতি নিজেই স্বয়ং সর্ম্পুন,সেখানে প্রয়োজন নাই কোন ঈশ্বরের।যদি বিশ্বাস ক্র,একসময় ঐ স্বর্গে অন্যায়ের কোন জায়গা ছিল না,তা হলে কেন বদলে দিল সবকিছু,তোমার সেই ঈশ্বর?সবকিছুই যদি ভাল হয়,তবে তোমার সেই ঈশ্বর আর কিইবা করতে পারে?প্রকৃতি যদি চলে নিজের গতিতে সেখানে কি দরকার কারও নিয়ন্ত্রন করার?ভেবে দেখ, এই নানান যুক্তি শুধুই এঁকে অন্যের বিপক্ষে।তোমার ঐ পাপ পুন্যের যুদ্ধের উদ্ভব বলতে পার,ভয় আর জ্ঞানহীনতা থেকে।যারা তোমাকে ঐ বিশ্বাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে,তারা জানে তুমি নির্বোধ,আর তুমি খুঁজে নিতে চাও না,সত্যিটা কি’।
জাষ্টিন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,শোনা গেল ঘোড়া্র পায়ের শব্দ।ডাকাতদের সর্দার বললো, ‘সবাই অস্ত্র নিয়ে তৈরী হও,যেতে হবে আমাদের’।নতুন আরেক অভিযান শেষ করে,অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই ফিরে আসলো,সাথে এক দুর্ভাগা এক পথযাত্রী।ডাকাতেরা বলাবলি করছিল,লোকটা ব্যাবসায়ী,নাম ফ্লোরেন্ট,লিয়ন থেকে ব্যাবসা সেরে বাড়ীতে ফিরছিল।
ফ্লোরেন্ট ডাকাতদের তার টাকা পয়সা যা আছে সব দিতে দ্বিধা করেনি,বেঁচে থাকার জন্যে।তার সাথে বেশ টাকা পয়সা ছিল,যা নিঃসন্দেহে ছিল ডাকাতদের খুশীর কারণ।কথা দিলেও ডাকাতদের সর্দার পিস্তলটা ফ্লোরান্টের মাথার কাছে ধরে বললো, ‘চাইলেও আমরা তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না।তুমি আমাদের ডাকাতীর চাক্ষুষ সাক্ষী,তোমার কথায় আমাদের সকলের মাথা যাবে গিলোটিনে’।
জাষ্টিন হঠাৎ ডাকাতদের সর্দারের সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বললো, ‘অনুরোধ করছি মানুষটাকে ছেড়ে দাও।অন্ততঃ আমার এই অনুরোধটা শোন,দোহাই তোমাদের।তা ছাড়া যে মানুষটা ভয়ে কাঁপছে শুধু না,ওর কাপড় চোপড়ও নষ্ট হয়ে গেছে,তার কি সাহস হবে এ ঘটনা নতুন করে দেখার’।
সেই মুর্হুতে ঐ মানুষটার জীবন বাচানোর জন্যে জাষ্টিন বললো, ‘ফ্লোরেন্ট!আমাকে চিনতে পারনি,হয়তো ভুলে গেছ আমাদের আত্মীয়তার কথা।হয়তো তোমার আত্মীয়কে এ ধরণের অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে গেছ,তবে এটাই আমি’।
জাষ্টিন আবার ডাকাতকে অনুরোধ করলো, ‘দোহাই ঐ অসহায় লোকটাকে মেরে ফেলে,কি লাভ হবে তোমার?আমি তোমাকে খুশি করার জন্যে যে কোন কিছুই করতে রাজী আছি,তবে ওকে মেরে ফেল না’।
ডাকাতদের সর্দার বললো, ‘তুমিতো জান,আমি কি চাই,আমার প্রিয় তেরেসা’।
জাষ্টিন বললো, ‘ঠিক আছে,তুমি যা চাইবে আমি তাই করবো।না,না,আমি কোন আপ্ততি করবো না’।
‘ঠিক আছে আমরা ওকে প্রানে মারবো না,তবে এক শর্তে,আমাদের দলে যোগ দিতে হবে’।ব্যাবসায়ী ফ্লোরেন্টের অমত করার কোন কারণ ছিল না,গুলি খেয়ে মরার চেয়ে ডাকাত দলে যোগ দেয়ায় কোন বাচবাচিক্য করার প্রশ্নই আসে না।
ডাকাতদের সর্দার জাষ্টিনকে বললো,‘আশা করি তুমি তোমার কথা রাখবে।আজকে আমিবেশ ক্লান্ত,রাতটা তুমি মাদাম ডুবুয়ার পাশে কাটাও।সকালে দেখা হবে তোমার সাথে,তবে বলে রাখছি কথার রকম ফের হলে যে কি হবে সেটা আমি বলতে চাই না’।
জাষ্টিন বললো, ‘আমি আমার কথা রাখবো,তোমার রাতটা কাটুক মিষ্টি স্বপ্নে’।
রাতে মদ খেয়ে হৈচৈ করে মাতাল,ক্লান্ত ঘুমাতে গেল ডাকাতেরা।এমন কি মদের প্রভাবে মাদাম ডুবুয়াও মাতাল হয়ে পড়ে ছিল।সকলের গভীর ঘুম আর নাকের ডাক শুনে,জাষ্টিন দেখলো ফ্লোরেন্টের সাথে কথাবার্তা বলা সম্ভব।
ফিসফিস করে জাষ্টিন বললো, ‘জানি না তুমি কি ভাবছো,তবে আমিও ডাকাতদের একজন বন্দী।তুমি হয়তো জানই আমি তোমার কোন আত্মীয় না,কোন ভাবে তোমাকে বাঁচানোর জন্যে ঐ মিথ্যার আশ্রয় নিতে হলো আমাকে।শোন আমি ভাবছি এখান থেকে পালানোর কথা,এ ভাবে ডাকাতদের জীবন কাটানো অসহনীয়।।আমি নিজেকে তোমার হাতে সপে দিচ্ছি।জানি তোমার মনে আছে সহানুভুতি,আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না,আমার কিছুই নাই আছে আমার শরীরের পুন্যতা’।
ফ্লোরেন্ট যা পারলো বলে গেল,তবে বেশী কথা বলার সময়টা কোথায়?জাষ্টিন বুদ্ধি করে ফ্লোরেন্টের টাকা পয়সার ব্যাগ উদ্ধার করে,ডাকাতদের এলাকা ছেড়ে ছুট দিল মুক্তির পথে।সারাটা রাত,হাঁটা দৌড়ানোর পর তারা পৌছালো ছোটখাট একটা শহরে,আর তখন ভয়ের মানুষ দুজন বদলে হয়ে গেছে সাধারণ দুজন।
ভাব ভঙ্গী,আঁচার ব্যাবহারে ফ্লোরেন্ট ছিল যেন সত্যিই একজন ভাল মনের মানুষ,সে জাষ্টিনকে বললো,সে চেষ্টা করবে জাষ্টিনের মনের ইচ্ছা পুর্ন করার জন্যে।
‘আমার এই জীবন,টাকাপয়সা,সবকিছুই তোমার দেয়া,তেরেসা।আমার নতুন জীবন তুমি ছাড়া অসর্ম্পুন হয়ে যাবে।বাকী জীবনটা তোমার সাথে কাটাতে চাই,আমাকে করুনা ক্র।আমি নিজেকে তোমার হাতে সপে দিচ্ছি, বিয়ের বন্ধন আমাদেরকে আরও কাছে নিয়ে যাবে’।
জাষ্টিন সবকিছু শুনে অবাক,বললো, ‘এ যে আমার চিন্তার বাইরে।আমি চাই,তুমি আমার জন্যে নিজের ভব্যিষত নষ্ট করো না।তোমার সামনে আছে সুন্দ্র ভব্যিষত,তুমি ফিরে যাও তোমার জীবনে।শুধু লিয়নে আমাকে একটা থাকার জায়গা যোগাড় করে দাও,তাতেই আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো’।
অবাক হয়ে ফ্লোরেন্ট বললো, ‘ঠিক আছে,নিশ্চিন্ত থাক,আমি অবশ্যই তোমার জন্যে একটা সুব্যাবস্থা করবো’।
ফ্লোরেন্ট,জাষ্টিনের কাছে জানতে চাইলো,তার প্যারিস ছাড়ার কারণ,সকলের স্বপ্নের শহরই যাকে বলা যায়। জাষ্টিনকে সব কিছু খুলেই বললো,এমন কি এটাও সে বাদ দিল না,এক হিসাবে আইনের চোখে স্ব একজন পলাতক আসামী।
‘না,না,ও সব কিছু না,বোঝাই যাচ্ছে তুমি পরিস্থিতির স্বীকার।যদিও সমাজ,আইন এ সব ব্যাপারে একেবারেই অন্ধ।চিন্তা করো না,ভয়ের কোন কারণ নাই,আইনের লোকজন তো আর বাড়ীতে বাড়ীতে সারা দেশ খুঁজে বেড়াবে না।এক মহিলার সাথে আলাপ হবে কাল,তার বাসাতেই তোমার থাকার বন্দোবস্ত হবে’।
রাতটা ঐ শহরে কাটানোর পর,সকালে তারা বেরোলো,বেশ সুন্দর কাটলো তাদের দিনটা,ফ্লোরেন্ট জাষ্টিঙ্কে নিয়ে গ্বল মাত্র কমাইল দূরে।
‘তাড়াহুড়ার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না’,ফ্লোরেন্টের গলা কৃতজ্ঞতায় ভেজা ভেজা,সে বারে বারে বলছিল,সে ভুলতে পারছে না,জাষ্টিন সাহায্য না করলে তার অবস্থাটা কি হতো?সে বুঝে উঠতে পারছে না, ঠিক কি ভাবে দেখাবে তার কৃতজ্ঞতা?
দুপুরের দিকে শহরের রাস্তা ছেড়ে তারা ঢুকলো জঙ্গলের রাস্তার দিকে,বেশ ঘন জঙ্গলটা যেখানে সুর্যের হাসি উকি দিচ্ছিল শুধু মাঝে মাঝে।নিস্তব্ধ চারপাশ,দু একটা পাখীর ডাক মাঝে ছিল,শরীর শিহরানো পরিস্থিতি। ফোরেন্টের সাথে কথাবার্তার পরে জাষ্টিনের মনে আর কোন ভয় ছিল না,স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাচ্ছিল সে।তার কাছে ফ্লোরেন্ট ছিল নিঃসন্দেহে দেবতাতুল্য একজন,কোন সন্দেহ ছিল না তার মনে,সে অন্ততঃ তার জন্যে এক সুবন্দোবস্ত করার চেষ্টা করছে।
জাষ্টিন সামনে আর ফ্লোরেন্ট হেঁটে যাচ্ছিল পেছনে,এক সময় জাষ্টিন ঘুরে জিজ্ঞাসা করলো, ‘আর কতদূর’?
তখন,ফ্লোরেন্ট দাঁড়িয়ে ঘুষি মেরে বললো, ‘এত কথা বলছিস,কেন বেশ্যামাঘী’,অচেতন হয়ে মাঠিতে পড়ে ছিল জাষ্টিন…।
জ্ঞান ফিরে জাষ্টিন দেখলো,একটা গাছের গোড়ায় শুয়ে আছো,শরীরে রক্তের ছাপ,আর ব্যাথায় অসার হয়ে আছে,কেউ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সেই সম্মান যা ছিল তার গর্বের,তার কুনারীত্ব।বিভ্রান্ত,হতাশ,নারীত্বের সম্মান হারানো জাষ্টিন ভাবছিল,এর চেয়ে মৃত্যুও হয়তো ছিল ভাল।
‘কি এক পশু?আমি তার কোন ক্ষতি করিনি,যাতে এটাই প্রাপ্য ছিল আমার।মৃতুর হাত থেকে মানুষটাকে বাচালাম,তার লুঠ করা টাকাপয়সাও ফেরত এনে দিলাম।আর এই হলো আমার ফিরে পাওয়া,নিয়ে গেল আমার সম্মান,গর্ব।হায় মানুষ!শুধু যদি নিজের কামনাকে প্রাধান্য দাও ঐ সূদুর রাশিয়ার গভীরের নেকড়ে বাঘেরাও তোমাদের ঘৃনা করবে’।
কান্নার চোখে হাত তুলে সে আকাশের প্রাসাদের সেই মহাপরিচালকের দিকে তাকিয়ে হাঁটু গেড়ে জাষ্টিল বলছিল, ‘হে মহান,শক্তিশালী,ঈশ্বর,তোমার বিশ্বাসে আমার মন ভঁরে আছে গর্বে।তুমিই আমাকে প্তহ দেখাও,তোমার করুনায় আমার ভাল মন্দ।আমাকে পরিত্রান দাও এই বিপদ,অসহায়্ ভাব থেকে।মহা শক্তিশালী তুমি,তুমি জান আমি নিরপরাধ,উদ্ধার কর আমাকে।আমি মানুষের উপকার করে শুধু দুঃখ কষ্ট পাইনি,বরং অতাচার অন্যায় পেলাম তাদের কাছে,আর যাই হোক তুমি অন্ততঃ তাদের যথাযথ শাস্তি দিও’।
প্রার্থনা শুধু দুর্বলদের শেষ আশ্রয়,জাষ্টিন সাহস নিয়ে উঠে দাড়ালো,কাপড়চোপড় ঠিকঠাক করে নিয়ে একটা ঝোপের পেছনে শুয়ে থাকলো।বেশ ক্লান্ত তখন জাষ্টিন,সারা শরীরে তার ব্যাথা,আর কোথাও তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিল না সে সময়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



