somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" অসম্ভব রূপবতী একজন নারী "

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকক্ষণ থেকে আমি একটি বন্ধ দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি। এই দরজাটি কার তা আমার জানার কথা নয় । আর আমি তা জানতেও চাই না। শুধুমাত্র অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতেই এই দরজার সামনে আশ্রয় নেয়া। দরজার ওপাশ থেকে খুব করুণ সূরে মান্নাদে সাহেবের কন্ঠসর ভেসে আসছে, তিনি খুব করুণ সূরে গাইছেন “ সবাইতো সূখি হতে চায় কেউ সুখি হয় কেউ হয় না, জানি না বলে যা লোকে সত্যি কিনা, কপালে সবার নাকি সূখ সয় না ” বড়ই সত্য কথা, কপালে সবার সূখ সয় না ।
আমার সামনে মুষলধারে বৃষ্টি আর পশ্চাতে মান্নাদে সাহেবের করুণ কন্ঠস্বর , আমি বিমোহিত। মনটা কেমন যেন করছিলো। আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না, সূন্দর পরি-পাটি পোশাক গায়ে না থাকলে হয়তো বহু আগেই দু:খভারাক্রান্ত মন নিয়ে বৃষ্টিকে সঙ্গী করে পথে নেমে যেতাম। কিন্তু মনকে প্রশ্রয় দিলাম না। এমনিতেই গত দু’দিনের বৃষ্টিতে বহু কাপর নষ্ট হয়েছে। আর সম্ভব না।
কতক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম বলতে পারবো না, তবে হঠাৎ দরজা খুলে যাওয়াতে কিছুটা অসস্থিবোধ করলাম। বারো/তেরো বছর বয়সী একটা মেয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।বেশ রোগা পটকা টাইপের চেহারা। আমাকে দেখে ভূত দেখবার মত করে চম্কে উঠলো এবং সঙ্গে সঙ্গেই দরজা বন্ধ করেদিলো।

কিছুক্ষণ পর দরজার ওপাশ থেকে চিকার মত কন্ঠে কে যেন চি চি করে বল্ল আপনি কে, কাকে চান ? আমি উত্তর দিলাম না। চিকা কন্ঠ আবার চি চি করে বল্ল আপনি কে ? আমি এবারও উত্তর দিলাম না। এইবার চিকা কন্ঠসর বল্ল আপনি কি চান...কাকে চান....আপনার নাম কি ? আমি নিরুত্তরই রইলাম। মান্নাদে সাহেবের গান বন্ধ হয়ে গেলো। আমি নিশ্চুপ দাড়িয়েই রইলাম।

কিছুক্ষণ পর অসম্ভব রূপবতী একজন নারী এসে দরজা খুল্লেন এবং নিশ্চুপভাবে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন । চোখগুলো স্বচ্ছ কাঁচের মত। পেন্সিলে আঁকা নাকে নোলক আর দুধে আলতা গায়ের রং। ঠোটগুলো যেন গোলাপের পাপরী। কচুপাতা রঙের শাড়ী আর হাতভড়া কাঁচের চুড়ী, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম আর শাড়ীর আঁচল কমোরে গোজা, হাতে খুনতী। অসম্ভব রূপবতী। বুকে ব্যাথা হবার মত রূপবতী। কে বলে বাঙালী নারী রূপবতী হয় না। আমি বিস্মিত এবং ‘থ’ হয়েগেলাম ।

আমি বল্লাম কেমন আছেন ?
সে চোখ বড় বড় করে বল্লেন আপনি কে ?
আমি কেউ না....I'm nobody.
কাকে চান ?
এক কাপ ‘র’ চা চাই আর একটা দেয়াশলাই চাই।
ফাজলামো করছেন ?
আপনি কি আমার বিয়াইনী লাগেন যে আপনার সাথে ফাজলামো করবো।
এখান থেকে চলে যান।
কেন ?
এটা আমাদের বাড়ী।
তো….
তো আপনি এখানে দাড়িয়ে থাকতে পারবেন না।
আমার অপরাধ ?
আপনি যাবেন কিনা বলেন ?
আমি যাবো না।
ওকে ফাইন ওয়েট এন সি….
অসম্ভব রূপবতী একজন নারী আমার সাথে এমন নিষ্ঠুর ব্যাবহার করছেন তা আমি ভাবতেই পারছি না। কিন্তু আমার চলে যেতেও মন চাইছে না, যদিও তিনি আমার মূখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলেন।

একটু পর একটা হিন্দি গান শুরু হল “ সাওয়ান বারসে তারসে দিল, কিউ না নিখলে ঘারসে দিল….” তার পর আবার দরজা খুলে গেলো। অসম্ভব রূপবতী নারী আবার আমার সামনে এসে দাড়ালেন এবং বল্লেন আপনার সমস্যা কি ?
আমি লক্ষ করলাম এই অল্প সময়েই তিনি খুব সূন্দর করে সেজেছেন, চোখে মীনা কুমারীর মত করে কাজল দিয়েছেন এবং শরীর থেকে হালকা বেলী ফুলের সুবাস ভেেস আসছে।
আমি বল্লাম এক কাপ ‘র’ চা আর একটা দেয়াশলাই দিলেই চলে যাবো।
আপনি এমন করছেন কেন?
আমি কেমন করছি !
ধূরররর ছাই….বলে আবার দরজা বন্ধ করেদিলেন তিনি।
আমি ঠায় দাড়িয়ে রইলাম আবার দরজা খোলার অপেক্ষায়।

কিছুক্ষণ পর আবার দরজা খুলে গেলো............
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×