somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিকুচি করি সাহিত্যের

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি করিয়া আরম্ভ করিব তাহা মাথায় ঢুকিতেছে না। বহুদিন সাহিত্য চক্রে যোগ দিই না। তাহার উপরে লেখায় আমার কুখ্যাতি। এদিকে লেখাও জমা দিতে হইবে শীঘ্র। কি আর করা, মনে সাহিত্যের ভাব উদয় হইয়াছে বলিয়া নয়, নিতান্তই দায়ে পড়িয়া লিখিতে বসিলাম, দু তিনখানা কলম ভাঙ্গিয়া যদি কিছু বাহির হয়।

লিখিবার বিষয় নির্ধারণ করা হইয়াছে ‘শীতকাল’। ইহা লইয়া লিখিবার তেমন কিছু পাইতেছি না। এদিকে না লিখিলেও বিপদ। ভাবিলাম, যেনতেন প্রকারে কিছু একটা লিখিয়া দিই। যা প্রথমেই মাথায় ঢুকিল তাহা হইল কবিতা। তাও যে সে কবিতা নহে, একেবারে আধুনিক উত্তুঙ্গ কবিতা। ‘কোনও এক শীতের সকালে তোমারে দেখিয়াছি আমি গহীন নীরব অরণ্যে’, এই জাতীয় কতিপয় ছত্রও লিখিলাম। কিন্তু ওই পর্যন্তুই, কলম আর আগাইল না। ক্ষণকাল পরে ভাবিলাম গদ্য লিখিব। নতুন উদ্যমে কাগজ কলম লইয়া বসিলাম, যেন জগতের শ্রেষ্ঠ গদ্যটি এইমাত্র এইখানে প্রসূতঃ হইবে। কিন্তু বিধি বাম। সাহিত্যে যে এখনও অ আ ক খ স্তর পার করিতে পারে নাই, তাহার হাতে গদ্য! গোবরে কষ্টেসৃষ্টে যদিও বা পদ্মফুল ফোটানো যায়, বহুক্ষণ পন্ডশ্রম করিতা এতটুকুন বুঝিলাম, গদ্য আমার জন্য নহে।

শেষবেলায়, যাহা বাকি থাকে তাহা হইল প্রবন্ধ। এই ফাঁকে একটি কথা বলিয়া রাখি, আগামী পরশুদিন আমার কলেজে সাময়িক পরীক্ষা আরম্ভ হইবে। বছরব্যাপিয়া বাউন্ডুলেপনা করিয়া বেড়াইয়াছি, এইবার মনা পড়িয়াছে ফান্দে। মাতামহোদয় অবশ্য আমার ওপর বড়ই প্রীত। তিনি ভাবিতেছেন, তাহার বাউন্ডুলে ছেলেটি বুঝি এইবার পরীক্ষার জন্য হইলেও বশ মানিল। কিছুক্ষণ পরপরই তিনি দুধ, চানাচুর ইত্যাদি টেবিলে রাখিয়া যাইতেছে। যদিবা ঘুণাক্ষরেও তিনি টের পাইতেন তাহার গুণধর ছেলেটি খাতায় মুখ গুঁজিয়া পড়াশুনার নাম করিয়া কী কুকীর্তি করিয়া চলিতেছে, তাহা হইলে বোধকরি তিনি মনে দুঃখে বাড়ি ছাড়িতেন।

যাহা হউক, ইত্যবস্যরে ‘শীত’ নামক প্রবন্ধ লইয়া কিছুদূর আগানো গেল। প্রবন্ধের রূপ দেখিয়া আমি নিজেই মুগ্ধ। মনে ফুর্তি, বুঝিবা অদূর ভবিষ্যতে রবীন্দ্র-নজরুলের যুগ শেষ হইল বলিয়া! দ্বিগুণ উৎসাহে লিখিতে থাকিলাম। যখন প্রায় শেষ করিয়া আনিয়াছি, এমন মুহূর্তে ঘটিল সেই ঘটনা। ইহার জন্য আমি নিয়তিকেই দায়ী করিব, নতুবা কেনই বা তখন আমি প্রবন্ধখানা জোরে জোরে পড়িতেছিলাম, আর কেনই বা ঠিক তখনই পিতৃমহোদয় ঘরে ঢুকিলেন। আর পিতৃমহোদয়, উহার কথা আর নাই বা বলিলাম, যিনি সাহিত্যকে বলেন ছাগলের খাদ্য, তাহার সামনে প্রবন্ধ পাঠ! পৃষ্ঠদেশে বেত্রাঘাতের দাগ আর ব্যাথা লইয়া সেই রাতে আমি দুই চোখ এক করিতে পারি নাই।

পরের দিন সকাল হইতে বাড়ির সদস্যদের সাহিত্যকর্ম লইয়া টিপ্পনি, বেত্রাঘাত লইয়া অবিরাম হাসাহাসি চলিতেছিল। ঘরের এক কোণে মুখ চুন করিয়া বসিয়া থাকা ছাড়া আমার আর কোন গত্যন্তর ছিল না। অবশেষে আমিও ‘নিকুচি করি সাহিত্যের’ বলিয়া দরজা বন্ধ করিয়া পদার্থবিজ্ঞান পড়িতে বসিলাম। ফলে, অকালমৃত্যু ঘটিল এক উদীয়মান জ্যোতিষ্কের, বিশ্ব হারাইল এক অমূল্য রত্ন।

আর আমি হারাইলাম? থাক, তাহা আর নাই বা বলিলাম।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×