somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যথাযোথ পৃষ্ঠপোষকতা মেধা বিকাশের প্রধান সহায়ক!

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেধা হলো একজন মানুষের মধ্যকার সুপ্ত এবং প্রকাশিত প্রতিভা; যা তার যোগ্যতা ও ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর এইগুলো ব্যবহার করে সে তার নিজের এবং অপরের কল্যাণ সাধন করতে পারে। আর এর জন্য চাই সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।

মেধা বিকাশের পিছনে যে সকল বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায় তার মধ্যে পৃষ্ঠপোষকতা অন্যতম। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পরিচালিত হয়; একজন আদর্শ পৃষ্ঠপোষকের হাত দিয়ে। যে কিনা একজন মানুষের মধ্যকার ঘুমিয়ে থাকা মনুষত্যকে জাগিয়ে তোলে, তার নিস্তেজ যোগ্যতাকে কর্মক্ষম ও কর্মঠ আলোতে ফিরিয়ে এনে প্রদান করে সুবর্ণ সুযোগ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ পৃষ্ঠপোষকের চরিত্রটির দ্বায়িত্ব পালন করতে পারে যে কেউই। হতে পারে সে মা, হতে পারে বাবা, হতে পারে ভাই-বোন কিংবা কোন শুভাকাঙ্খি। যাইহোক, আজ আমরা দেখবো সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা কিভাবে মেধা বিকাশের প্রধান

যদি শৈশবকাল থেকেই কোন শিশুকে নেতিবাচক কথা শুনানো হয়, যদি তাকে সব সময় অন্যের সাথে তুলনা করা হয়। কিংবা তার সাথে নেতিবাচক আচরণ করা হয়, তাহলে তার মেধার সঠিকভাবে বিকাশ হবে না। কারণ যখন তাকে সব সময় নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে, অন্যদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে তখন তার নিজের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে যায়। ফলে সে যা পারে, তার যে ক্ষমতা আছে, সেই আত্মবিশ্বাস সে হারিয়ে ফেলে। একটা সময় এসে তার মধ্যে হতাশা, হীনম্মন্যতা, নেতিবাচকতা সৃষ্টি হয়। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। যার জন্যে সে মানসিক সমস্যায়ও আক্রান্ত হতে পারে। অনেকে আবার এ হীনম্মন্যতা, হতাশা থেকে মুক্তির জন্য মাদকে আসক্ত পর্যন্ত হয়। তাই এই সময় সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরী।

শিশুকে যদি তার নিজের কাজ করতে না শেখানো হয়, তাহলে সে তার মেধার সঠিক বিকাশ করতে পারে না। একটি পাচঁ বছরের মেয়ের হাত থেকে চিরুণী পড়ে গেছে। মা তাকে তা তুলে দিচ্ছেন। যখন ওনাকে বলা হলো, ও তুলে নিক। তিনি বলেন, না ও পারবে না। এর ফলে কাজ করার যে মেধা তার মধ্যে আছে তা ঠিকমতো বিকশিত হতে পারে না। তার মধ্যে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়ে যায়। আবার পরবর্তীতে যদি কাজ করার সুযোগ সৃষ্টিও হয় সে করতে চায় না বা করার চেষ্টা তার মধ্যে থাকে না।

আমরা মহিয়সী নারী হেলেন কেলারের কথা জানি। শিশুকালে তিনি তার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার বাবা-মায়ের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতায়, আন্তরিক চেষ্টাতে তিনি সন্ধান পেলেন অন্ধদের লেখাপড়া শেখানো হয় এমন এক স্কুলের। আজ হয়তো এমন স্কুলের সংখ্যা একেবারে কম নয়। কিন্তু তার সময়কালে তা এতো সহজ বিষয় ছিলো না। মা-বাবার এই সমর্থন কিংবা পৃষ্ঠপোষকতার ফলেই হেলেন কেলার পড়ালেখার জগতে প্রবেশ করতে পারেন এবং বিকশিত করেন তার মেধা।

আজ সমাজে নারী শিক্ষার হার দিন দিন বাড়ছে, যদিও এগুলো পর্য্প্ত নয়। তাই নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির ও তাঁদের মেধা বিকাশের জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতা। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা পেলে মেধার বিকাশ হতে পারে তার উদাহরণ হিসেবে আমরা বেগম রোকেয়ার কথা বলতে পারি। তার সময়ে মেয়েদের পড়াশোনার কোন সুযোগ ছিলো না অথচ তিনি তার ভাইয়ের সহযোগিতায় ইংরেজি পড়তে শেখেন। পরবর্তীতে স্বামীর অনুপ্রেরণায় ও সহযোগিতায় তার পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি নিজের পরিচয় সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করেন। নারী শিক্ষায় অবদান রাখেন। আর এই সব কিছু সম্ভব হয়েছে কেবল আদর্শ পৃষ্ঠপোষকদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার ফলে।

আমার একটি Technology বিষয়ক Virtual aia নামক একটি Website আছে; সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন।

২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×