somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিমানী সেই মেয়েটি

১৩ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এতটা অভিমান ও আমি ছাড়া আর কারো সাথে করে না। ওর অভিমানের সে কারণটা আমি তখন অত ভাল বুঝতাম না। আর ওযে এত বুঝত এবং আমাকেও যে কিছু একটা বোঝাতে চাইত তাও আমি বুঝতাম না। এর কিছু কারণও অবশ্য আছে। কারণটা হল ছেলেদের চেয়ে কম বয়সেই মেয়েরা পেঁকে বসে। এটা আমার মত ছোট গল্পকারের কথা নয় বরং এটা সমাজ আর মনোবিজ্ঞানীদের মতামত যা দীর্ঘ গবেষনা করে পাওয়া। যাই হোক আসল কথায় আসি- শীতের কোন এক বিকেলে আমরা ‌রেকেট খেলছিলাম, হঠাৎ ও চিৎকার দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ল। আমি পাগলের মত ছুটে গেলাম ওর কাছে, ও কাঁপছে, ভয়ে অনবরত। তারপর চেয়ে দেখি রক্তাক্ত ও। হ্যাঁ, পাঠক এই বার আমি বুঝলাম ও নারীর পূর্ণাঙ্গতা পেল এক রক্তাক্ত শুভ্রতার কাছে। এক শুভ্র নারীর প্রতীক ও। আজই শুরু হল ওর পবিত্র ঝর্ণাধারা। যা ওকে নদীর মত বহমান করে তুলবে। এক নব উন্মাদনায় মেতে উঠবে আর তার চিহ্ন রেখে যাবে এই গ্রহে। আর ও কত কিই যে ভাবছি।
এইবার ওর দিকে তাকিয়ে দেখি ভয়ে ও অজ্ঞান হয়ে আছে। আমি লজ্জায় লাল রংয়ের খালাত ভাই হয়ে ওকে কাধেঁর উপর ফেলে এক দৌড়ে ওদের বেড রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলাম। ওর মা প্রথমে ভয় পেরেও পরে নিজেকে সামলে নিলেন। তাকে অভয় হতে দেখে আমি খানিকটা বুঝে নিলাম যে তিনিও সব কিছু ঠিকঠাক মত বুঝতে পেরেছেন। মেয়ের এই অবস্থার মাঝেও খালাম্মা আমার যন্ত নিতে ভুললেন না। আবার ওরও যত্ন নিচ্ছন যথাযথ।
তারপর আমি ওকে অজ্ঞান অবস্থায় রেখেই বাড়ি ফিরলাম। সুস্থ হয়ে ও সব শুনল। এর পর থেকে আমার দিকে ওর চাহনির ধরনটাই ছিল একটা মায়াবী রংয়ের। যার গভীরতা আমি কোন দিনও মাপিনি হৃদয় দিয়ে কিংবা শিল্পির তুলিতে একে রাখিনি সেই প্রিয় মুহুর্তগুলি যা আজ বার বার স্মরি।
উপসংহার: সেবারই ঈদে ওর সাথে দেখা করতে পারিনি। সেই অভিমানেই ওযে মুখ ফিরিয়ে নিল আমার থেকে এর পর আর কোন দিনও ওর মুখের অভিমানের ঘোমটাটা সরাতে পারিনি। আজ তার এক যুগ পুর্তি। ওর জন্য মনটা বার বার ভারী হয়ে আসে। সত্যিই ওর যে এতটা অভিমান আমার সাথে আমি বুঝতেই পারিনি। অামার উপর অভিমান করে ও আজও যোগ দেয়নি জীবন ক্যাপ্মাসের কোন স্যোশাল মিডিয়ায় কিংবা কোন লাইভ অনুষ্ঠানে। তবুও ভাল থাকুক ও। থাকুক আমার উপর অভিমান করে। কারণ এই পৃথিবীতে আমার উপর একজন অভিমান করে আছে এর চেয়ে বড় পাওযা আর কি হতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ -ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট -টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×