
২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়। তাই সুমনের গাড়িতে আজ রুমা গিয়েছে ওই মার্কেটে। সুমনও আছে তার সাথে। সেও তার নিজের বাজার সদাই করবে। অন্তত এক মাসের বাজার করে তারা দুজন বাড়ি ফিরবে।
মাসের বাজার, ট্রলিতে রাখতে রাখতে সদাই পাতির ভারে ট্রলি উপচে পড়ছে ।অপেক্ষাকৃত কম দামে বাজার করা যায় বলে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসে এই চাইনিজ সুপার মার্কেটে । আর চীনা কমিউনিটি তো কোনোভাবেই বাদ যায় না।
লিস্ট ধরে জিনিসপত্র কার্টে তুলে কম সময়ে কাজ সেরে ফেললেও টাকা পরিশোধের জন্য কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর তখন শুরু হয় ধৈর্য্য পরীক্ষার শুরু। সবাই অপেক্ষা করে কখন তার পালা আসবে। এছাড়া যে আর কোন অপশন নেই।
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে চারিদিকে চোখ মেলে দেখে রুমা।। কত বড় সুপার মার্কেট আর কত মানুষ এখানে কাজ করছে। সবাই চিনা নাগরিক। এদের কমিউনিটি সব সময় প্রাধান্য পায় তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে ।এরকম একতা যদি সকল জাতির মাঝে থাকত, ভাবতে ভাবতে রুমা তাকায় ঐ দূরের ৬ নাম্বার কাউন্টারে। একটি ২০/২২ বছরের মেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জিনিসপত্র ওজন করছে, স্ক্যান করছে তারপর হিসেব করে পাশে রাখছে। তার কাউন্টারে ক্রেতার কার্টে প্রচুর জিনিস। রুমাদের মতনই। তবে ওই কাউন্টারে শুধু তারাই যাবে, যাদের ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ নেই , যারা এখনো কাগজের নোট দিয়ে জিনিসের দাম পরিশোধ করে। তাই ঐ কাউন্টারে ভীড় কম। কারণ বেশির ভাগ ক্রেতা সাধারণেরা আজকাল কাগজের নোট বহন করে না। দু’ একজন বাদে। তাই কয়েকজন মাত্র ওখানে ভিড় জমিয়েছে। রুমার দৃষ্টি অনুসরণ করে সুমন ও তখন তাকালো ৬ নং কাউন্টারের দিকে। চোখের পলক পড়া মাত্রই রুমার মনে হল কাউন্টারের সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা চিনা মেয়েটির জায়গায় একটা সাড়ে পাঁচ ফুট আস্ত মাছ লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেশ অবাক হয়ে মনে মনে হেসে ফেলল রুমা। নিজেকে প্রশ্ন করলো, মাছ কি কখনো সোজাভাবে দাঁড়াতে পারে? আর তখনই খুঁজে পেল তার মনের ভেতরে থাকা এত দিনের প্রশ্নের উত্তর।
চিনারা সবকিছু খেতে পারে। সাপ, ব্যাঙ সবকিছু। কিভাবে পারে ?
এই জাতি নিজেরা প্রজাতিগত ভাবে মাছ নয় তো?
জলের তলে মাছগুলো তো ব্যাঙ, সাপ এমনকি কাদাও খায়। ওদের সাথে সংকর করেই কি এই চিনা জাতি সৃষ্ট?
হঠাৎ করে কাউন্টারে দাঁড়ানো ওই মেয়েটির জায়গায় একটা আস্ত মাছ দেখলো কেন রুমা?
চোখের এক পলকের এদিক সেদিক হতেই আবার সব আগের মতন।
মজার ছলে তাই সুমনকে বলল, ‘ জানো ঐ যে ঐ মেয়েটাকে দেখো। আমি ওর জায়গায় হঠাৎ করে চোখের পলক ফেলতে গিয়ে একটা লম্বা আকৃতির মাছ দেখেছি।’
সুমন উত্তরে বলল, ‘ আমিও দেখেছি।’
সুমনের উত্তরে কোন ভনিতা ছিল না।
তাহলে?
এ কেমন একটা ব্যাপার হলো একটু ক্ষণের মাঝে? একজনের দেখার বিভ্রম ঘটতে পারে। কিন্তু দুজনের একই বিভ্রম হতে পারে কি?
ঠিক যে সময় মেয়েটির DNA গত শেইপ -শিফটিং হয়েছে, সেই সময়ে রুমা ও সুমন দুজনেই ঐ কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে ছিল। রুমা যতই নিজেকে অন্য সময়ে নিজের চোখের ভুল বলে, মানুষরূপী প্রাণীদের শেইপ – শিফটিংকে অস্বীকার করুক না কেন, আজ সুমনের সাথে একসঙ্গে মাছ –কন্যা দেখার অভিজ্ঞতা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।
০৭/০৯/২০২৬
শেইপ শিফটার ১ – দাঁড় কাক
শেইপ শিফটার ২ – বেজী
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



