somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়। তাই সুমনের গাড়িতে আজ রুমা গিয়েছে ওই মার্কেটে। সুমনও আছে তার সাথে। সেও তার নিজের বাজার সদাই করবে। অন্তত এক মাসের বাজার করে তারা দুজন বাড়ি ফিরবে।
মাসের বাজার, ট্রলিতে রাখতে রাখতে সদাই পাতির ভারে ট্রলি উপচে পড়ছে ।অপেক্ষাকৃত কম দামে বাজার করা যায় বলে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসে এই চাইনিজ সুপার মার্কেটে । আর চীনা কমিউনিটি তো কোনোভাবেই বাদ যায় না।
লিস্ট ধরে জিনিসপত্র কার্টে তুলে কম সময়ে কাজ সেরে ফেললেও টাকা পরিশোধের জন্য কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর তখন শুরু হয় ধৈর্য্য পরীক্ষার শুরু। সবাই অপেক্ষা করে কখন তার পালা আসবে। এছাড়া যে আর কোন অপশন নেই।

দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে চারিদিকে চোখ মেলে দেখে রুমা।। কত বড় সুপার মার্কেট আর কত মানুষ এখানে কাজ করছে। সবাই চিনা নাগরিক। এদের কমিউনিটি সব সময় প্রাধান্য পায় তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে ।এরকম একতা যদি সকল জাতির মাঝে থাকত, ভাবতে ভাবতে রুমা তাকায় ঐ দূরের ৬ নাম্বার কাউন্টারে। একটি ২০/২২ বছরের মেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জিনিসপত্র ওজন করছে, স্ক্যান করছে তারপর হিসেব করে পাশে রাখছে। তার কাউন্টারে ক্রেতার কার্টে প্রচুর জিনিস। রুমাদের মতনই। তবে ওই কাউন্টারে শুধু তারাই যাবে, যাদের ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ নেই , যারা এখনো কাগজের নোট দিয়ে জিনিসের দাম পরিশোধ করে। তাই ঐ কাউন্টারে ভীড় কম। কারণ বেশির ভাগ ক্রেতা সাধারণেরা আজকাল কাগজের নোট বহন করে না। দু’ একজন বাদে। তাই কয়েকজন মাত্র ওখানে ভিড় জমিয়েছে। রুমার দৃষ্টি অনুসরণ করে সুমন ও তখন তাকালো ৬ নং কাউন্টারের দিকে। চোখের পলক পড়া মাত্রই রুমার মনে হল কাউন্টারের সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা চিনা মেয়েটির জায়গায় একটা সাড়ে পাঁচ ফুট আস্ত মাছ লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেশ অবাক হয়ে মনে মনে হেসে ফেলল রুমা। নিজেকে প্রশ্ন করলো, মাছ কি কখনো সোজাভাবে দাঁড়াতে পারে? আর তখনই খুঁজে পেল তার মনের ভেতরে থাকা এত দিনের প্রশ্নের উত্তর।
চিনারা সবকিছু খেতে পারে। সাপ, ব্যাঙ সবকিছু। কিভাবে পারে ?
এই জাতি নিজেরা প্রজাতিগত ভাবে মাছ নয় তো?
জলের তলে মাছগুলো তো ব্যাঙ, সাপ এমনকি কাদাও খায়। ওদের সাথে সংকর করেই কি এই চিনা জাতি সৃষ্ট?
হঠাৎ করে কাউন্টারে দাঁড়ানো ওই মেয়েটির জায়গায় একটা আস্ত মাছ দেখলো কেন রুমা?
চোখের এক পলকের এদিক সেদিক হতেই আবার সব আগের মতন।
মজার ছলে তাই সুমনকে বলল, ‘ জানো ঐ যে ঐ মেয়েটাকে দেখো। আমি ওর জায়গায় হঠাৎ করে চোখের পলক ফেলতে গিয়ে একটা লম্বা আকৃতির মাছ দেখেছি।’
সুমন উত্তরে বলল, ‘ আমিও দেখেছি।’
সুমনের উত্তরে কোন ভনিতা ছিল না।
তাহলে?
এ কেমন একটা ব্যাপার হলো একটু ক্ষণের মাঝে? একজনের দেখার বিভ্রম ঘটতে পারে। কিন্তু দুজনের একই বিভ্রম হতে পারে কি?
ঠিক যে সময় মেয়েটির DNA গত শেইপ -শিফটিং হয়েছে, সেই সময়ে রুমা ও সুমন দুজনেই ঐ কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে ছিল। রুমা যতই নিজেকে অন্য সময়ে নিজের চোখের ভুল বলে, মানুষরূপী প্রাণীদের শেইপ – শিফটিংকে অস্বীকার করুক না কেন, আজ সুমনের সাথে একসঙ্গে মাছ –কন্যা দেখার অভিজ্ঞতা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

০৭/০৯/২০২৬

শেইপ শিফটার ১ – দাঁড় কাক
শেইপ শিফটার ২ – বেজী
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ -ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট -টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×