somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

The Bucket List - আ স্টোরি অফ ফ্রেন্ডশিপ এন্ড আ স্টোরি অফ রিডেম্পশন

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মনে করেন আমাদেরকে নির্দিষ্ট একটি সময় সীমা বেধে দেয়া হয়েছে যে আমরা এই কয়দিন বেচেঁ থাকতে পারবো, তাহলে কি হতো ? তাহলে সবার আগে একটি উত্তর আসতো আর তা হলো, আমরা সময়ের মূল্য ভালো ভাবে বুঝতে পারতাম , জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব আগে থেকে লিপিবদ্ধ করে রাখতাম ।
মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত দু'জন ব্যক্তি পাশাপাশি শুয়ে আছেন, কেউ কাউকে আজ পর্যন্ত দেখেননি, হাসপাতালের শয্যাতে-ই প্রথম দেখা তাদের, দু'জন-ই দুই প্রকৃতির মানুষ, একজনের কাছে অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বে সর্বদা হতাশায় জর্জরিত, ডাক্তার বলে দিয়েছেন তারা দু'জন "সর্বোচ্চ" আর এক বছর এই পৃথিবীর সুখ-দুঃখ ভোগ করতে পারবেন। এই ঘোষনা শোনার পরও অঢেল সম্পদের মালিক যিনি তার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগলো না । বেচে থাকার কোনো তাগিদ তার মধ্যে নেই, তিনি মনে করেন এখন শুধু মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই । আর অপর দিকে যিনি শুয়ে আছেন তিনি এই ঘোষনা শোনার পর ব্যাকুল হয়ে পড়েন, জীবনকে পরিপূর্নভাবে উপভোগ করতে না পারার কষ্ট খুব ভালো ভাবে ফুটে উঠেছে তার এই ব্যাকুলতার মধ্যে, সবকিছু ভুলে তালিকা করা শুরু করলেন, এই কয়টি দিন কিভাবে কাটাবেন । এমন একটি মূহূর্তে অনেক-ই হয়তো বাচার আশা-ই ছেড়ে দিতো, "কি করবো এই কয়টি দিন বেচে থেকে" এমন প্রশ্ন তাদের শেষ করে দিতো মৃত্যুর আগে , শুধু নাম মাত্র বেচে থাকা, এই আর কি । কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি, কিভাবে এই কয়টি দিন "বাচার মতো করে বেচে থাকা যায় সেই ছক আকা শুরু করলেন । হতাশায় আক্রান্ত সঙ্গীকে বেচে থাকার মর্ম বোঝালেন । এরপর শুরু হলো তাদের বেচে থাকার গল্প ।
"দ্য বাকেট লিস্ট" এমন দু'জন মানুষের গল্প যাদের কাছে মরণ পরাজয় বরণ করে নিয়েছে যারা জীবনের মানে শিখিয়েছেন, কিভাবে বাচতে হয় তা বলে গেছেন তাদের গল্পে ।
দ্য বাকেট লিস্ট এমন একটি চলচ্চিত্র যা জীবনের মূল্য বোঝায়, মরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রমাণ করে দেয় কিভাবে জীবনকে জয় করতে হয়, মূলত দ্য বাকেট লিস্ট দুই শ্রেনির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে, এক শ্রেনি, যারা জীবন যুদ্ধ শুরু করার আগে পরাজয় বরণ করে মরণের কাছে আত্মসমর্পণ করেন আর অন্য শ্রেনী যারা জীবনের শেষ মূহূর্ত পর্যন্ত জীবনে উপভোগ করে যান, যাদের কাছে আছে বেচে থাকার হাজার কারণ । এমন দু শ্রেণির দু'জন মানুষ যখন এক হয়ে যায় তখন কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা দেখানো হয়ে দ্য বাকেট লিস্টে ।
অনেক সময় আমরা দেখি, আমাদের চারপাশের অনেক মানুষ বেচে থাকার কোনো কারণ খুজে পান না, বিভিন্ন রকম হতাশা-ক্ষোভ তাদের গ্রাস করে ফেলছে, মাঝে মধ্যে আমরা-ই হয়তো এমন হয়ে পড়ি, আবেগের তাড়ণায় অনেক সময় অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি । সেই সব মানুষদের জন্য "দ্য বাকেট লিস্ট" ।
জ্যাক নিকলসন আর মরগান ফ্রিম্যান, এই দুটি বিশেষণ যখন একটি সিনেমায় থাকে তখন আন্দাজ করে নেয়া যায় সিনেমাটি কোন পর্যায়ের । অভিনয়ের দৌড়ে কেউ কারো থেকে কম যান নাহ । নানা পাটেকার আর মরগান ফ্রিম্যান এই দু'জন ব্যক্তিকে দেখলে মনে হয় তাদের বয়স একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে থেমে গেছে । আমার দেখা মরগান ফ্রিম্যানের প্রথম সিনেমা ছিলো "সেভেন", ঐ সিনেমায় তাকে যেমন দেখেছিলাম ২০০৭ সালের বাকেট লিস্টেও ঠিক ঐ মরগান ফ্রিম্যানকে-ই দেখলাম , পরিবর্তন অবশ্য-ই আছে কিন্তু সেই পরিবর্তন কতোটুকু লক্ষনীয় তা হচ্ছে দেখার বিষয় ।
আর জ্যাক নিকলসনের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই, তার অভিনয় দেখলে মনে হয় "তিনি যে চরিত্রটি ধারণ করেছেন ঐ চরিত্রটি শুধুমাত্র তার জন্য-ই" । ক্লাইন্ট ইস্টউডকে প্রথমে কাস্ট করার কথা ছিলো জ্যাক নিকলসনের চরিত্রে পরবর্তীতে যখন পরিচালক রব রেইনার আর ফ্রিম্যানের কাছে মতামত চাওয়া হয় তখন তারা জ্যাক নিকলসনকে কাস্ট করার কথা বলেন, আর মরগান ফ্রিম্যানের কথা ভেবে-ই জাস্টিন জ্যাকহাম স্ক্রিপ্ট লিখছেন ।
যে সিনেমা ফ্রিম্যান আর নিকলসন আছেন সেই সিনেমায় অন্য কারো অভিনয় চোখে পড়ার কথা না, তবুও একজনের কথা একটু বলা প্রয়োজন "শন হায়েস", উনার স্ক্রিন-টাইম খুব একটা ছিলো না, তবুও যতটুকু সময় স্ক্রিনে ছিলেন খুব ভালো পারফর্ম করেছেন ।
মাত্র দু'সপ্তাহে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখছেন জাস্টিন জ্যাকহাম... অসাধারণ স্টোরি, স্ট্রং কনসেপ্ট ।
ডিরেকশন-স্টোরি-পারফর্মেন্স সবকিছু মিলে দারুন একটি সিনেমা । কিছু দৃশ্য হাসতে বাধ্য করবে আবার কিছু দৃশ্য হবে মন খারাপের কারণ ।
দ্য বাকেট লিস্ট আপনাকে হাসাবে আপনাকে কাদাবে এবং পরিশেষে আপনাকে আপনার জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে ।
"দ্য বাকেট লিস্ট" আ স্টোরি অফ ফ্রেন্ডশিপ এন্ড আ স্টোরি অফ রিডেম্পশন
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:১১
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×