somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Once Upon a Time in the West- সার্জিও লিওনের সিনেমা...

২০ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ওয়েস্টার্ন সিনেমা খুব একটা দেখা হয় না, এইটা ভেবে-ই বেশ উপলক্ষ্যের সহিত দেখে ফেললাম সার্জিও লিওনের টাইম ট্রিলজীর সেরা নির্মাণটি ।
There were three men in her life. One to take her... one to love her... and one to kill her. এই ছিলো মুভির ট্যাগলাইন...
কাহিনী আবর্তিত হয়, ব্রিটের জমির উপর রেললাইন বসানোকে কেন্দ্র করে... ব্রিটের জমির একটা বিশেষত্ব হলো, সে যেখানে বাস করে সেখানে মিষ্টিপানি পাওয়া যায়... মরুভূমির মত একটি অঞ্চলে পানির খোজ পাওয়া-ই যেখানে কষ্টকর ব্যাপার সেখানে ব্রিটের জমিতে মিষ্টিপানি পাওয়া যায়... স্বাভাবিক দৃষ্টিকোন থেকে বলা যায়, ব্রিট এই জমি কিছুতে-ই ছাড়বে নাহ... এইদিকে আবার মর্টন এই ব্যাপারটি জানতে পারে সে, ফ্রেঙ্ক নামে এক কিলারকে ভাড়া করে ব্যাপারটি দেখার জন্য... ফ্রেঙ্ক, ব্রিটের কাছে যায় এবং কোনো রকম আপোষ ছাড়া ব্রিট সহ তার পরিবারের সবাইকে মেরে ফলে... এটি আবার দেখে ফেলে রহস্যময় একজন হারমোনিক(Charles Bronson)... ফ্রেঙ্ক মনে করে ব্রিটের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার ফলে এখন আর এই জমির কোনো মালিক নেই... কিন্তু ঘটনা মোড় নেয় যখন ব্রিটের স্ত্রী New Orleans থেকে ব্রিটের কাছে এসে পড়ে... এবং যখন সে জানতে পারে তার স্বামী আর সন্তানকে কেউ মেরে ফেলেছে, তখন সে মরিয়া হয়ে উঠে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য... এরপর কাহিনী আরো জটিল হতে থাকে যখন ফ্রেঙ্কের সাথে ব্রিটের স্ত্রীর সম্পর্কে গড়ে উঠে... ঐদিকে আবার সেই হারমোনিক, যে কি না ফ্রেঙ্ককে খুন করতে দেখে ফেলে সে চলে আসে ব্রিটের স্ত্রীকে সাহায্য করতে... আরো জটিল কাহিনী আছে... ফ্রেঙ্ক আর ঐ হারমোনিকের মধ্যে... জাস্ট "সেটে" থাকুন
এটি Sergio Leone এর অন্যতম মাস্টারপিস... অতি সূক্ষ্মতার সাথে তিনি পরিচালিত করেন মুভিটি... পরিচালনায় কোনো প্রকার খুত রাখেননি... অসাধারন ডিরেকশন, মুভির স্ক্রিনপ্লেও তিনি লিখেছেন... ওয়েস্টার্ন মুভির স্ক্রিনপ্লে যত মাথা নষ্ট হবে মুভিও তত মাথা নষ্ট হবে... ঠিক তেমনি এই মুভিরও স্ক্রিনপ্লে খুব-ই চমৎকার হয়েছে... সিনেমেট্রোগ্রাফির কথা যতো বলা যায় তত-ই কম মনে হবে... স্পেশালী ক্লোজ শট গুলো সুনিপূন ভাবে চিত্রায়িত হয়েছে...
এবার বলবো ওয়েস্টার্ন মুভির মাইট্রোকন্ডিয়া নিয়ে... ওয়েস্টার্ন মুভির মাইট্রোকন্ডিয়া হলো, মুভির কাস্টিং আর কস্টিউম... এই ২টা ব্যাপার একটু এদিক-সেদিক হলে ওয়েস্টার্নের আসল মজা পাওয়া সম্ভব নাহ... এই মুভি্তে সেই সুযোগ দেয়া হইনি... কাস্টিং ডিরেক্টর অত্যন্ত বিচক্ষনতার সহিত পারফেক্ট অভিনেতা/অভিনেত্রী-দের কে-ই কাস্ট করেছেন... কাস্টিংয়ের ব্যাপারে প্রতিটি চরিত্রে সমান জোর দেয়া হয়েছে... হোক সেটা লিড রোল অথবা কোনো সাধারণ চরিত্র... এরজন্য সবার অভিনয় জঘন্য রকম ভালো হয়েছে... স্পেশালী Henry Fonda আর Charles Bronson... তারা ২জন-ই মারাত্মক অভিনয় করেছেন... তাদের হাটার স্টাইল, ডায়ালগ থ্রোয়িং আর ভাব-ভঙ্গি দেখে চোখের পলক ফালাতে মন চাইছিলো নাহ... আর নায়িকার ব্যাপারে কিছু বলার নাই... ওয়েস্টার্ন মুভিতে এই রকম নায়িকা আশা করি নাই...
আর সব অভিনেতাদের অভিনয়কে আরো এক লেভেল বাড়িয়ে দিয়েছেন মুভির কস্টিউম ডিজাইনার... মোটামুটি যারা লিড রোলে ছিলেন তাদের প্রত্যেকের গেট-আপ ছিলো ইউনিক... প্রত্যেকে চরিত্রের সাথে তাদের কস্টিউম ছিলো "খাপে-খাপ"...
মুভিতে তেমন ব্যাকগ্রাউন্ডের কারুকাজ দেয়া যায়নি... কিন্তু কিছু জায়গায় মনে হচ্ছিলো ব্যাকগ্রাউন্ড দিলে ভালো হইতো...
ডায়ালগও খুব ভালো ছিলো, মজার কিছু ডায়ালগ ছিলো
মুভিটা দেখার সময়-ই ভাবছিলাম, বলিউডের "সোলে" মুভি এই মুভি থেকে ইন্সপায়ারড... পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি, ঘটনা সত্য...
অনেকের-ই হয়ত আমার মতো ওয়েস্টার্ন মুভির প্রতি এলার্জি আছে, কিন্তু এই মুভি কেন জানি আমার মনে হয় এন্টি-এলার্জি হিসেবে কাজ করবে... মুভিটা শুরুতে একটু স্লো মনে হবে কিন্তু পরে স্বাভাবিক মনে হবে... মুভিটা শেষ করে একটা কথা-ই বলবেন অস্থির মুভি(যদি মুভিটা ভালো লাগে)
IMDb Rating : 8.7/10
My Rating : 8/10
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:৫৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×